সেলুলয়েডের রঙিন অ্যাশ

১৯৯৪ সাল, সান সিটিতে বসেছিল বিশ্বসুন্দরীদের মিলনমেলা। তামাম বিশ্বের সুন্দরীদের হারিয়ে মুকুট অর্জন করেন সদ্য একুশে পা দেওয়া এক ভারত কন্যা। পুরো বিশ্ববাসী তাঁর রুপে মুগ্ধ হলো, চারদিকে আলোড়ন সৃষ্টি করলেন।

আপামর দর্শকদের বিমোহিত করতে নাম লিখালেন চলচ্চিত্রে। সেলুলয়েডের পর্দায় ‘স্বপ্নকন্যা’ হয়ে প্রতিভার আলো ছড়ালেন। শরৎ বাবুর ‘পার্বতী’ রুপে যেমন তিনি সফল, তেমনি রবি ঠাকুরের ‘বিনোদিনী’ হয়েও। প্রোভোকডের কিরনজিতের পর সম্রাট আকবরের প্রেয়শী ‘যোধা’ হয়ে নিজেকে করেছেন পরিক্ষীত। যার নামেই প্রকাশ পায় রুপ, গুনের মহিমা। তিনি ‘নিম্বুরা নিম্বুরা’ থেকে ‘ক্রেজি কিয়া রে’র নৃত্যপটীয়সী, ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম সেরা সুন্দরী, বলিউডের অত্যন্ত জনপ্রিয় নায়িকা ‘ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন’।

বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর বিখ্যাত পরিচালক মনিরত্নমের ছবি ‘ইরুভার’ নামক তামিল ছবি দিয়ে অভিনয় করেন। এরপর জিন্স সহ বেশকিছু দক্ষিনী ছবিতে অভিনয় করেন। বলিউডে তাঁর প্রথম ছবি ‘অউর পেয়ার হোয়া গ্যায়া’, তবে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি আসে সঞ্জয় লীলা বানশালীর সাড়া জাগানো ছবি ‘হাম দিল দে চুকে সানম’ দিয়ে।

এই ছবিতে তিনি দর্শকদের বিমোহিত করেন, একই বছর মুক্তি পাওয়া ‘তাল’ ছবিটি তাঁর জয়রথকে আরো এগিয়ে দেয়। যশরাজ ফিল্মসের ‘মোহাব্বতে’ স্বল্প উপস্থিতিতেও নজর কেড়ে নিয়েছিলেন, এরপর আবার বড় সাফল্য আসে বানশালীর ‘দেবদাস’ দিয়েই। এই ছবিতে পার্বতী রুপে এককথায় তিনি অনন্য, এর ঠিক পরের বছরেই ঋতুপর্ণ ঘোষের হাত ধরে আসলেন বাংলা ছবির জগতে।

রবি ঠাকুরের ‘চোখের বালি’র বিনোদিনী হয়ে দর্শক থেকে সমালোচক সবার মন জয় করলেন। এই সুবর্ণ সময়ে তাঁর অন্যান্য ছবিগুলোর মধ্যে ‘হামারা দিল আপকে পাস হ্যায়’, ‘রেইনকোট’,‘জোশ’,‘হাম কিসেসে কাম নেহি’, ‘কুছ না কাহো’,‘খাঁকি’ অন্যতম।

২০০৬ সালে জনপ্রিয় সিরিজ ‘ধুম’ এ আসেন একেবারে ভিন্নরুপে। আলোচনা- সমালোচনা যাই হোক তিনি ছিলেন সফল। ‘উমরাওজান’ হয়ে সেভাবে আলো ছড়াতে না পারলেও ‘যোধা আকবর’-এ মুগ্ধতা ছড়িয়েছিলেন, মাঝে ছিল ‘গুরু’ ছবিটি। আরো অভিনয় করেছিলেন ‘সরকার রাজ’, ‘অ্যাকশন রিপ্লে’, ‘গুজারিশ’, ‘রাবন’ ছবিতে।

জনপ্রিয় ছবি ‘ব্রাইড এন্ড প্রেজুডিস’ ছবির মাধ্যমে হলিউডের জগতে পা রাখেন, এরপর ‘প্রোভোকড’, ‘পিংক প্যান্থার’সহ বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন। তবে হলিউডের ছবিতে নিয়মিত হতে গিয়ে বলিউডে খানিকটা অমনোযোগী হয়ে পড়েন, নইলে বলিউড পেতো আরেক নারী সুপারস্টার।

বেশ কয়েক বছর বিরতি দিয়ে ‘জাজবা’ ছবি দিয়ে আবার ফিরেন সেলুলয়েডের পর্দায়। ‘সবরজিৎ’ ছবিতে প্রশংসিত হলেও ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ ছবিতে অভিনয় করে সমালোচিত হন। যদিও, এই বয়সেও আবেদনময়ী চরিত্রে বেশ দারুণ ভাবে নিজেকে মানিয়ে নেন অ্যাশ। ধীরে ধীরে বলিউডে আবার নিয়মিত হবার চেষ্টায় আছেন।

বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারে পদ্মশ্রী পেয়েছেন, দু’বার ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে ভূষিত হওয়া সহ আরো বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। ২০০২ সাল থেকে নিয়মিত কানের লাল গালিচায় হাঁটছেন। জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত হয়ে সমাজ সচেতনতামূলক কাজে নিজেকে যুক্ত করেছেন।

ব্যক্তিজীবনে বিয়ে করে অভিনেতা অভিষেক বচ্চনকে, বিখ্যাত অভিনয়শিল্পী অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনের পুত্রবধূ তিনি। সংসারে রয়েছে একটি কন্যা সন্তান।

১৯৭৩ সালের এক নভেম্বর জন্ম নেওয়া অ্যাশ সাম্প্রতিক সময়ে সাফল্যের সন্ধানে আছেন। সর্বশেষ ‘ফ্যানি খান’ ব্যর্থ হয়েছে বক্স অফিসে। যদিও বচ্চন পরিবারের পুত্রবধুর যে যোগ্যতা, তাতে, এই দু:সময় কাটিয়ে সাফল্যে ফেরা সময়ের ব্যাপার মাত্র। ব্যক্তিজীবন ও চলচ্চিত্র জগতে নিজেকে তিনি আরো বর্ণিলতর করে তুলবেন, এটাই প্রত্যাশা।

https://www.mega888cuci.com