সেলিব্রিটি হওয়ার অব্যর্থ কৌশল, বিফলে মূল্য ফেরত

একটা বিগ এক্সট্রা চিজ পিজ্জা, দুটো ডাবল চিজ বার্গার এবং ১ বাটি রেড চিলি উইথ মেয়োনেজ পাস্তা খেয়ে বদর উদ্দিন ওয়েটারকে ডেকে বললো, ‘এক্সকিউজ মি, একটা ডায়েট কোক প্লিজ!

রেস্টুরেন্টের সবাই চমকে বদরের দিকে তাকালো। তাদের মধ্যে ছিলো দৈনিক ভুখা পত্রিকা্র এক রিপোর্টার! তিনি সাথে সাথে বদরের ছবি তুলে তার ভুখা পত্রিকায় একটা রিপোর্ট করে দিলেন!

শিরোনাম দিলেন- শিখো এযুগের তরুণ সমাজ, কিছু শিখো!

অার ভিতরে লিখলেন, পকেটে হাজার হাজার টাকা থাকতেও বদর উদ্দিন নামের এই তরুণ শুধুমাত্র একটা ডায়েট কোকের অর্ডার করে অনেক বড় একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। এমনটা এই যুগে আর দেখা যায় না। পুরো তরুণ সমাজ যখন চিজ ও মেয়োনেজের ভয়াল থাবায় ধ্বংসের পথে এগিয়ে চলেছে। এই তরুণ সেখানে ডায়েট কোক অর্ডার করে ভালো একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। তিনি (বদর) প্রমাণ করলেন যে তিনি কত বড় স্বাস্থ্য সচেতন একজন মানুষ। আমাদের সবার তার মত হওয়া উচিত!

এদিকে এমন গরম খবর তার উপর দেশের অনেক মানুষের খেয়ে দেয়ে কোন কাজ নেই। ব্যস, খবরটা ভাইরাল হয়ে গেল সোস্যাল মিডিয়া সহ সব জায়গায়। ফেসবুকে যারা মোটিভেশনাল স্পিচ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তারাও তা বাদ দিয়ে বদর উদ্দিনের খবরটা শেয়ার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।

ঘটনা এখানেই শেষ না, মাঝরাতে টাক মাথার বুদ্ধিজীবীরা টক শো গুলোতে বদর বন্দনা করে করে মুখে ফেনা তুলে ফেলছেন। তারপর চ্যানেলের কাছ থেকে হলুদ খাম নিয়ে বাসায় গিয়ে ঘুম দিচ্ছেন।

ভোর বেলায় পার্কে হা হা করে কৃত্রিম হাসি দেয়া বুড়োগুলো আফসোস করে বলেন,‘ইস আমাদের সময় যদি এই ডায়েট কোক থাকতো তাহলে আজ এই ভোর বেলায় পার্কে এসে কাকের সাথে কা কা ইয়ে মানে হা হা করা লাগতো না! তাই আমাদের দাবি দেশে পর্যাপ্ত ডায়েট কোকের ইন্তেজাম করা হোক! যাতে আজকের তরুণ সমাজ ভবিষ্যতে হা হা করা থেকে বেঁচে যায়। বদর উদ্দিনকে আমাদের পক্ষ থেকে লাল সালাম।

ওদিকে ডায়েট কোক সংক্রান্ত এই ঘটনা শুনে বাংলাদেশ কোকাকোলার কান্ট্রি ডিরেক্টর এশিয়া জোনের ডিরেক্টরকে ফোন দিয়ে বললেন,‘স্যার এটাই সুযোগ বাংলাদেশে জোরে সোরে ডায়েট কোকের সেল বুস্ট আপ করার!

‘বলো কি? মানুষ কী এখন ডায়েট কোক খাবে?’

‘খাবে মানে! যেই হুযোগ শুরু হইছে! মানুষ এখন পান্তা ভাতের সাথেও ডায়েট কোক খাবে!’

ঘটনা এখানে থেমে গেলে বেশ হত। কিন্তু না, ঘটনা আরো এগিয়ে যায়। ফেসবুকে বদর উদ্দিন ফ্যান ক্লাব খোলা হয়। দেশের আবালবৃদ্ধবনিতা সেখানে হুমড়ি খেয়ে পড়ে! সবার মুখে এক কথা, বদর ভাই আসলেই দেয়ায় দিছে! তবে কিছু বিপক্ষ দলও দাঁড়িয়ে যায়। তারা প্রমাণ করতে চায় সবই আসলে বদরের ধান্দাবাজি! ফেমাস ও নিউজ হওয়ার জন্য সে ইচ্ছা করে এসব করেছে!

তবে বদর কিন্তু চুপ করে নেই। সে এখন দেশের একজন অন্যতম সেলিব্রেটি। প্রায় পত্র-পত্রিকায় তার সাঙ্কাৎকার ছা্পা হচ্ছে! টিভি চ্যানেলে এসে তরুণদের উদ্দেশ্যে জ্বালাময়ী ভাব বিনিময় করছেন!

অনেক দূরে বসে বদর উদ্দিনের এই জনপ্রিয়তা দেখে ভিতরে ভিতরে হিংসায় জ্বলতে লাগলো তারই ছোটবেলার বন্ধু কামরান! হঠাৎ তার মাথায় একটা আইডিয়া আসে। সে ফোন করে তার হবু বউকে।

‘হ্যালা জান্টু প্রান্টু!’

‘আলগা আলাপ না পাইরা কও কী কইবা?’

‘ইয়ে মানে বলছিলাম কি, আমাদের বিয়েটা সাদামাটা ভাবে করলে হয় না?’

‘মানে! তুমি কি আমাকে ২০ ভরি গয়না দিতে চাচ্ছো না?’

‘আরে না না, গয়না তো ২০ ভরিই দিব!’

‘তাহলে কী বৌ ভাতে আমার বাপের বাড়ির এক হাজার লোকরে কাচ্চি খাওয়াচ্ছো না?’

‘আরে না না, তোমার আমার বাড়ির গেস্ট সহ প্রায় দুই হাজার লোকের কাচ্চির আয়োজন থাকবে! শুধু তাই নয়, সাথে খাসির মাংসের রেজালা, দেশি মুরগীর রোস্ট, গরুর কালা ভুনা, ‍ফিন্নি, কোক, বোরহানি সবই থাকবে!’

‘তাহলে কী ১২ লাখ টাকায় দেনমোহর করছো না?’

‘আরে না না, দেনমোহর ১২ লাখ টাকাই থাকবে!’

‘তাহলে সাদামাটা কী করবা?’

‘আমি ভাবতেছি আমার দাদুর কালো কালো তিলা পড়া পাঞ্জাবিটা পইড়া বিয়া করতে আসুম! নিচে থাকবে দাদুরই ফুটা হয়ে যাওয়া লুঙ্গিটা!’

‘ইমা ছিঃ কি ঘেন্না!’

‘আরে ঘেন্নার কি আছে? একবার ভাবতে পারছো এই ভাবে বিয়ে করলে কেমন হবে? আমাদের বিয়ের খবর সোস্যাল সাইটগুলোতে ভাইরাল হয়ে যাবে! শুধু দেশে নয়। দেশের বাইরেও আমাদের নিয়ে আলোচনা হবে! তুমি আমি এক বিয়ে করেই সেলিব্রেটি হয়ে যাব!’

‘সো সুইট! আমি রাজি! আমরা এমন সাদামাটা ভাবেই বিয়ে করবো!’

‘আমার লক্ষ্মী জান্টু প্রান্টু!’

https://www.mega888cuci.com