সেকালের বিটিভি ও চুরি হয়ে যাওয়া শৈশব

নব্বইয়ের দশক। তখন আমরা ছোট ছিলাম। শুক্রবার মানেই অনেক আনন্দের একটা দিন ছিল। এজন্য নয় যে সেটা ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন। কারণ, শুক্রবার মানেই ছিল টেলিভিশন দেখার স্বাধীনতা।

আমরা তখনও ইন্টারনেট-অ্যান্ড্রয়েট ফোনের  অ্যাপসের ভিরে হারিয়ে যাইনি। আনন্দ মানেই ছিলো খেলাধুলা, কমিক্স আর বিশেষ করে বিটিভি – বাংলাদেশ টেলিভিশন চ্যানেল। এত চ্যানেল ছিল না। শুধু বিটিভিতেই যে কয়টা প্রোগ্রাম হত সব ছিল গোগ্রাসে গেলার মত।

এমনকি সেই আমলে বিজ্ঞাপনগুলোও মুগ্ধ হয়ে দেখতাম। মুখস্ত রাখতে হবে যে! শুক্রবার সকালে ‘জাঙ্গাল বুক’ হতো। তাতে ছিলো মুগলি নামের জঙ্গলে বড় হওয়া এক ছেলের গল্প, দুপুরে বাংলা সিনেমা।

অপেক্ষায় থাকতাম কখন তিনটা কুড়ি বাজবে। সে সময়ের খুব ভালো লাগার সিনেমা ছিলো, ‘দিপু নাম্বার টু’। সালমান শাহ’র সিনেমা তখনও দেখানো শুরু করেনি। তার দেখা পাওয়া যেতো ‘ছায়াছন্দ’ নামের অনুষ্ঠানে।

‘ইত্যাদি’ হতো সম্ভবত তিনমাসে একদিন। কিন্তু ওই একদিনের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান আজো এখনকার যে কোন অনুষ্ঠানকে হার মানাবে, আমি হলফ করে বলতে পারি। কতটা জনপ্রিয় হলে, স্রেফ একটা ঘণ্টার নির্মল বিনোদনের জন্য সবাই তিন মাস অপেক্ষা করতো। এখন আর তেমন কিছু ভাবাই যায় না!

‘আলিফ লায়লা’ বলেও একটা সিরিয়াল ছিলো, বাংলা সংবাদের পর। মাত্র আধ ঘন্টার কিন্তু টান টান উত্তেজনা কাজ করতো সবার মধ্যে। আরব্য রজণীর জমজমাট গল্পে আমরা জমে যেতাম। এরপর এসেছিলো সিনবাদ’ রবিন হুডও বাদ যায়নি। বাংলা ডাবিং করা এই সিরিয়ালগুলো সত্যি খুব সুন্দর ছিলো।

আরেকটা নাটক ছিলো সেটা সম্ভবত শুক্রবার ছিলো না কিন্তু আমি এর রিপিট দেখেছিলাম যেটা শুক্রবারেই হতো- ‘আজ রবিবার’। অসম্ভব মজার একটা নাটক। তখন হুমায়ন আহমেদের যে কোন নাটক মানেই দম ফাটানো হাসির।

বড় ছোট সবাই মিলে তখন এক সঙ্গে টিভি দেখা হতো। এমনকি কখনও আসর বসতো আশেপাশের বাড়ির সবাই মিলেও। সবাইকে নিয়েই শুক্রবারটা হয়ে উঠতো আনন্দময়। আর ভাল লাগতো নতুন কুঁড়ি।

এখন সবার রুমে রুমে টিভি আছে কিন্তু না সেরকম প্রোগ্রাম হয়, না আছে একসঙ্গে দেখার আনন্দ। সময় পাল্টে গেছে, রয়ে গেছে কেবল স্মৃতি।

https://www.mega888cuci.com