‘সাকিব ভাই অনলি ওয়ান’

সাকিব আল হাসান যে ‘অনলি ওয়ান’ সেটা দিন শেষে মনে করিয়ে দিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। বাঁ-হাতি এই স্পিনানের পাঁচ উইকেট পাওয়ার দিনে মিরাজও নিয়েছেন তিন উইকেট। সংবাদ সম্মেলনে ম্যাচে বাংলাদেশের সম্ভাবনার সাথে সাথে আসলো সাকিবের প্রসঙ্গও।

লড়াই করার পুঁজি

আসলে এই উইকেটে আমরা যত রানই করি, আমরা লড়াই করতে পারবো। প্রথম ইনিংসে দেখেছেন যে ২৬০ রান করেছি, ওই রানের মধ্যে আটকে দিয়েছি ওদের। আমাদের অনেক ব্যাটসম্যান এখনও আছে। কালকে ব্যাটিং করতে পারবে। যে রানই হোক, ওইটা নিয়ে আমরা লড়ব। সুনির্দিষ্ট বলতে পারব না যে ৩০০-৪০০ লাগবে।

কত রান এই উইকেটে যথেষ্ট?

আসলে সুনির্দিষ্ট কিছু নেই। আমাদের লক্ষ্য অনেক বড় স্কোর গড়া। সুযোগ থাকলে যত বেশি সম্ভব আমরা করব। তবে দেখেছেন যে এই উইকেটে আমরা যদি ৩০০ প্লাস রান করতে পারি, তাহলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হবে।

সাকিবের রেকর্ড

সাকিব ভাই তো তিনটি সংস্করণেই অলরাউন্ডার হিসেবে দাপট দেখাচ্ছেন। ভালো লাগে যে নিজেদের দেশের এমন একজন আছে, এমন একজন অলরাউন্ডারের সঙ্গে খেলতে পারছি। খুব ভালো লাগে। তার কথা বলে শেষ করা যাবে না। আমরা সবাই জানি সাকিব ভাই অনলি ওয়ান। আমার কাছে খুব ভালো লাগছে যে উনি এত রেকর্ড গড়ছেন আর আমি তার সঙ্গে খেলছি। অনেক অভিজ্ঞতা উনি ভাগাভাগি করেন আমাদের সঙ্গে।

ম্যাচে বাংলাদেশের অবস্থান

অবশ্যই, আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত আমাদের পক্ষেই আছে ম্যাচ। আশা করি কালকে ভালো করব। কালকের দিনটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি ব্যাটসম্যানরা সবাই দায়িত্ব নিয়ে ভালো খেলতে পারি এবং একটা বড় লক্ষ্য দিতে পারি, তাহলে ওদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে যাবে।

ইংল্যান্ডে বিপক্ষে ম্যাচ ও এই ম্যাচের উইকেটের পার্থক্য

আমার কাছে মনে হয়, ওরকম পার্থক্য আহামরি কিছু না। একইরকম আছে। সবচেয়ে বড় যে ব্যাপারটা, আমাদের বোলাররা খুব ভালো বোলিং করছে। উইকেট যে রকমই হোক না কেন, বোলাররা ভাল জায়গায় বোলিং না করলে উইকেট পাওয়া অনেক কঠিন। সাকিব ভাই কিন্তু অসাধারণ বোলিং করেছে। তার পর ছোট ছোট আমি, তাইজুল অবদান রেখেছে। মুস্তাফিজ…উইকেট পায়নি, কিন্তু খুব ভালো বোলিং করেছে। রান নিয়ন্ত্রণ করেছে। উইকেট যেরকমই হোক, বোলাররা দায়িত্ব নিয়ে ভালো জায়গায় বল করে তাহলে ব্যাটসম্যানদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে যায়।

আমার কাছে মনে হয়, অত কঠিন না উইকেট। তার পরও মাঝেমধ্যে তো কঠিন হয়। বল একটু টার্ন করলে অনেক কিছু হয়। উইকেট এরকম যে ভালো জায়গায় টার্ন করলে অনেক কিছু হতে পারে। টার্ন করতে পারে, সোজা যেতে পারে। আমার কাছে মনে হয় একইরকম উইকেট। বোলাররা ভালো বল করেছে।

স্মিথ-ওয়ার্নারের উইকেট

অবশ্যই ভালো লেগেছে। বিশ্বের সেরা কয়েকজন ব্যাটসম্যানের মধ্যে তাদেরকে ধরা যাবে। তাদের উইকেট পেয়েছি। আর সবচেয়ে বড় কথা যেটা, ভালো জায়গায় বল করতে হবে। মাত্র একটা ইনিংস শেষ হয়েছে। ভালো জয়গায় বল করতে হবে। আমার লক্ষ্য থাকবে, ভালো জায়ায় বোলিং করার জন্য। তাহলে আরও উইকেট পাওয়া যাবে।

স্টিভেন স্মিথের বিপক্ষে পরিকল্পনা

স্মিথের জন্য একটি পরিকল্পনা ছিল। মুশফিক ভাই আমাকে বলেছিলেন, আগের দিন যখন একটা বল করেছিলাম,তখন মুশফিক ভা্ই বলেছিলেন, স্মিথকে যদি রাউন্ড দ্য উইকেটে ভালো জায়গায় বল কতে পারিস, তাহলে সে আটকে যায়। সেভাবে খেলতে পারে না, পায়ের ব্যবহার করতে পারে না। সামনে যেয়ে খেলে। সেক্ষেত্রে অনেক সময় বল টার্ন করে স্টাম্পয হওয়ার সুযোগ থাকবে, ক্যাচ আউট হওয়ার সুযোগ আসবে। আমি মুশফিক ভাইয়ের কথামতোই করার চেষ্টা করেছি। রাউন্ড দা উইকেটে জায়গামত করেছি, সেটি কাজে লেগেছে।

ব্যক্তিগত উন্নতি

আসলে আমি যেটা মনে করি যে প্রতিদিনই অনেক উন্নতি করতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনেক কঠিন। এখানে সবাই বল পড়ে ফেলে। আমার কাছে মনে হয়, আমার ছোট ছোট অভিজ্ঞতা হয়েছে। কোন ম্যাচে কিভাবে এগোতে হবে,কোন পরিস্থিতিতে কিভাবে বল করতে হবে, এগুলো বুঝছি। সামনাসামনি অনেক কিছু দেখছি, সিনিয়ররা পরামর্শ দিচ্ছেন। ছোট ছোট অভিজ্ঞতাগুলোয় আমি সমৃ্দ্ধ হয়েছি।

https://www.mega888cuci.com