সাকিব এগোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ

২০০৬ সালে যখন সাকিব আল হাসানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তখন আমি মাত্র ক্লাস ওয়ানে পড়তাম। স্বাভাবিক ভাবেই তখন চিনতাম না তাকে। কিন্তু বাসায় বড়রা খেলা দেখার সময় তাকে নিয়ে আলোচনা করত এটা মনে আছে।

আমি খুব সম্ভবত ক্লাস থ্রি-তে সর্বপ্রথম সাকিব ভাইকে নিয়ে নিউজপেপারে একটা আর্টিকেল পড়েছিলাম, যদিও তখন ক্রিকেট বুঝতাম না কিন্তু বুঝতাম সাকিব আল হাসান এক নক্ষত্রের নাম। যে খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করেছে, র‍্যাংকিংয়ে নাম্বার ওয়ান হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে প্রথম এই অর্জন।

ক্রিকেটটা বুঝতে শিখেছি ২০১০ সালে। সেবার প্রথম নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। তারপরে ২০১১ সালে সাকিব ভাইয়ের অধিনায়কত্বে বিশ্বকাপ খেললো বাংলাদেশ। যদিও তেমন কোনো স্মৃতিই মনে নেই তবে মনে আছে স্টেডিয়ামে জায়ান্ট স্ক্রিনে সাকিবকে দেখালে কমেন্ট্রি থেকে ভেসে আসতো-‘নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার, ফার্স্ট ফ্রম বাংলাদেশ’। হ্যা, সেই সাকিব আল হাসান আমাদের গর্ব।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬১ রানে অলআউট করার দিন সাকিবের তুলে নেয়া ৪টি উইকেট, ওইদিনের একটা কথা মনে পড়ছে যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান যখন ৯ উইকেটে ৫৬ ছিল তখন সাকিবের একটা বল ওয়াইড হয়ে গেছিলো আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান হয়ে গেছিলো ৬১। সাকিব ম্যাচ শেষে বলছিল যদি আমি ওয়াইড টা না দিতাম তাহলে ওদের ৫৮ এর আগেই অলআউট করতে পারতাম।

মনে পড়ে ২০১২ এশিয়া কাপে ভারতে বিপক্ষে ব্যাটিং ইনিংসটি, খুব সম্ভবত ৩১ বলে ৪৯ রান করে বিতর্কিত ভাবে আউট হয়েছিলেন তিনি, হয়েছিলেন টুর্নামেন্ট সেরা ক্রিকেটার। ২০১১ পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি ইনিংসটি, ৭ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন ওই ম্যাচে।

ওই ম্যাচে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেটের কীর্তি গড়েছিলেন সাকিব। সিরিজ শেষে প্রথমবারের উঠেছিলেন টেস্ট অলরাউন্ডারের এক নম্বরে। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে একই সময়ে এক নম্বরে থাকা ক্রিকেটারের নামটাও কিন্তু সাকিব।

এছাড়া ২০১৪ সাল বিশ্বের মাত্র তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়েন সাকিব। ম্যাচটি ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এবছর বাংলাদেশের ১০০তম টেস্ট জয়ে সেঞ্চুরি করে দিয়েছিলেন সামনে থেকে নেতৃত্ব। হয়েছিলেন ম্যান অব দ্য সিরিজ।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ রান ইনিংসটার কথা না বললেই নয়। অসাধারণ এই ইনিংসটি তার ক্যারিয়ারেরই সেরা। আবার বোলিংয়েও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৬ রানে ৭ উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং।

দলের বিপর্যয়ে অনেক সময় হাল ধরেছেন মুশফিকের সাথে জুটি করে। এখনো স্মৃতিতে তাজা রয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে মুশফিকের সাথে এবং ওয়ানডেতে রিয়াদের সাথে অসাধারণ দু’টি জুটি।

সবথেকে বড় কথা সাকিব খুব স্মার্ট একজন ক্রিকেটার। মাঠে ভেতরে খুব দ্রুত ও সাহসী ডিসিশন নিতে পারেন তিনি। সাকিব একাদশে থাকা মানে একটা বাড়তি পাওয়া কারন তিনি ব্যাটিং-বোলিং দুইটাতেই সমানভাবে পারদর্শী। ব্যাটিংয়ে প্রতিটা বলেই স্ট্রাইক রোটেট করার চেষ্টা করেন সাকিব- এই বিষয়টা খুব ভাল লাগে। আর সাকিবের আর্ম বলের কথা না বললেই নয়। সাকিবের যেই জিনিসটা আমি সবথেকে বেশি এনজয় করি তা হলো আর্ম আর স্কুপ শট। এই দুইটা পারদর্শীতার জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি।

সাকিব যখনই যেখানে খেলুন না কেন নিজেকে উজাড় করে দিয়ে খেলেন। একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএল, সিপিএল, পিএসএল, কাউন্টি, বিগব্যাশের মতো বড় সব আসরেই খেলেছেন তিনি। ভিন্ন ভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সাকিবের খেলার অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে সাহায্য করে বাংলাদেশ দলকে।

আজ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১১ বছর কাটিয়ে দিলেন সাকিব। যতদিন খেলে যাবেন সাকিব আশাকরি আমাদের প্রাণের বাংলাদেশ দলকে এভাবেই সার্ভিস দিয়ে যাবেন। সাকিব এগোলেই তো এগিয়ে যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট।

https://www.mega888cuci.com