রোহিঙ্গা সংকট: সত্যিকারের ত্রাতা যিনি

সাদানন্দ ধুমে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক ভারতীয় লেখক ও সাংবাদিক। সম্প্রতি তিনি The world has idolized Aung San Suu Kyi, but the hero of the Rohingya crisis is Sheikh Hasina শিরোনামে একটি কলাম লিখেছেন। সেখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মায়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির তুলনামূলক একটা চিত্র ফুটে উঠেছে।

__________

চলতি সপ্তাহে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে আমার একটা লেখা প্রকাশিত হয়েছে। সেখান আমি দুই প্রতিবেশি দেশের দুই নেত্রীর তুলনামূলক একটা বিশ্লেষণ করেছি। তারা হলেন বাংলাদেশের শেখ হাসিনা ও মায়ানমারের অং সান সু চি।

যদিও শেখ হাসিনার চেয়ে পাশ্চাত্যে সু চিই বেশি পরিচিত, তবুও এই দুই নেত্রীর জীবনে বেশ কিছু সাদৃশ্য আছে। দু’জনেরই জন্ম দাঙ্গাহাঙ্গামাপূর্ণ ১৯৪০-এর দশকে, যে সময় ঔপনিবেশিক অনেকগুলো এশিয়ান জাতি স্বাধীনতার প্রথম স্বাদ পায়। তাদের বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জেনারেল অং সান ছিলেন দু’টি জাতির প্রতিষ্ঠাতা। দু’জনকেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা নির্মম ভাবে হত্যা করে।

অতি সামান্য হলেও আরো কিছু বাড়তি তথ্য যোগ করি: দুই নেত্রীই জীবনের একটা সময় দিল্লীতে কাটান। ষাটে দশকে সু চি দিল্লী ছিলেন শিক্ষার্থী হিসেবে। অন্যদিকে বাবা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হারানোর পর ১৯৭৫ সাল থেকে লম্বা একটা সময় দিল্লীতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন শেখ হাসিনা।

সল্পভাষী সু চির পাশ্চাত্যে অনেক পরিচিতি। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার সুবাদে ১৯৯১ সালে তিনি শান্তি নোবেল পুরস্কার পান। সে থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার দৃঢ় সংকল্প একটা অবয়ব পশ্চিমে সৃষ্টি হয়েছে। তার ইংরেজিতে কথা বলতে পারার ক্ষমতা তাকে একজন ‘বহুজাতিক’ চরিত্রে পরিণত করেছে।

অন্যদিকে শেখ হাসিনা নিজেও এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা মানুষ। তবে, কখনোই তিনি পাশ্চাত্য-মানসিকতার অভিজাত সম্প্রদায়ের মত ভাবেন না। নিউ ইয়র্কে গত সপ্তাহে তার সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর, তাঁকে তাঁর বাবার একটা অসমাপ্ত স্মৃতিকথায় আমি সই করতে অনুরোধ করি। তিনি খুব সূচারুভাবে নিজের নামটা লিখলেন – বাংলা অক্ষরে।

হয়তো পশ্চিমা ভাবধারায় ‘দ্য লেডি অব ঢাকা’র চেয়ে ‘দ্য লেডি অব ইয়াঙ্গুন’ই বেশি প্রাধাণ্য পেয়ে এসেছেন, তবে, চলমান রোহিঙ্গা সংকটে নি:সন্দেহে শেখ হাসিনাই ত্রাতা। নিজের ছোট্ট একটা দরিদ্র আর জনবহুল দেশে বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে সাদরে গ্রহণ করে নিয়ে তিনি অনেক বড় ও ধনী দেশের প্রধানদের চেয়ে অনেক বেশি সমবেদনা ও সহানুভূতির পরিচয় দিয়েছেন।

এই যেমন শেখ হাসিনা আমাকে বললেন, ‘বাংলাদেশ কোনো ধনী দেশ নয়, কিন্তু আমাদের মন অনেক বড়।’

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।