‘শুভ’ লক্ষণ

নায়ক বলতে যা বোঝায়, তিনি ঠিক তাই। বলছি, আরিফিন শুভ’র কথা। বর্তমানে ঢাকার চলচ্চিত্রে সবচেয়ে সম্ভাবনায় নায়কদের একজন তিনি। ইতোমধ্যেই তাঁকে নিয়ে দর্শক ও পরিচালক মহলে এক আস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নায়ক সংকটের এই মুহুর্তে আরেফিন শুভ নামটি বেশ নির্দ্ধিয়ায় বলা হচ্ছে, এটা বেশ শুভ লক্ষণ।

২০০৫ সালে র‍্যাম্প মডেল হিসেবে মিডিয়া জগতে পা রাখে আরেফিন শুভ। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে প্রভার সাথে মেরিল ট্যালকম পাউডার ও বিন্দুর সাথে ক্লোজআপের বিজ্ঞাপন করে ছোটপর্দায় মডেল হিসেবে বেশ পরিচিতি লাভ করে। এমনকি বিজ্ঞাপনে তাঁর মুখে বলা সংলাপ ‘সামিয়া ও মাই গড! এবং ‘মন যখন দিলাইনা, তখন অন্তত একটা সানগ্লাস দেও!’ বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল।

সে বছরেই প্রথম নাটকে অভিনয় করে শুভ।ফারুকী নির্দেশিত ‘হ্যা না’ হচ্ছে শুভ অভিনীত প্রথম নাটক। এছাড়াও ওই বছরেই অভিনয় করে ফারুকীর অন্যতম জনপ্রিয় নাটক ‘ওয়েটিং রুম’এ। তবে শুভ টিভি অভিনেতা হিসেবে আলোচিত ও প্রশংসিত হয় ২০০৯ সালে অমিতাভ রেজার ‘ইজ ইক্যুয়াল টু’ নাটক দিয়ে।

এই নাটকে শুভর অভিনয় দেখে প্রবীন শিল্পীরা প্রশংসা করেন। তখন নাটকগুলিতে শুভর যে রাগী বদমেজাজি রুপ দেখা যেত সেটা মূলত পরিবর্তন আনেন শিহাব শাহিন। ২০১১ সালে তারই পরিচালিত ‘ভালোবাসি তাই’ ও ‘ভালোবাসি তাই ভালোবেসে যাই’ টেলিফিল্মে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে পর্দায় আসেন শুভ।

দ্বিতীয় নাটকটি হচ্ছে শুভর ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক। এরপরেই ২০১২ সালে চুক্তিবদ্ধ হয় মুস্তফা কামাল রাজের ‘ছায়া-ছবি’ চলচ্চিত্রে। যদিও এর আগেই ২০১০ সালে খিজির হায়াত খানের ‘জাগো’ চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে অভিষেক ঘটে। ছায়া-ছবিতে শুভর গেটআপ বেশ প্রশংসিত হয়,হাতে আসতে থাকে চলচ্চিত্রের অফার। তবে যেই চলচ্চিত্র দিয়েই শুভর নবযাত্রা, সেটিই আজো মুক্তির আলো দেখে নি। মুক্তি পেলে অবশ্যই শুভর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে এটি বিবেচিত হত।

২০১৩ সালে সাফিউদ্দিন সাফি পরিচালিত শাকিব খান, জয়া আহসানের সাথে ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনীতে খল চরিত্রে অভিনয় করে শুভ। এই ছবিতে শুভর লিপে ‘আমি নি:স্ব হয়ে যাবো’ গানটি দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। ছবিটি সুপারহিট হওয়ার পেছনে এই গানটির বেশ অবদান ছিল। এই ছবিতে শুভর চরিত্রটা অতটা বিকশিত না হলেও দর্শকমহলে বেশ নজর কেড়েছিল। এই ছবির জন্য দর্শক জরিপে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কারে মনোনয়ন ও পেয়েছিল। তবে এই বছর মুক্তিপ্রাপ্ত আরেকটি চলচ্চিত্র দেবাশীষ বিশ্বাসের ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’ ব্যবসায়িকভাবে ফ্লপ হয়, এবং দূর্বল নকল হিসেবে বেশ সমালোচিত হয়।

২০১৪ সালে শুভ অভিনীত মুক্তি পায় তিনটি সিনেমা। প্রথম সিনেমা মাহির বিপরীতে ব্লকবাষ্টার হিট সিনেমা ‘অগ্নি’। নায়িকাপ্রধান চলচ্চিত্রেও শুভ চেষ্টা করেছিল নিজের চরিত্রকে ঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে। দ্বিতীয় চলচ্চিত্র মুস্তফা কামাল রাজের ‘তাঁরকাটা’। ছবিটি দর্শকমহলে আশানূরুপ সাড়া ফেলতে পারেনি। তবে শুভর অভিনয় অনেকেই প্রশংসা করেন। যার প্রতিফলন স্বরুপ পান সমালোচক বিভাগে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার। এছাড়া দর্শক জরিপেও এই ছবির জন্য মনোনয়ন পান। বছরের শেষে মুক্তি পায় আশিকুর রহমানের বাণিজ্যিক সফল সিনেমা ‘কিস্তিমাত’।

২০১৫ সালের এপ্রিলে মুক্তি পায় এখন পর্যন্ত শুভর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সিনেমা শিহাব শাহিনের ‘ছুঁয়ে দিলে মন’। গল্প আহামারি না হলেও পরিচালনার গুনে সিনেমাটি ব্যবসাসফল হয়, গানগুলোও বেশ দর্শকপ্রিয়তা পায়। পাশাপাশি শুভও বেশ জনপ্রিয়তা পায়। শুভকে নিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গন আবার সরব হয়ে উঠে। এই ছবির কল্যানে শুভ অর্জন করে দর্শকজরিপে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার। তবে এই বছর মুক্তিপ্রাপ্ত আরেকটি চলচ্চিত্র ‘ওয়ার্নিং’ ফ্লপের শিকার হয়, পাশাপাশি নকলের অভিযোগ আনা হয়।

২০১৬ সালে শুভর মুক্তি পায় তিনটি চলচ্চিত্র। আশিকুর রহমানের মুসাফির, অনন্য মামুনের অস্তিত্ব, জাকির হোসেন রাজুর নিয়তি। মুসাফির দর্শকমহলে বেশ আলোচিত হয়, ব্যবসায়িকভাবেও সফল বলা যায়। অস্তিত্ব ফ্লপ হলেও প্রশংসিত হয়, মুক্তি পাওয়া আরেকটি ছবি হলো নিয়তি। এছাড়া বছরের সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র ‘আয়নাবাজি’ তে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করে বেশ বাহবা পায়।

২০১৭ সাল,ক্যারিয়ারে সবচেয়ে সুবর্ণ সময় কাটান এই বছর। দর্শকমহলে তুমুল সাড়া জাগানো সুপারহিট সিনেমা ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর প্রধান নায়ক তিনি। এই ছবির সাফল্যের রেশে নিজের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছেন দ্বিগুণ। এছাড়া মুক্তি পাওয়া ‘প্রেমী ও প্রেমী’ এবং ‘ধ্যাততেরিকি’ মোটামুটি সাড়া ফেলেছে।

২০১৮ সালটা শুভর খুবই বাজে গেছে। ভালো থেকো এবং একটি সিনেমার গল্প দর্শকদের ভীষণভাবে হতাশ করেছে। তবে কিছু মন্দ থেকেই হয়তো ভালোর সৃষ্টি হয়। একটি সিনেমার গল্পতে অভিনয়ের কারনে ঋতুপর্ণার সাথে পরিচয়ের সুবাদে অভিনয় করেছেন ওপার বাংলার সিনেমা ‘আহারে’তে। ইতিমধ্যেই ছবিটির ট্রেইলার বেরিয়েছে, সবাই প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে, সিনেমাটির দেখার জন্য অধীর আগ্রহে আছে দর্শকরা। হতাশা কাটিয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন মিশন এক্সট্রিম, সাপলুডু, জ্যাম ছবিতে, এছাড়া তো রয়েছেই প্রিয় গুরুর ‘মনফড়িং’।

তবে দু:সংবাদ হল যৌথ প্রযোজনায় অরিন্দম শীলের ‘বালিঘর’ ছবিটি আর হচ্ছে না,এই সিনেমাটি হতে পারতো শুভর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ছবি। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমার তালিকা দেখলেই বুঝা যায়, ভবিষ্যতে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করবেন। এই স্বল্প সময়েই বেশ সংখ্যক জনপ্রিয় গান তাঁর ঠোঁটে মিলিয়েছে।

ইতিমধ্যেই তিনি দর্শকমহলে বেশ শক্ত একটা ভক্তকূল তৈরি হয়েছে। এটা তাঁর জন্য একটা বিশাল ইতিবাচক দিক। আশা রাখা যায়, শুভ দর্শকদের হতাশ করবে না, নিজেকে একজন সুপ্রতিষ্ঠিত নায়ক হিসেবে পরিচিত করবেন। ব্যক্তিজীবনে বিয়ে করেছেন ফ্যাশন ডিজাইনার অর্পিতা সম্মাদারকে। ব্যক্তিগত ও চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার আরো বর্ণিলময় হোক এই শুভকামনা রইল তাঁর জন্য।

https://www.mega888cuci.com