খোদ লেখকই আগ্রহ হারিয়েছেন গেম অব থ্রোনসে

‘গেম অব থ্রোনস’ জ্বরে কাঁপছে গোটা বিশ্ব – এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। দর্শকরা যখন আগ্রহভরে এ সিরিজের প্রতিটি এপিসোড গোগ্রাসে গিলছে, এবং ইউটিউবেও ৩০ মিলিয়নের বেশি ভিউ হচ্ছে, সেখানে সিরিজ স্রষ্টা খোদ জর্জ আর আর মার্টিন নিজেই নাকি ‘গেম অব থ্রোনস’ দেখছেন না! এমনটাই জানালেন তার এজেন্ট। ৬৮ বছর বয়সী এই বেস্টসেলিং রাইটারের প্রচুর লেখালেখি এবং ট্যুরের জন্য ইদানীং নাকি জনপ্রিয় এ টিভি সিরিজটি দেখার সুযোগ হয়ে ওঠছে না।

অবশ্য পরবর্তীতে লেখক স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এজেন্টের ওই মন্তব্যটি কেবল সিরিজটির সপ্তম সিজনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বাকিগুলি তিনি ঠিকই দেখেছেন।

যাই হোক, অসম্ভব জনপ্রিয় এ লেখকের পুরো নাম জর্জ রেমন্ড রিচার্ড মার্টিন। তবে ভক্তদের কাছে তিনি জর্জ আর আর মার্টিন নামেই সুপরিচিত। সত্তর ও আশির দশকে তার লেখা সায়েন্স ফিকশন ও হরর গল্প মার্কিন মুলুকে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। তার প্রথম ফ্যান্টাসি উপন্যাস ‘আ সং অব আইস অ্যান্ড ফায়ার’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৬ সালে। তার এই উপন্যাস অবলম্বনেই ‘গেম অব থ্রোনস’ নামক টিভি ধারাবাহিকটি তৈরি করেছেন ডেভিস বেনিওফ এবং ডিবি ওয়েসিস। টাইমস ম্যাগাজিন ২০১১ সালে প্রকাশিত বিশ্বের প্রভাবশালী লেখকদের তালিকায় ছিলেন তিনিও।

জর্জ মার্টিন তার অমর সৃষ্টি ‘গেম অব থ্রোনস’-এর জন্য ভক্তদের হৃদয়ে স্বতন্ত্রভাবে জায়গা করে নিয়েছেন অনেক আগেই। ভক্তদের কাছ থেকে তিনি যে প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি পাচ্ছেন, সেটা হচ্ছে, তার পরের বই ‘দ্য উইন্ডস অব উইন্টার’ কবে আসছে। জানা গেছে, তিনি ইতোমধ্যে এই বইয়ের পেছনে ৬ বছর কাজ করেছেন। এরমধ্যে ‘গেম অব থ্রোনস’ সিরিজটি মূলত তার আগের লেখাগুলি সামনে নিয়ে এসেছে। তবে পরের বই সম্পর্কে লেখক এখনও মুখ খুলেননি।

‘মেট্রো’র সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বইয়ের সিরিজ এবং টিভি এডাপ্টেশন দুটোই তাদের ভিন্ন উপায়ে চলে। পর্দার চরিত্রগুলো হুটহাট নিহত হয়। ইতোমধ্যে, এদের প্রায় ২০ জন মারা গেছে, যেটা আমার কাছে বেশ বেদনাদায়ক, এবং এগুলো নতুন কোনো বইয়ে দেখা যাবে।’

সর্বশেষ গুঞ্জন ওঠেছে, ‘দ্য উইন্ডস অব উইন্টারে’র কাজ আগামী বছর শেষ হবে। অথচ, জর্জ মার্টিন কোন নির্দিষ্ট সময় সীমার আভাস দেননি। তিনি বলেন, ‘আসলে আমি গত বছরগুলোতে ধীরে ধীরে লিখিনি, স্বাভাবিক গতিতেই লিখেছি।’ মার্কিন এই লেখক আরও একটু স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার প্রথম বই করতে ৬ বছর সময় লেগেছিল, এরপরের বইটা ৪ বছর। ফ্যান্টাসিস্টরা প্রতি বছর তাদের বই প্রকাশ করেন, কিন্তু ওনারা বড় আকারের বই করেন না। ওনারা আমার মতো ১৫০০ পৃষ্টার বই দেন না!’

‘মেট্রো’র সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বইয়ের সিরিজ এবং টিভি এডাপ্টেশন দুটোই তাদের ভিন্ন উপায়ে চলে। পর্দার চরিত্রগুলো হুটহাট নিহত হয়। ইতোমধ্যে, এদের প্রায় ২০ জন মারা গেছে, যেটা আমার কাছে বেশ বেদনাদায়ক, এবং এগুলো নতুন কোনো বইয়ে দেখা যাবে।’

সর্বশেষ গুঞ্জন ওঠেছে, ‘দ্য উইন্ডস অব উইন্টারে’র কাজ আগামী বছর শেষ হবে। অথচ, জর্জ মার্টিন কোন নির্দিষ্ট সময় সীমার আভাস দেননি। তিনি বলেন, ‘আসলে আমি গত বছরগুলোতে ধীরে ধীরে লিখিনি, স্বাভাবিক গতিতেই লিখেছি।’ মার্কিন এই লেখক আরও একটু স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার প্রথম বই করতে ৬ বছর সময় লেগেছিল, এরপরের বইটা ৪ বছর। ফ্যান্টাসিস্টরা প্রতি বছর তাদের বই প্রকাশ করেন, কিন্তু ওনারা বড় আকারের বই করেন না। ওনারা আমার মতো ১৫০০ পৃষ্টার বই দেন না!’

‘মেট্রো’র সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বইয়ের সিরিজ এবং টিভি এডাপ্টেশন দুটোই তাদের ভিন্ন উপায়ে চলে। পর্দার চরিত্রগুলো হুটহাট নিহত হয়। ইতোমধ্যে, এদের প্রায় ২০ জন মারা গেছে, যেটা আমার কাছে বেশ বেদনাদায়ক, এবং এগুলো নতুন কোনো বইয়ে দেখা যাবে।’

সর্বশেষ গুঞ্জন ওঠেছে, ‘দ্য উইন্ডস অব উইন্টারে’র কাজ আগামী বছর শেষ হবে। অথচ, জর্জ মার্টিন কোন নির্দিষ্ট সময় সীমার আভাস দেননি। তিনি বলেন, ‘আসলে আমি গত বছরগুলোতে ধীরে ধীরে লিখিনি, স্বাভাবিক গতিতেই লিখেছি।’ মার্কিন এই লেখক আরও একটু স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার প্রথম বই করতে ৬ বছর সময় লেগেছিল, এরপরের বইটা ৪ বছর। ফ্যান্টাসিস্টরা প্রতি বছর তাদের বই প্রকাশ করেন, কিন্তু ওনারা বড় আকারের বই করেন না। ওনারা আমার মতো ১৫০০ পৃষ্টার বই দেন না!’

জর্জ মার্টিনের মতে লেখকদের দুইভাগে বিভক্ত যায়। আর্কিটেক্ট: যারা নিজস্ব একটা জগত তৈরি করেন এবং ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়েও বিস্তারিত ভেবেচিন্তে লেখা শুরু করেন। গার্ডেনার্স: যারা তাৎক্ষণিক মনে উদিত অচিন্তিত রচনাকে প্রকাশ করে থাকেন। মার্টিন নিজেকে দ্বিতীয় দলভুক্ত লেখকই মনে করেন।

তিনি বলেন, অবশ্য এই পদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে, অনেক সময় এই প্লটটি আমাকে ডেড ইন্ডের দিকে ধাবিত করে, যেখানে কোন উপায় থাকে না। সুতরাং আমাকে আবার ফিরে আসতে হয় এবং সবকিছু পুনর্লিখন করতে হয়।

জনপ্রিয় এই মার্কিন লেখক চান, দর্শকরা যেন গেম অব থ্রোনসে বাস্তবতা না খোঁজেন। কারণ, বাস্তবতার সাথে এটার কোনো যোগ নেই। সাতটা রাজ্য ওই এক কমন শত্রু হোয়াইট ওয়াকারদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে চেষ্টা করে, এটা কিন্তু নিছক কোনো রূপক বর্ণনা নয়। তিনি বলেন, আমি যদি বাস্তব জগত সম্পর্কে লিখতে চাইতাম, তাহলে ওটাও ভালভাবে করতে পারতাম।

টিভি সিরিজ নিয়ে খোলাশা করে বলেন, গেম অব থ্রোনসের জনপ্রিয়তা কেবল প্লটের কারণেই নয়। এপিক ফ্যান্টাসি কিন্তু আরও হয়েছে। টলকিনের ‘দ্য লর্ড অব রিংস’ এবং রবার্ট জর্ডানের বই ছাড়াও আরও অনেক বই আছে। কিন্তু ওদের লেখাগুলো কেবল কিশোর-কিশোরীদেরই উপযোগী। ওরা যদি টিভি সিরিজ বানায় তাহলে সেটা হবে টিনেজদের জন্য ম্যাজিক ড্রামা। কিন্তু এইচবিও চ্যানেল আমার যে ‘গেম অব থ্রোনস’ প্রচার করছে সেটা সবারই উপযোগী এবং সেখানে সেক্স, ভায়োলেন্স, পলিটিক্স, থ্রিল-সহ পরিপূর্ণ একটা প্যাকেজ আছে।

আর এ কারণেই জর্জ মার্টিন মনে করেন, ‘গেম অব থ্রোনস’-এর সফলতা সত্ত্বেও অন্য ফ্যান্টাসি বইগুলো ওপর ভিত্তি করে এই সিরিজটির মত আরেকটি ধারাবাহিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

মার্টিন জানান, ভক্তদের সাথে তিনি কাজ নিয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, কিন্তু তাদের থেকে কখনো কোনো আইডিয়া ধার করেন না। তিনি হেসে বলেন, ‘আমার যথেষ্ট আইডিয়া আছে। তবে মাঝে মাঝে ভক্তদের আইডিয়া খুব অদ্ভুত মনে হয়, কখনো কখনো ওরা বিস্ময়করভাবে চিন্তা করে।’

এ সিরিজ নিয়ে মুভি হওয়ার সম্ভাবনাও আছে জানিয়ে তিনি বলেন, পিটার জ্যাকসনের ‘লর্ড অব দ্য রিংসে’র সাফল্যের পর ‘আ সং অব আইস অ্যান্ড ফায়ার’ও হলিউডের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। তারা আমাকে একটি সম্ভাব্য এডাপ্টেশন সম্পর্কে বলেছিল। এটি হয়তো একটি কিংবা তিনটি সিনেমা হতে পারে।

গেম অব থ্রোনসের কোন চরিত্রকে নিজের নিকটতম বলে মনে হয় জানতে চাওয়া হলে মার্টিন তার গল্পের খর্বাকায় চরিত্র টায়রন ল্যানিস্টারের কথা বলেছিলেন। তবে একটু চিন্তা করে বলেন, ‘আমি আসলে স্যামওয়েল টারলির মত!’

মেট্রো অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com