রেকর্ডবুক থেকে মুছে যাওয়া ‘টেস্ট’ সিরিজ

স্যার গ্যারি সোবার্সের কথাই ধরুন একই টেস্টে ১৮৩ রান করলেন আবার বল হাতে ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন।

অথবা এডি বারলোর হ্যাট্রিকসহ পাঁচ বলে চার উইকেট, ম্যাচে ১২ উইকেট অথবা সিরিজে দুর্দান্ত দুটি সেঞ্চুরি। কিংবা ক্লাইভ লয়েডের ব্যাটে খুনে মেজাজের সেঞ্চুরি।

এই সবই ছিলো টেস্ট ম্যাচ, পরে হল প্রথম শ্রেনীর ম্যাচে। আর এখন এগুলা কিছুই না! স্রেফ প্রীতি ম্যাচ মাত্র!

ভাবেন এলান জোনসের কথা, একমাত্র ক্রিকেটার যার টেস্ট অভিষেক হয়েছিলো কিন্তু তবুও টেস্ট না খেলা ক্রিকেটার তিনি। ৩৬,০৪৯ প্রথম শ্রেনীর রান তার, সর্বোচ্চ রানের তালিকায় ৩৫ নম্বরে আর কখনোই ‘টেস্ট না খেলা’ খেলোয়াড়দের ভেতর সর্বোচ্চ।

আইসিসি দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের অনুরোধ রেখে ১৯৭০ সালের ইংল্যান্ড বনাম বিশ্বকাপ একাদশের চার ম্যাচের ‘টেস্ট’ সিরিজের সব ম্যাচের প্রথম শ্রেনীর মর্যাদা বাতিল করেছে। শুধু তাই নয় সকল রেকর্ড বুক থেকে ম্যাচের রেজাল্ট, খেলোয়াড়দের রান, উইকেট সব মুছে ফেলতে বলেছে। অর্থাৎ রেকর্ড বুক থেকে মুছে যাবে গ্যারি সোবার্সের সেই ১৮৩ রান! মুছে যাবে বয়কট, ক্লাউভ লয়েড, বারলোদের সেঞ্চুরি।

১৯৭০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বর্ণবাদ ইস্যুতে নিষিদ্ধ হলে বাতিল হয় দক্ষিণ আফ্রিকার ইংল্যান্ড সফর। ইংল্যান্ড আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একটা বিশ্ব একাদশ বানিয়ে তাদের সাথে চার ম্যাচের সিরিজ খেলেছিলো। বিশ্ব একাদশে ছিলেন সব বড় বড় তারকা ক্রিকেটার।

দক্ষিণ আফ্রিকার পাঁচজন খেলোয়াড় ছিলো সেখানে। আইসিসি শুরুতে এই সিরিজের ম্যাচ গুলাকে টেস্টের মর্যাদা দিলেও বিভিন্ন চাপে পরে সেই মর্যাদা প্রত্যাহার করে ‘প্রথম শ্রেনীর’ মর্যাদা দেয়। আর এখন গত ৩১ জুলাই সেই মর্যাদাও প্রত্যাহার করে নিলো।

ওই সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ‘টেস্ট’ অভিষেক হয় ইংল্যান্ডের এলান জোনসের। পরে ম্যাচটা টেস্টের মর্যাদা হারায় আর এলানের আর কখনোই টেস্ট খেলার সুযোগ আসেনি। ৫৬ টি প্রথম শ্রেনীর সেঞ্চুরি নিয়েও তাই এলান একমাত্র ক্রিকেটার যার টেস্ট অভিষেক হলেও পরিসংখ্যান বলবে কোনো টেস্ট খেলেননি তিনি।

১৯৭০ সালে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার অসংখ্য মানুষ ‘সিরিজ বাতিল’ করার দাবিতে নামে, আর ইংল্যান্ডে শুরু হয় ‘সিরিজ রক্ষা কর’ ক্যাম্পেইন। সেই সময়েই এই বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে সিরিজ না খেলে সাউথ আফ্রিকার মানুষের সাথে একতা প্রকাশ করার জন্য ইংল্যান্ডের প্রতি আহবান জানানো হয়েছিলো। অবশ্য ইংল্যান্ড তখন সেটা না শুনলেও আইসিসি এবার ইতিহাসের পাতা থেকেই ম্যাচগুলা গায়েব করে দিলো!!

ইংল্যান্ডের অবশ্য অখুশী হবার কারন নেই; কারণ তারা ১-৩ ব্যবধানে সিরিজ হেরে বিধস্ত হয়েছিলো! এসব রেকর্ড না থাকাই ভালো তাদের জন্য!

https://www.mega888cuci.com