রহস্যে ঘেরা ভার্চুয়াল জীবনের চিত্রায়ন

একালের অনেক আলোচিত শব্দগুলোর অন্যতম হলো ভার্চুয়াল লাইফ। ভার্চুয়াল জীবনের সাথে জড়িত মানুষের সংখ্যা এখন নেহাত কম নয়। নিদেনপক্ষে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এখন কোন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির চিফ এক্সিকিউটিভ থেকে শুরু করে পৌঁছে গেছে গ্রামের কোন গৃহবধূর হাতে এমনকি নিম্নবিত্ত লোকের কাছেও।

আমরা সবাই প্রচুর অপিরিচিত এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হচ্ছি নানারকম চ্যাট থেকে শুরু করে, ফেসবুক, ব্লগে। নতুন জিনিসের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আগ্রহ বেশি। বিশেষ করে যারা টিনএজার তারা আরো বেশি মত্ত। শুধু তাই নয় সেলফি-গ্রুপফিতে মত্ত আজকাল মধ্যবিত্ত পরিবারের আট থেকে আশি।

এই ভার্চুয়াল লাইফে পরিচিত হওয়া মানুষকে আমাদের ভালো লাগে, কাউকে কাউকে আমাদের অনেক ভালো লাগে। এমনকি এখানে প্রেমও হয়! কেউ পায় সফলতা, কেউ ব্যর্থতা।

ভার্চুয়াল জীবনের মূল রহস্য যেন না পাওয়া কে কাছে পাওয়া। রয়েছে সুপ্ত যৌনতার হাতছানি। যাতে পা পিছলে যেতে পারে যেকোনো বয়সী যে কারোর।

ফেবু নীল সাদা রংয়ের হলেও এতে রয়েছে নানা রঙের মায়াবী খেলা। ঠিক এই ভার্চুয়াল জীবনের গল্প নিয়েই ‘ধীমানের দিনকাল’ ছবিটি। নামভূমিকায় শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় অনবদ্য। যেকোনো দৃশ্যে এতটুকু জড়তা নেই।

যে লালবাজারের গোয়েন্দা অফিসারের স্মার্ট ঝকঝকে রোল করেছেন শবর-র চরিত্রে ঠিক তার উল্টো যেন ধীমান। একদম ভোলেভালা মাটির মানুষ।

যে মোবাইল ফোন এযুগে ব্যবহার করেনা ভয়ে। মাছের বাজারে যখন সে একথা বলে বসে তখন সারা বাজারের লোক তার দিকে চেয়ে হতবাক হয়ে যায়। অনেকটাই অনীক দত্ত-র ‘আশ্চর্য প্রদীপ’-র মত শাশ্বত-র রোলটা।

একদিন তার অফিস থেকে অর্ডার আসে সবসময় ইন্টারনেট কানেকশনের জন্য তাকে মোবাইল ব্যবহার করতেই হবে সবসময় অনলাইন থাকতে হবে। মাথায় আকাশ ভেঙে পরে ধীমানের। কিন্তু সে শেষ অবধি স্মার্ট ফোন কেনে স্ত্রী আর বন্ধুর সঙ্গে গিয়ে। বাড়িতে ধীমানের ফোন কেনার উৎসবে সারপ্রাইজ পার্টি বসে যায়।

আর এরপরই নতুন মায়া জগৎ খুলে যায় ধীমানের চোখের সামনে। একদিন চ্যাটে ভেসে ওঠে ‘নমস্কার আমি প্রিয়াঙ্গিনী’। সঙ্গে প্রিয়াঙ্গিনী’র লাস্যময়ী ছবিতে ভরে যায় ধীমানের হোয়াটসঅ্যাপ।

শুধু সুন্দরী নয়, প্রিয়াঙ্গিনী এক অত্যন্ত বুদ্বিমতী নারী, যে পুরুষকে চেনে হাড়ে হাড়ে। সাতে-পাঁচে নেই মাটির মানুষ এমন পুরুষকেও মুহূর্তে হাতের মুঠোয় করে নিতে পারে সে। এই প্রিয়াঙ্গিনীর ভূমিকায় রয়েছেন পশ্চিম বাংলার এখনকার সুন্দরী অভিনেত্রী সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায় এই চরিত্রের জন্য নিজেকে যত্ন নিয়ে প্রস্তুত করেছেন। ওয়ার্কআউট করেছেন, অত্যন্ত কঠিন ডায়েটেও থেকেছেন।যেকোনো পোশাকে হয়ে উঠেছেন স্বপ্নসুন্দরী।নিজেকে কি পরিমান সাহসিনী করেছেন সুদীপ্তা এ ছবি তার দলিল। সুদীপ্তা কখনওই নিজেকে বাংলা টেলিভিশনের ঘরোয়া চরিত্রের মধ্যে আবদ্ধ রাখতে চান না, সমস্ত দিক থেকে একজন পারফেক্ট প্রফেশনাল হয়ে ওঠাই তাঁর লক্ষ্য।

শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় ও শ্রীলেখা মিত্র র কেমিস্ট্রী অনবদ্য।শ্রীলেখা মিত্রকেও শাড়িতে অসাধারণ দেখতে লেগেছে।অভিনয়টাও তুখোড় করেছেন শ্রীলেখা। ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ এর মতো এই সিরিজেও শাশ্বত এবং শ্রীলেখা স্বামী-স্ত্রী।সাদৃশ্য মনে হলেও দুটো গল্প আলাদা।

সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন কল্যানী মন্ডল খুব ফ্রেশ লেগেছে কল্যাণীকে অনেকদিন পর এবং নান আদার দ্যান খরাজ মুখোপাধ্যায়। নবাগতা পুনম বসাক ভালো।

বাংলায় এটাই একতা কাপুরের প্রথম ওয়েব সিরিজ। সহ-প্রযোজনায় রয়েছে ছায়াবাণী।ছবিটি পরিচালনা করেছেন অনিন্দ্য সরকার। স্ক্রিপ্ট লিখেছেন পদ্মনাভ দাশগুপ্ত। গল্পটা ‘ফুল অন সেক্স কমেডি’, কোথাও গিয়ে বাস্তবের গোপন গল্প মনের হদিশ দেয়।আর এখানে আর একটা মজা আছে।

নায়ক শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় বাস্তব জীবনেও মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না সেভাবে ফেবু টুইটার ইন্সট্রাগ্রাম করেননা এবং সেটাকে কেন্দ্র করেই কিন্তু গোটা গল্পটা।শাশ্বত-র যে চরিত্র ধীমান, সেও ফোন ব্যবহার করে না কিন্তু তাকে জোর করে একটা ফোন দেওয়া হয় অফিস থেকে। ওই ফোনটা ব্যবহার করা শুরু করতেই একটি মেয়ের মেসেজ আসে, ‘নমস্কার, আমি প্রিয়াঙ্গিনী।’ কে এই প্রিয়াঙ্গিনী, এই নিয়েই কিন্তু গল্পটা এবং দারুণ মজার।

ছবিটা ওয়েবসিরিজ তাই পার্টে পার্টে দেখাই যায়। কিন্তু একসাথে থাকলে বেশ বড় ছবি।তিন ঘন্টার বেশি। ভালো উদ্যোগ।বালাজী বাংলায় বাঙালী অভিনেতা অভিনেত্রীদের নিয়ে কাজ করছে এটাই বিশাল ব্যাপার।

প্রিয়াঙ্গিনী বেশিরভাগ পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ ওয়েবসিরিজের গল্প গোপন যৌনতা-পরকীয়া আর দ্ব্যর্থবোধক ভাষায় যৌনতা মেশানো ডায়লগ। তবে, প্রিয়াঙ্গিনী ও ধীমান অনেক বেশী ভালো লাগবে। গল্পের বুনোট অনেক ভালো।

ছবিতে একটি ট্রান্সজেন্ডার চরিত্র আছে। যে বাংলাছবি ওয়েবসিরিজে এত সাহসী হল তবু সেই ছবির পরিচালক একজন ট্রান্সজেন্ডারকে সেই কমেডি জোকার রোল দিল। তৃতীয় লিঙ্গ মানেই কি হাসির পাত্র?

https://www.mega888cuci.com