রবীন্দ্রনাথে সুভা কিংবা একজন মায়াবী মুনা

আশির দশকের প্রথম ভাগ, প্রথা ভাঙার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছিল ছবি ‘ঘুড্ডি’, ওই ছবিতে ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা, শুধু দুজনে’…. এই গানে লাস্যময়ী নায়িকা হয়ে এসেছিলেন সেলুলয়েডের পর্দায়, কিংবা নব্বই দশকের প্রথম ভাগে ইতিহাস সৃষ্টিকারী ‘কোথাও কেউ নেই’ ধারাবাহিকের মায়াবী ‘মুনা’ – সব চরিত্রেই যিনি অবলীলায় মিশে যেতেন, স্টাইল আইকন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন দর্শকদের কাছে। টিভি নাটকে যিনি নিজেকে করেছেন অনন্য, তিনি বাংলাদেশের টেলিভিশন জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা।

বাবা কিংবদন্তি অভিনেতা গোলাম মুস্তাফা, সেই সূত্রেই নাট্যজগতে আসা। রবি ঠাকুরের ‘সুভা’ হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন টিভি নাটকে, এরপর ‘বরফ গলা নদী’ ধারাবাহিকে অভিনয় করে পরিচিতি পান। আশির দশকে এসে টিভি নাটকে হয়ে উঠেন শীর্ষ অভিনেত্রী, আফজাল হোসেনের সঙ্গে জুটি টিভি জগতে সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি, এই জুটির ‘পারলে না রুমকি’ নাটকটি বাংলাদেশের রোমান্টিক নাটকের ইতিহাসে অন্যতম হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

সেই সময় তিনি ‘লাক্স’ এর বিজ্ঞাপন করে বেশ আলোচিত হয়েছিলেন। ‘সংশপ্তক’ ধারাবাহিকেও নিজের দ্যুতি ছড়িয়েছিলেন, এছাড়া উল্লেখযোগ্য নাটক কোথাও কেউ নেই, অচিনবৃক্ষ, শিল্পী, নিলয় না জানি, তুমি, ভাঙনের শব্দ শুনি। গত দশকেও বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেন। এর মধ্যে আজ রবিবার, কাছের মানুষ, ডলস হাউজ, আমার বউ সব জানে, গহীনে অন্যতম। এখনো মাঝে মাঝে টিভি পর্দায় আসেন।

নাট্যঙ্গনের বর্ণিল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও তিনি সমুজ্জ্বল। প্রথম ছবি ‘ঘুড্ডি’ দিয় বেশ সুপরিচিতি পেয়েছিলেন, তবে প্রথম বাণিজ্যিক সফল ছবি ‘নয়নের আলো’, এই ছবির পর জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। আশির দশকে প্রচুর ছবির অফার পেতেন, কিন্তু ফিরিয়ে দিতেন।

এই দশকের ছবির মধ্যে লাল সবুজের পালা, নতুন বউ, সুরুজ মিঞা, স্ত্রী অন্যতম। নব্বই দশকে এসে বেশ সংখ্যক বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করেন। এর মধ্যে কমান্ডার, রাক্ষস, অপহরণ, আজকের হিটলার, ফাঁসি, শঙ্খনীল কারাগার অন্যতম। পরবর্তীতে দূরত্ব, হেডমাস্টার, খণ্ডগল্প ৭১ ছবিতে দেখা যায় তাকে। মুক্তির অপেক্ষায় আছে আঁখি ও বন্ধুরা ও নিজের প্রযোজনায় ‘গহীন বালুচর’।

১৯৮৩ সালে, ‘নতুন বউ’-এর জন্য পার্শ্ব অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। কিন্তু নিজেকে প্রধান চরিত্র দাবি করে তা প্রত্যাখান করেন। এরপর ১৯৮৯ সালে ‘স্ত্রী’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে নাম ও ঘোষনা হয় তাঁর। কিন্তু এক রাতেই সেই নাম বদলে অন্য অভিনেত্রীর নাম চলে আসে।

শহিদুল ইসলাম খোকন বলেছিলেন, শাবানার বিদায়ের পর যদি সুবর্ণা মুস্তাফা চলচ্চিত্রে নিয়মিত হতেন, তবে বাংলা চলচ্চিত্রের অশ্লীলতার জোয়ার অনেকটাই গতিরোধ হতো। বেশ কয়েক বছর ধরে, জাতীয় পুরস্কারে জুরি বোর্ডের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সুবর্ণার জন্ম ১৯৫৯ সালের দুই ডিসেম্বর। ব্যক্তিজীবনে প্রথমে বিয়ে করেন কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ূন ফরিদীকে। প্রায় দুই যুগ সংসার করার পর তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ঘর বাঁধেন,পরিচালক বদরুল আনাম সৌদের সঙ্গে। স্টাইলিস তরুণী থেকে মধ্যবয়সীর ছিমছাম সাজ, সব সময়ই তিনি সৌন্দর্যের প্রতীক।

https://www.mega888cuci.com