যে চুলে আগুন জ্বলে…

আগুন ব্যবহার করে চুল কাটার এক নতুন পদ্ধতি ঢাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। যার নাম ‘ফায়ার কাটিং’। গত ঈদে অ্যাডোনিস মেকওভার স্যালুন কর্তৃক উদ্ভাবিত এই ফায়ার কাটিং এমন একটি অনন্য উপায়, যা ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শুরু করেছে।

অাগুন ব্যবহার করে চুল কাটবার এই কৌশল আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এবং পাকিস্তান থেকে শুরু করে মিশর, অাফগানিস্তান এবং ইংল্যান্ডে অনেক আগেই প্রচলিত। যার অন্যতম সর্বশেষ সংযোজনের তালিকায় বাংলাদেশও নাম লিখিয়েছে ।

মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিন, অ্যাডোনিসের একজন এক্সপার্ট, প্রথমে চুলে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান মেশান, তারপর চুলে আগুন ধরিয়ে দেন। প্রত্যেকবার এই আগুনের শিখার স্থায়িত্ব প্রায় ১০ সেকেন্ড।

তিনি বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মতো সময় লাগে, যেখানে আমরা চুলে দুইবার অগ্নিসংযোগ করি। চুলকে সঠিক শেপ দেয়া ও পরবর্তী স্টাইলিংয়ের জন্য এই আগুন ব্যবহার করা হয়।’

আগুন জ্বলতে থাকা অবস্থায় নাপিত দুটো চিরুনি দিয়ে চুলকে শেপ দিতে থাকেন। এ প্রক্রিয়া ততোক্ষণ চলতে থাকে, যতক্ষণ খদ্দেরের চুল কাঙ্খিত ও সঠিক আকারে আসে। এগুলো শেষ হয়ে গেলে ফেড-কাট ও আন্ডার-কাটের মাধ্যমে চুল ছাটানোর ইতি টানা হয়। উল্লেখ্য যে, এ কাটিংয়ের স্বাদ নিতে হলে অাপনার চুল কমপক্ষে তিন থেকে চার ইঞ্চি হওয়াটা আবশ্যক।

জয়নুলের মতে, অ্যাডোনিসই বাংলাদেশে ‘ফায়ার কাটিং’ নামক চুল ছাটানোর এমন বিচিত্র পদ্ধতির প্রবর্তক, যা দিন গড়ানোর সাথে সাথে যুবসমাজের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

চুল ছাটানোয় অাগুন ব্যবহারের কোনো নেতিবাচক পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া আছে কী না জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘যদিও অনেকেই এ ব্যাপারটিতে চিন্তিত, তবে আমরা এ নিশ্চয়তা দিতে পারি যে এতে কোনো ক্ষতির অাশংকা নেই। সকল রাসায়নিক দ্রব্যাদি ভারত থেকে আমদানীকৃত ও সম্পূর্ণ নিরাপদ।’

এ পর্যায়ে এসে দেখা হয় ২২ বছর বয়সী এরান হোসেনের সাথে, যিনি তার বন্ধুবান্ধব ও অনলাইন ভিডিওর মাধ্যমে অ্যডোনিসের নাম শুনে এখানে চুল ছাটাতে এসেছেন।

তিনি বলেন, ‘যখন আমি বিষয়টা জানতে পারলাম, ভাবলাম নিজেই পরখ করে দেখি। তাই এখানে চলে এলাম ফায়ার কাটিংয়ের মাধ্যমে নিজের চুলগুলোকে নতুন এক রূপ দিতে।’

অ্যাডোনিস মেকওভার স্যালুনের পথচলার শুরু আজ থেকে প্রায় আট মাস আগে। স্যালুনের কর্ণধার মোহাম্মদ হোসেনের মতে, বিভিন্ন দেশে ফায়ার কাটিংয়ের তুমুল জনপ্রিয়তা তাদের উৎসাহ যুগিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের কাছে আমরা নতুন কিছু পৌছাতে সবসময়ই সচেষ্ট। সেই চিন্তা মাথায় রেখে এই ঈদুল ফিতর থেকে আমরা আগুনের সাহায্যে চুল ছাটানোর এই পদ্ধতির প্রবর্তন ঘটিয়েছি। ফায়ার কাটিং হেয়ারস্টাইলিংয়ের জগতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আমাদের দুইজন এক্সপার্ট রয়েছে, যারা ভারতের কেরালা থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফায়ার কাটিং নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন ভিডিও দেখে অামি অনুপ্রাণিত হয়েছি। তাই ভাবলাম অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এটা জনপ্রিয় হতে পারে।’

এ পর্যন্ত কেমন সাড়া পাওয়া গেছে, তা জানতে চাওয়া হলে জয়নাল জানান, ঈদের মৌসুমে তাদের স্যালুনে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক খদ্দেরের পা পড়েছে। আর তার মধ্যে কমপক্ষে ২০ জনের কাছ থেকে ফায়ার কাটের অনুরোধ পেয়েছেন তিনি।

অ্যাডোনিসের বক্তব্য, তাদের সকল কর্মচারিই পেশাদার এবং উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাই ফায়ার কাটিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি বাড়িতে চেষ্টা না করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অ্যাডোনিসে আগুনের মাধ্যমে চুল স্টাইলিংয়ে লাগবে প্রায় ৩৫০ টাকা। আর যদি কেউ চুল ছাটাতে চান তবে তাকে গুনতে হবে ৫০০ টাকা।

লেখাটি Set your hair on fire for a new look শিরোনামে প্রথম প্রকাশিত হয় ঢাকা ট্রিবিউনে। ছবিও ঢাকা ট্রিবিউন থেকে সংগৃহীত।

https://www.mega888cuci.com