হৃদয়ে ধরেছি উষ্ণতা

জানুয়ারি ৯, ২০১৮।

বাংলাদেশে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের খবরে খারাপ লাগছে। নর্থ আমেরিকা কিংবা ইউরোপের মানুষদের শীতের সাথে নিত্য বসবাস। তাদের শীতের আলাপজুড়ে থাকে শূন্যের নিচে কত সেলসিয়াস কিংবা তুষারপাতের ঘনত্বের হিসেব। খাবার তালিকায় গরম ধোঁয়া ওঠা স্যুপ অথবা ল্যাম্ব চপের গল্প। কিন্তু বাংলাদেশের শীতের হিসেব জীবন-মরণ নিয়ে। নর্থ আমেরিকার তাপমাত্রা শূন্যের নিচে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নামলেও সেটা বাংলাদেশের শূন্যের উপরে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চাইতে কম প্রকট পারিপার্শ্বিকতার কারণে।

আমেরিকা, ক্যানাডা কিংবা অন্যান্য শীত প্রধান দেশে মানুষের ঘরে থাকে সেন্ট্রাল হিটিং সিস্টেম। বাইরে তাপমাত্রা যাই হোক না কেন, ঘরের ভেতরে তাপমাত্রা একটি ন্যূনতম মাত্রার নিচে নামতে পারে না। যেমন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বাসায় থাকি সেখানে তাপমাত্রা ন্যূনতম ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখতেই হবে। এর নিচে নামা যাবে না। এটি এখানকার সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম তাপমাত্রা। এই তাপমাত্রা চাহিদা মাফিক বাড়ানোও যায়। বাসার যেকোন ট্যাপে গরম পানির ব্যবস্থা। চুলা চলে ইলেক্ট্রিক হিটারে, তাই শীতের জন্য গ্যাসের লাইন সংকুচিত হবারও সম্ভাবনা নাই। যেহেতু বিদ্যুৎ যায় না প্রায় কখনই, তাই এই শীত সবসময়ই নিয়ন্ত্রনের মাঝে থাকে।

চলাচলের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি, সাবওয়ে, রেলগাড়ি, ট্রাম, স্ট্রিটকার, বাস, উবার, ট্যাক্সি যাই ব্যবহার করুন না কেন সেটিতে হিটার আছে। আর ঘর থেকে বের হবার সময় মানুষ কয়েক লেয়ারের গরম কাপড় পরে, ফলশ্রুতিতে শীত লাগার সম্ভাবনা খুব কম। এরপর অফিসে, বিশ্ববিদ্যালয়, কফিশপ, বাজার যেখানেই যান না কেন, সেখানেও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত। ঠান্ডা অনুভূত হবার সুযোগ নেই বললেই চলে। শুধুমাত্র যেই সময়টা আপনি ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় হাঁটবেন, সেই সময়টা ঠাণ্ডা অনুভূত হবে। সেই অল্প সময়ের জন্য ঠান্ডাটা যদিও ভয়ানক রূপ ধারণ করে, তা বেশিরভাগ মানুষের জন্যই বাঁচা-মরার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় না।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কিন্তু তা হয় না। আমাদের নিকেতনের বাসায় শীতকালে এখনকার চাইতে অনেক বেশী শীতের তীব্রতা অনুভব করেছি আমি। কেননা, তখন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস মানে সবসময়, সব জায়গায় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘরে, অফিসে, দোকানে, রাস্তায় – সর্বত্র। বাসার বাথরুমে হিটার ছিল হয়ত, কিন্তু সেটা বাংলাদেশের সব মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করে না।

আমাদের দেশের বেশীরভাগ মানুষকেই জীবিকা নির্বাহের জন্য খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে হয়। তাপমাত্রা কোথাও কোথাও ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেছে, এই মানুষগুলোর তাই ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। নর্থ আমেরিকা কিংবা ইউরোপের শীত-বিলাসিতার সাথে তাই আসলে বাংলাদেশের শীতের তুলনা করবার সুযোগ নেই। আমার তাপমাত্রা শূন্যের নিচে ৩০ আর তুষারপাত হচ্ছে অঝোরে, তাই বলে বাংলাদেশের মানুষ ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে শীতে কাবু হচ্ছে দেখে টিটকারি করা নিতান্তই নির্বুদ্ধিতা, অসহনশীলতার লক্ষণ।

তীব্র শৈত্যপ্রবাহ থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসুক প্রিয় বাংলাদেশ, শীত সামলে উঠুক আমার দেশের প্রিয় মানুষেরা।

https://www.mega888cuci.com