আমরা দেখিয়েছি যে কাউকেই হারাতে পারি: সাকিব

সিরিজ শুরুর আগেই সাকিব আল হাসান বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়াকে দুই টেস্টেই হারানো সম্ভব। হ্যা, প্রতাপশালী বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে বধ করার আগাম ঘোষণাই দিয়ে রেখেছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। আর সেই মিশনে তিনি সফল। সেখানে দুই ইনিংসে পাঁচটি করে উইকেট আর, ব্যাটিং পারফরম্যান্সের সুবাদে ২০ রানের এই জয়ে সাকিবের অবদানটাই সবচেয়ে বেশি। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে তিনি হাজির হলেন সংবাদ সম্মেলনে।

সেরা পারফরম্যান্স, সেরা অলরাউন্ডারদের কাতারে

সবচেয়ে বড় যে ফিলটা এসেছে দলের জেতার জন্য অবদান রাখতে পারাটা, যেটা আমি সবসময়ই করতে চাই। আর এই টেস্ট আমাদের অবশ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যেমন কোন সিচুয়েশনে জেতা ইম্পর্ট্যান্ট । আর যেহেতু অন্যদের সঙ্গে আমরা কখনোই এর আগে খেলেনি, আমাদের ভেতরেও আলাদা একটা অনুপ্রেরণা ছিল। আর যেটা বলছিলাম, দলের জন্য অবদান রাখতে পারাটাই আসল কথা।

এখন কী আপনি বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার?

না, ওরকম কিছু মনে হচ্ছে না। আমি যেটা বললাম, আমার কাজ যেহেতু দুইটা দিক দিয়েই আছে, চেষ্টাটা থাকবে দুইটা দিকেই সমানভাবে অবদান রাখার।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়, না এই জয় – কোনটার গুরুত্ব বেশি?

দুইটাই আসলে গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের জেতার বিশ্বাস শুরু হয়েছে আজকে। আমরা যে ক্যামব্যাক করতে পারি, সেই বিশ্বাস এসেছে তখন। আগে এটা করতাম না, আগে হলে ছেড়ে দিতাম। এটা একটা বড় অর্জন আমাদের জন্য। আবার শ্রীলঙ্কাও বড় অর্জন, শ্রীলঙ্কায় গিয়ে কিন্তু ভারত ছাড়া খুব বেশি কেউ ভালো করেনি। বাইরে জিততে পারি, সেটাও আমাদের জন্য বড় ব্যাপার ছিল।

বাংলাদেশের জন্য কতটা কঠিন বা সহজ ছিল এই জয়?

কাজটা সহজ ছিল না। অনেক কঠিন ছিল। আমি বলব তামিম অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। ছোট ছোট অনেক অবদান ছিল, বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। এই উইকেটে রান করাটা অনেক কঠিন, তাই ব্যাটসম্যানদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। দুইটা ইনিংসেই ওর একশ হতে পারত, দুর্ভাগ্য ওর। মুশফিক ভাইয়ের অবদান, নাসিরের ফার্স্ট ইনিংস, সাব্বিরের সেকেন্ড ইনিংস, এটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার মনে হয় তাইজুল ও মিরাজের কথাও বলতে হবে। খুব ভালো সাপোর্ট ছিল টেস্ট জেতার জন্য। হয়তো আমি এক সাইড থেকে পাঁচ উইকেট পেয়েছি, কিন্তু অন্যদিক থেকে ওদের উইকেট নিতেই হয়েছে। সেই দিকটাও কাভার করতে পেরেছি, আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দিন শেষে এটা টিম গেম, সবার অবদানই আছে। কারোটা হয়তো একটু বেশি, কারওটা হয়তো একটু কম।

অস্ট্রেলিয়ানদের সমীহ আদায়

এই টেস্ট শেষে ওরা আরও বেশি সম্মান দেবে। মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা আর মাঠে খেলার মধ্যে পার্থক্য আছে। ঘরে মাটিতে আমরা বিশ্বাস করি আমরা যে কাউকে হারাতে পারি, সেটা করেও দেখিয়েছি। গত দুই বছরের পারফরম্যান্স থেকেই আমাদের মনে এই বিশ্বাস এসেছে। কেউ হয়তো আমাদের ওভাবে খেয়াল করেনি, কিন্তু আমরা চুপিসারেই নিজেদের কাজটা করেছি।

তাইজুলকে কী বলেছিলেন?

যেহেতু আমি এক সাইড থেকে পুরো দিন বোলিং করেছি আমি উইকেট একটু বেশি রিড করতে পারছিলাম। কিংবা ব্যাটসম্যানের দুর্বলতা আর শক্তির জায়গাটাও বুঝতে পেরেছিলাম বেশি। আমি এগুলা ওর সাথে শেয়ার করছিলাম। আমি বলছিলাম, এটা হলে বেটার হবে, ওটা হলে বেটার হবে। ও আমার কথা শুনেছে, সেভাবে করার চেষ্টা করেছে।

৫০ তম টেস্টে দলের জন্য উপহার কী?

না (হাসি)। সবার অবদান বড় ছিল। ছোট ছোট অবদান অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ। একটা ক্যাচ মিস বা একটা রান সেভ করা।  প্রতিটা জিনিসেরই অবদান আছে। কেউ বেশি করবে, কেউ কম করবে। এভাবেই ই একটা দল রেজাল্ট পাবে।

পঞ্চাশতম টেস্টের অনুভূতি

অবশ্য আলাদা একটা অনুভূতি, দলের কিছু করতে পারা। আমার কাছে যদিও এগুলা কিছুইই মনে হয় নাই কখনোই। এরকক একটা অকেশনে ভালো কিছু করতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগবে।

‘সাকিব-তাইজুল-মিরাজ’ – এটাই কী বাংলাদেশের সেরা স্পিনত্রয়ী?

পরিস্থিতিটা চিন্তা করতে হবে। আগে চিন্তা করতাম, পাঁচ দিন খেলতে হবে। তখন আমরা হয়তো সব সময় বোলিং সহায়ক উইকেট পেতাম না, এখন যেমন পাচ্ছি। ওরকম উইকেট হলে দেখা যাচ্ছে  তখন বিভিন্ন ধরনের মনে হবে। একারণে রেট করতে চাই না। রফিক ভাই ছিলেন আমাদের বাঁহাতি স্পিনার এর আইডল। আমি উনাকে সবচেয়ে বেশি রেট করি। রাজ ভাইও অনেক ভালো বোলার ছিলেন। আমাদের পরিস্থিতির কথা চিন্তা করতে হবে। ওটার ওপর নির্ভর করে দল তৈরি হতো, ব্যাটিং কেমন সেটা ব্যাপার ছিল। একটার সাথে আরেকটার তুলনা করাটা মনে হয় না ঠিক। মিরাজ বিশ্ব মানের, তাইজুলও। আমাদের আরও অনেক জায়গা আছে, যেখানে উন্নতি করতে পারলে আরও ভালো কিছু করতে পারব।

অনুপ্রেরণা

সবচেয়ে বড় মোটিভেশন আমার বউ। এসব সময় উৎসাহ দেয়। এখন মেসেজ করল, আমি এখন ঘুমাতে পারি। আমি প্রেসেন্টেশনেও বলেছি, কথা বলছিলাম, মনে হয়েছে চান্স খুব একটা নেই। ও বলেছে, তুমি পারবা। আমি জানি, তুমি পাঁচ উইকেট পেলেই হয়ে যাবে। আমি রাতে ঘুমানোর সময় চিন্তা করলাম, আসলেই তো। আমি পাঁচ উইকেট পেলেই তো দলের সুযোগ থাকবে। ওপাশ থেকে আরেক জন দুই উইকেট নিলেই তো সাত-আট উইকেট পড়েয আবে। এই বিশ্বাসটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর আজকে যারা এসেছে, সবাই বিশ্বাস করেছে বাংলাদেশ জিতেছে। ওদের সেই বিশ্বাস থাকলে আমাদের কেন থাকবে না? আমরা হয়তো ছয় , সাত বা পাঁচ উইকেটে হারতে পারতাম। কিন্তু আমাদের চেষ্টা বড় ব্যাপার ছিল, সেটা করেছে এটাই বড় ব্যাপার। দলের পরিবর্তন এসেছে এটা তারই বড় উদাহরণ।

ব্যক্তি সাকিবের পরিবর্তন

চেষ্টা তো থাকেই উন্নতি করার। দলের জন্য চেষ্টা করার, ভালো কিছু করার। যখন করতে পারি, ভালো লাগে।

সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জেতা কি সম্ভব? অস্ট্রেলিয়াকে কোনো বার্তা দিতে চান?

না, আসলে এটা কোনো মেসেজ না। সাকিব বলে গেছে, দুই টেস্ট জিতবে। আমি বলেছি দুই টেস্টে জেতা সম্ভব। অস্ট্রেলিয়া বলতে পারবে না আমাদের ২-০ তে হারাতে পারবে, আমরাও বলতে পারি না ওদের ২-০ তে পারব। হ্যাঁ, এখন হয়তো সেটা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে কী কথা হল?

উনি সব সময় সাপোর্ট দেয়, ক্রিকেট অনেক পছন্দ করেন। সেটাই দেখাতে এসেছিলেন। উনি বললেন, কালকেও আসতে চেয়েছিলেন, ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেননি। পাপন ভাই বলেছে দুই এক ওভার পেতে পারেন, তখন আর আসেননি। দলের জণ্য এমন সাপোর্ট দরকার। আমাদের এটা উতসাহ দেয়। আমরা সবাই জানি, পুরো দেশ আমাদের সাথে আছে।

চেষ্টা তো থাকবে যেন জিততে পারি, ওজন্যই খেলব। নাও হতে পার, আবার ভালোভাবেও জিততে পারি। যেখানে ভালো করেছি, সেটা আরও উন্নত করতে পারি। আর যেখানে খারাপ করেছি, সেটা থেকে যেন শিক্ষা নিতে পারি।

মাঠের অ্যাগ্রেশন কতটা জরুরী ছিল?

অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আবার আমি জানি, কাল আমি ওভাবে আউট হওয়ার পর কেউ না কেউ এটা নিয়ে এখানে প্রশ্ন করেছে। এরকম পরিস্থিতিতে এটা কঠিন। আমি চাই, সবার যেন এই সাহস থাকে। দলের জন্য ইতিবাচক মনোভাব থাকলে দলের জন্য ভালো হবে। সব সময় হয়তো এটাতে কাজে দেবে না, কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই সফল হব।

https://www.mega888cuci.com