যেমনি নাচাও তেমনি নাচি!

আপনারা সামান্য অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখানর জন্য সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া কিংবা লন্ডন-নিউইয়র্কে যান।

আর আমাদের ছেলে-মেয়েদের জন্মের পর পরই হাসপাতালের লোকজন মৃত ঘোষণা করলে, এরপর কবর দিতে গিয়ে দেখা যায় বেঁচে আছে! সেই ঘটনা জানতে গেলে হাসপাতালের কর্তা ব্যক্তিরা বলে বসেন, আগে দেখতে হবে – ‘এই বাচ্চাই কি সেই বাচ্চা কিনা!’

আপনাদের ছেলে-মেয়েরা দেশীয় সিস্টেমে পড়াশোনা না করে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে কিংবা ইউরোপ-আমেরিকায় পড়তে যায়। জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় বিদেশে থেকে এরপর দেশে ফিরেই তারা দেশপ্রেমিক হয়ে যায়।

আর আমাদের ছেলে-মেয়েরা দেশি সিস্টেমে পড়াশোনা করে, টিউশন ফি কমানর দাবী করলে কিংবা নিজেদের ন্যায্য অধিকারের জন্য আন্দোলন করলে হয়ে যায় রাষ্ট্র বিরোধী!

আপনারা নিজেদের গাড়িতে এসির হাওয়া খেতে খেতে, উল্টো পথে চলে মনের আনন্দে রাস্তার রাজা সেজে ঘুরে বেড়ান।

আর আমরা প্রচণ্ড গরমে ঘামে ভিজে বাসে ঝুলতে ঝুলতে স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি কিংবা অফিসে যাই। এরপর যদি দুই বাসের প্রতিযোগিতায় মাঝখান থেকে প্রাণটাই চলে যায়; আপনারা ঘোষণা দেন – যে মারা গিয়েছে তার দোষ থাকলেও থাকতে পারে!

আপনারা ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করে, বিদেশিদের দেয়া অনুদানের টাকা নিজেদের ব্যাংকে রেখে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। এতো অন্যায় করে ফেলার পর যদি শেষমেশ ধরা খেয়ে যান আর আদালত যদি আপনাদের শাস্তি দিয়েই বসে, তাতেও সমস্যা নেই! আপনারা চিকিৎসার কথা বলে বিদেশ পাড়ি জমান! সেখানে আরাম- আয়েশে জীবন কাটিয়ে দেন। সেই সঙ্গে দেশের নাগরিকত্ব পর্যন্ত ত্যাগ করে বসেন! নিজ দেশের পাসপোর্টটা পর্যন্ত রাখার প্রয়োজন মনে করেন না! এরপরও আপনারাই এই দেশের মানুষের নেতা আর দেশ প্রেমিক।

আর আমরা দিনে ১২ ঘণ্টার বেশি পোশাক কারখানায় কাজ করে দেশের অর্থনীতি সচল রাখার চেষ্টা করছি। আপনারা যখন ধর্মঘট-হরতাল ডাকেন, তখনও আমাদের কাজে যেতে হয়। কাজে যেতে গিয়ে আপনাদের গ্রেনেড কিংবা পেট্রোল বোমার আঘাতে যদি আমারা মরে যাই; আপনারা বলে বসেন – ‘আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছেন!’ আর যদি আস্ত পোশাক কারখানাটাই হঠাৎ ধপাস করে মাথার উপর ভেঙ্গে পড়ে, তাহলে আপনারা বলে বসেন- ‘কেউ হয়তো পিলার ধরে ধাক্কা দিয়েছে!’

এরপরও আপনারই দেশ প্রেমিক, আপনারাই আমাদের নেতা, আপনারাই জানেন দেশের ভালো-মন্দ কিসে হয়! পালা করে ক্ষমতার হাত বদল হয়; কিন্তু আমরা থেকে যাই আপনাদের হাতের পুতুল। যখন আপনাদের যেভাবে পুতুল নাচ দেখতে ইচ্ছে করে, আমরা সেভাবেই নেচে বেড়াই! এ এক অনন্ত নৃত্যশালা! যেমনি নাচাও তেমনি নাচি!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।