যুবরাজের রঙিন রাজত্বের সমাপ্তি?

ভারতীয় ক্রিকেটে ‘ফাইটার’ হিসাবে দারুণ জনপ্রিয় যুবরাজ সিং। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘোষিত ওয়ানডে দলে যায়গা হয়নি ৩৬ বছর বয়সী যুবরাজের। ধারণা করা হচ্ছে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৯ বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট যুবরাজকে দলে রাখেনি। তাই ‘মিরাকল’ কিছু না ঘটলে ভারতের নীল জার্সিতে হয়ত আর দেখা যাবে না তাকে! অথচ গত ১৭ বছর যাবত টিম ইন্ডিয়ার হয়ে কি চমৎকার পারফরমেন্স করে গেছেন।

‘যুবরাজ একজন ফাইটার কিন্তু আমার মনে হয় না ২০১৯ বিশ্বকাপের চিন্তায় সে আছে। তাই ফর্মের সাথে ফিটনেসকেও চিন্তায় রেখেছে নির্বাচকরা। টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট খেলার জন্য যে ধরনের ফিটনেস দরকার তার থেকেও বেশী প্রয়োজন ওয়ানডে খেলার জন্য’, বলেছেন সাবেক নির্বাচক সাবা করিম।

ভারতের এই সাবেক উইকেটরক্ষক আরো বলেন, ‘আমরা যখন নির্বাচক ছিলাম তখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার অভিজ্ঞতা  ও ভারতের মাটিতে খেলার কারনে তাকে দলে নিয়েছিলাম, কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। আর মনীষ পান্ডে দারুণ  এক প্রতিভা এবং তার আরও বেশী সুযোগ পাওয়া প্রয়োজন। মনীষ পান্ডে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে চমৎকার পারফর্ম করছে।’

২০১৯ বিশ্বকাপের রোডম্যাপে দল সাজানোর ক্ষেত্রে একটি চমকপ্রদ পরিসংখ্যান ভারতীয় নির্বাচকদের মাথায় খেলা করেছিলো, তা হলো যদি বর্তমান দল নিয়ে ভারত বিশ্বকাপ খেলতে যায় তবে সেই দলটি ভারতের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রবীনতর দল! তখন ভারতের অধিনায়ক কোহলির বয়স হবে ৩১, রোহিত শর্মার ৩২, শিখর ধাওয়ানের ৩৩, কেদার যাদবের ৩৪, জাদেজার ৩১, উমেষ যাদবের ৩১ এবং ধোনির বয়স হবে ৩৮।

২০০০ সালে অনূর্ধ্ব -১৯  দলের হয়ে নজর কাড়া পারফরমেন্স দিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলীর নজরে পড়ে জাতীয় দলে অভিষেক হয় যুবরাজের। এই ১৭ বছরে জাতীয় দলের হয়ে দারুণ সব অর্জন যুবরাজের। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার তিনি কিন্তু টেষ্ট ক্রিকেটে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি যুবরাজ।

২০০৭ সালে দক্ষিন আফ্রিকায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনালে তুলতে যুবরাজের অবদান অনস্বীকার্য। আর ২০১১ সালে একদিনের বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে ব্যাট-বলে যুবরাজের অবদান রূপকথার গল্পের নায়কের মতো!

তারপর দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ সংগ্রাম করে আবার খেলায় ফিরে আসে এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার। ভারতীয় সাবেক ওপেনার ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ আকাশ চোপরা বলেন, ‘বর্তমানে যুবরাজের জাতীয় দলে ফিরে আসার কোন কারন আছে বলে মনে হয়না। ২০১৯ বিশ্বকাপে যদি তিনি দলে থাকে তবে ৪ ও ৫ নম্বর দুই ব্যাটসম্যান যুবরাজ ও ধোনির বয়স হবে ৩৮, যা নির্বাচকদের ভাবনায় আছে।’

‘এছাড়া মিডল অর্ডারে নির্বাচকদের পাইপ লাইনে লুকেশ রাহুল, কেদার যাদব ও মনীষ পান্ডে আছে, টিম ম্যানেজমেন্ট ৪ নম্বরে মনীষ পান্ডেকে এবং কেদার যাদবকে ফিনিশার হিসাবে বিবেচনা করছে’, যোগ করেন তিনি।

৩০৪ ওয়ানডেতে ৮৭০১ করা যুবরাজের অগনিত ভক্তরা আশা করে প্রতিবারের মত যুবরাজ এবারও ফিরে আসবে। যদি তা নাও হয় তবুও ভারতের ক্রিকেটে যুবরাজের অবদান স্বর্ণাক্ষরে খচিত থাকবে।

– টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com