যারা সাবেকের প্রোফাইল ঘাটাঘাটি করেন তাঁদের বলছি…

এক কালে একজন আরেকজনকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারতেন না। মনে হতে, হয়তো দু’জন দু’জনকে ছাড়া বাঁচবেনই না। তবে, সেদিন হয়েছে বাসি। সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছে। আজ দু’জনার দু’টি পথ দু’টি দিকে গেছে বেঁকে। হয়তো, নতুন সঙ্গীও খুঁজে পেয়েছেন।

তারপরও ছোট গল্পের মত শেষ হয়েও যেন হল না শেষ। ফুরসৎ পেলেই স্যোশ্যাল মিডিয়ায় সাবেকের প্রোফাইল ঘাটাঘাটি করেন। বোঝার চেষ্টা করেন, আপনাকে ছাড়া আপনার সাবেক এখন কেমন আছেন। কিংবা, মিলিয়ে দেখেন তার বর্তমান সঙ্গী ঠিক আপনার মতই আকর্ষণীয় কি না!

এটা কি শুধুই অভ্যাস? মনোবিজ্ঞানীরা অবশ্য একে অভ্যাস বলতে নারাজ। তাদের মতে এটা মানসিক রোগের লক্ষণ। অস্ট্রেলিয়ার এক মনোবিদ এর নাম দিয়েছেন ‘মাইক্রো চিটিং’। তাঁর দাবী, সাবেকের প্রোফাইলে উঁকি দেওয়ার অর্থ হল, এখনো আপনার মনে তাঁর জন্য জায়গা আছে। আর এভাবে প্রতিনিয়ত আপনি নিজের ও বর্তমান সঙ্গীকে ঠকিয়ে চলছেন।

এটা একরকম প্রতারণার সামিল। স্যোশাল মিডিয়ার দোহাই দিয়ে অনেকে হয়তো রেহাই পেয়ে যেতে চাইবেন। তবে, অস্ট্রেলিয়ান ওই মনোবিদ সেটা মানছেন না।  তিনি বলছেন, প্রতারণা ভার্চুয়াল জগতে হলেও তাতে ওই ব্যক্তির মানসিকতা তো পাল্টাচ্ছে না। এরই নাম মাইক্রো চিটিং।

মাইক্রো চিটিংয়ের আরো কয়েকটি অংশ আছে। এর মধ্যে নিজের সঙ্গী ছাড়া অন্য কাউকে লাভ ইমোজি পাঠানোও একরকম প্রতারণা। এর অর্থ হল আপনি আরেকজনকে নিজের কাছের মানুষ করছেন, আর যে সত্যিকার জীবনে আপনার কাছে আছেন তাঁর থেকে ব্যাপারটা দিনের পর দিন গোপন করে চলেছেন।

সবার হাতে হাতে এখন স্মার্ট ফোন। কর্মব্যস্ত জীবনে এটা যেমন জরুরী তেমনি বিনোদনের মাধ্যমও বটে। আর স্মার্ট ফোন চলে আসার ফলে, সামাজিক জীব মানুষের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতো আনাগোনাও বেড়েছে। আর এর সাথে নিয়ে এসেছে এমন কিছু সমস্যা।

স্যোশাল মিডিয়া যেকোনে মানুষের নিজস্ব জগৎ। সেখানে তিনি কোনটা করবেন আর কোনটা করবেন না সেটা পুরোপুরই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হওয়া উচিৎ। তবে, একটু খেয়াল রাখবেন এটা করতে গিয়ে যেন নিজেকে অন্ধকার জগতে ঠেলে না দেন। নিজেকে বুঝুন, অন্যকে ঠকিয়ে তো আর ভাল থাকা যায় না। সোশ্যাল মিডিয়াতে তো ভার্চুয়াল জগৎ, তার জন্য নিজের বাস্তব জীবনটা নষ্ট করবেন কেন!

https://www.mega888cuci.com