‘যদি ১০০ রান করি, বিশ্বাস করি প্রতিপক্ষ ৯৯-ও করতে পারবে না!’

আমার কাছে সর্বকালের সেরা পছন্দের ক্রিকেটার, সেরা অধিনায়ক। রিকি পন্টিং-এর সেই সর্বজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের একটা বিরাট প্রভাব আছে আমার ক্রিকেট প্রেমের উপর। বিশেষ করে খেলার মাঠে প্রফেশনালিজম কি জিনিস সেটা পন্টিং-এর অস্ট্রেলিয়া দলের কাছ থেকেই জানতে পেরেছিলাম।

তখন মনে হতো ওরা অন্য গ্রহের ক্রিকেট খেলে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা যদি ১০০ রান করি তাহলে আমাদের বিশ্বাস থাকে প্রতিপক্ষ ৯৯ করতে পারবে না!’ এটাই ছিলো ওই দলটার আত্মবিশ্বাস। পন্টিং-এর আগ্রাসী মনোভাব এবং জয়ের ক্ষুধা মুগ্ধ করতো।

মার্ক টেলর আর স্টিভ ওয়াহর গড়ে দেয়া দলটাকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পথ দেখিয়ে সর্বজয়ী করে গড়ে তুলেন। একটা দলে ১১ জন স্টার থাকলে তাঁদের দক্ষতার সাথে হ্যান্ডেল করতে হয়। আর ‘ম্যান ম্যানেজমেন্ট’-এ পন্টিং যে খুবই ভাল – সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাঁর অধিনায়কত্বের সময়েই এসেছে দুই-দুইটা বিশ্বকাপ।

এখনো পন্টিং-এর ধারাভাষ্য, ক্রিকেট অ্যানালাইসিস মুগ্ধ করে আমাকে। আজ বিগ ব্যাশের প্রথম ম্যাচ দেখছি এর অন্যতম প্রধান কারনের একটা পন্টিং-এর কমেন্ট্রি শুনছি বলে!

২৭ হাজারের উপর আন্তর্জাতিক রান, ৭১ আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি, ১৭৭ ফিফটি – এসব করা কোনো মুখের কথা নয়! অবশ্যই সর্বকালের সেরাদের একজন। আর অধিনায়কত্ব বিচারে নিলে হয়তো সর্বকালের সেরা অধিনায়কই হবেন। সেটা বিচার করার জন্য আমার চেয়ে বড় বড় বিশ্লেষকরা আছেন। আমার কাছে পন্টিং-ই সেরা!

ক্রিকেট মাঠে খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যা ম্যাচ জয়ের রেকর্ড এই পন্টিংয়ের ৩৭৫ টি ওয়ানডেতে জয় ২৬২ টি ম্যাচে। আর অধিনায়ক হিসেবে জিতেছেন ১৬৫ টি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতের শচিন টেন্ডুলকার ৪৬৩ টি ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছেন ২৩৪ টি। এখানে শচিনের চেয়ে কম সংখ্যক ম্যাচ খেলে বেশি সংখ্যক ম্যাচে জয় পেয়েছেন পন্টিং। এই পরিসংখ্যান কিন্তু সামান্য কোনো বিষয় না!

পুল বা হুক ছিলো ট্রেডমার্ক শট, খুব কমই দেখেছি মিস করতে। এখনো চোখে ভাসে সেসব শট। সেসব দিন আর ফিরবে না।

ভারত নয়, পাকিস্তান নয় কিংবা অন্য কোন দল, পন্টিং-এর অস্ট্রেলিয়ার খেলা দেখে সেই যে অস্ট্রেলিয়ার ফ্যান হয়েছিলাম, সেটা আজো আছি। ১৯৭৪ সালের এই দিনেই জন্মেছিলেন অস্ট্রেলিয়াকে ২০০৩ ও ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ এনে দেওয়া পন্টিং। শুভ জন্মদিন আমার চাইল্ডহুড হিরো রিকি থমাস ‘পান্টার’ পন্টিং!

https://www.mega888cuci.com