সহযাত্রীও যখন ড্রিম গার্লকে চিনতে পারেননি!

সেলুলয়েডের রঙিন দুনিয়া মানুষকে আকৃষ্ট করেছে সবসময়। সে বলিউড হোক কিংবা হলিউড বা আমাদের ঢালিউড, ভক্তরা তাদের প্রিয় তারকাকে একনজর দেখার জন্য কিংবা একটি অটোগ্রাফ বা ছবি তোলার জন্য সবসময় উন্মুখ হয়ে থেকেছে। এই পঙ্গপালের মত ভক্তদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীকে অনেক সময় দেহরক্ষী কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে হয়।

কিন্তু এমনো অনেক মানুষ আছেন, যারা নিকটতম দূরত্বে এসব অভিনেতাদের কাছে থাকলেও তাদের ভালোভাবে লক্ষ্যই করেননি কিংবা চিনতেই পারেননি।

আজ তেমনি এক কাহিনী আপনাদের বলব।

সত্তরের দশকের বলিউডি নায়িকাদের মধ্যে হেমা মালিনী ছিলেন অন্যতম। মিষ্টি হাসি আর অভিনয় খ্যাতির জন্য তখনকার তরুণদের মাঝে তার নাম হয়েছিল ‘ড্রিম গার্ল’।এই নায়িকার সাথে দুটি কথা বলার জন্য কিংবা একটু স্পর্শ পাওয়ার জন্য তখনকার তরুণরা নাকি অসাধ্য সাধন করতে পারত। কিন্তু এই ‘ড্রিম গার্ল’-এর সাথে একই প্লেনে পাশাপাশি সিটে ভ্রমণ করেও তাকে চিনতে পারেননি এমন মানুষও দুনিয়াতে আছে।

ইন্টারনেটে এক তরুণী তার নানার বিমানযাত্রায় হেমা মালিনীকে সহযাত্রী হিসেবে পাওয়া এবং চিনতে না পারার মজার কাহিনীটা শেয়ার করেছেন।

১৯৭৪ সালের কোনো এক সময় নানা সাহেব অফিসের কাজে বিমানে করে কলম্বো থেকে দিল্লী যাচ্ছিলেন, তিনি তখন এসবিআই-এর ডিরেক্টর ছিলেন।

তিনি প্লেনে উঠলেন এবং তার সহযাত্রী হিসেবে একজন নারী আসন গ্রহণ করলেন, তাকে দেখে তার ‘অপরূপ সুন্দরী’ বলে মনে হয়েছিল।

প্লেনের প্রায় তিনঘণ্টার যাত্রায় নানাসাহেব অবশ্য ওই নারীর সাথে তেমন কথা বলেননি এবং ওই নারীটিও চুপচাপ ছিলেন।শুধুমাত্র একটা এয়ার পকেট আসলে ভদ্রমহিলা ‘ওপস’ বলে স্বগতোক্তি করেন।

যখন বিমান দিল্লী এসে পৌছাল, তখন নানাজী এবং বিমানের অন্যযাত্রীরাও চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এমন সময় বিমানের পাইলট হাসিমুখে নানাজির সামনে এসে দাঁড়ালেন এবং তাকে সুপ্রভাত জানিয়ে তার বিমান যাত্রা কেমন হয়েছে তা জানতে চান।পাইলটের হাসি দেখে নানাজী বুঝতে পারেন যে কিছু একটা গড়বড় আছে।

তখন পাইলট হেসে নানাজীকে সহযাত্রী ভদ্রমহিলাকে চিনেন কিনা তা জানতে চান।নানাজী বিব্রত অবস্থায় পাইলটকে বলেন যে তিনি চিনেন না তাকে, সেকথা শুনে সহযাত্র নারী হেসে উঠেন। এই উত্তর শুনে পাইলট উচ্চস্বরে হেসে ফেলেন এবং বলেন যে, ‘ইনি হচ্ছেন ভারতের লাখো তরুণের ড্রিম গার্ল।’

এই কথা শুনে নানাসাহেব হেমা মালিনীর কাছ থেকে তাকে চিনতে না পারার জন্য ক্ষমা চান এবং কর্মব্যস্ততার জন্য তিনি যে সিনেমা দেখার বেশি সময় পাননা সেটাও বলেন।

জবাবে হেমা মালিনী তাকে মিষ্টি হেসে উত্তর দেন, ‘সমস্যা নেই,আমার জীবনে এটা প্রথম প্লেন ভ্রমণ যেখানে তিনঘণ্টা ভ্রমণ করে আমাকে সহযাত্রীর তিনহাজার প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়নি, আপনার সাথে ভ্রমণ করা সত্যিই খুব আনন্দদায়ক ছিল।’

বেচারা নানাজী !

 

ঊর্মি তনচংগ্যা

The girl who fly with her own wings

https://www.mega888cuci.com