ম্যাজিশিয়ান মেসি

পরিস্থিতিটা অনেকটা এমনই ছিল।

বলছিলাম গত বিশ্বকাপের কোয়ালিফিকেশনের সময়ের কথা।

২০১৪ বিশ্বকাপ কোয়ালিফিকেশনে মেসি ছিলেন দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ গোলদাতা। (পরে প্লে অফে গোল করে সুয়ারেজ সর্বোচ্চ গোলদাতা হন)। অন্যদিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল বাছাই পর্বে কিছুটা ধুকছে। সুইডেনের বিপক্ষে প্লে অফ খেলতে হলো তাদেরকে।

দূর্দান্ত দুটো ম্যচের পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোই একক কৃতিত্বে জেতালো পর্তুগালকে।

সেই সিজন শেষে মেসির ৪৫ ম্যাচে ৪৬ গোল আর ১৬ টি অ্যাসিস্টের বিপরীতে ক্রিশ্চিয়ানোর ছিল ৫৯ ম্যাচে ৬৯ টি গোল আর ১৭ টি অ্যাসিস্ট।

যতদূর মনে পড়ে সেই সিজনে মেসি শুধু বার্সার হয়ে লীগ জিততে পেরেছিল, ক্রিশ্চিয়ানো কিছুই জিততে পারে নি।

ব্যালন ডি অরের ভোট শেষ হওয়ার পর সবাই নিশ্চিত ছিল যে পুরষ্কারটা মেসিই পাচ্ছে।

কিন্তু প্লে অফে ক্রিশ্চিয়ানোর দূর্দান্ত পারফর্মেন্স সব হিসেবকে উলটে দিল। কমিটি থেকে সময় বাড়ানো হলো যাতে কেউ নিচ্ছে করলে ভোট পাল্টাতে পারবে। সেই সুবাদে ক্রিস জিতে গেল সেই বছরের ব্যালন ডি অর।

পারফর্মেন্সটা আসলেই অসাধারণ ছিল।

তবে অনেক মেসি ভক্ত ( সবাই না) এবং রন হেটাররা কিংবা যারা ফুটবল খেলাটা ঠিক সেভাবে বুঝতে পারে না তারা ম্যাচটাকে মুল্য দিতে চাইতো না। তাদের ভাষ্য ছিল যদি রন গ্রেট খেলোয়াড়ই হন তাহলে পর্তুগালকে প্লে অফ খেলতে হলো কেন?

ভাগ্যের কি পরিহাস?

সেই সমর্থকদের আজ একই অবস্থায় দাড় করিয়ে দিয়েছিলো উপরওয়ালা।

আজকের ম্যাচের আগেও অবস্থা এমন ছিল যে আর্জেন্টিনা হেরে গেলে বাদ পড়ার সম্ভাবনাই বেশী থাকতো।

ম্যাচ শুরুর পর ইকুয়েডর গোল দিয়ে ফেলায় কোন আর্জেন্টাইন সমর্থকদের আর খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

কিন্তু এরপরেই আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচটা খেলে ফেললেন লিওনেল মেসি।

এই বছরের ব্যালন ডি অর মোটামুটি নিশ্চিত করে ফেলেছিলেন ক্রিস। কিন্তু এই মূহুর্তে সম্ভাবনাটা এখনো ক্রিসের পক্ষে বেশী থাকলেও নিশ্চিত থাকতে পারবে না।

আগের বারের চেয়ে এবার ক্রিসের এগিয়ে থাকাটা হচ্ছে মূল্যবান ট্রফি এবার ক্রিস বেশী জিতে গিয়েছে।

কিন্তু মেসির আজকের পারফর্মেন্সটাকে কি শুধু ট্রফি দিয়ে মাপলে চলবে?

কোন ম্যাচটা বেশী ক্রুশিয়াল? আজকের আর্জেন্টিনা বনাম ইকুয়েডর নাকি আগের বারের সুইডেন বনাম পর্তুগাল?

প্রতিপক্ষ কিংবা পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্তুগাল বনাম সুইডেন ম্যাচটা এগিয়ে যায় কারণ রনের সেই ম্যাচের ম্যাচ সেভিং গোলগুলো ছিল একেবারে শেষ মূহুর্তে।

কিন্তু অন্য ভাবে একটু চিন্তা করে দেখুন।

আজ যদি আর্জেন্টিনা হেরে যেত তাহলে নিশ্চিতভাবে আর্জেন্টিনা দলে একটা পালা বদল হতো। কতগুলো খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেত আজকেই।

সবচেয়ে বড় কথা পর্তুগালের সেই ম্যাচটা হেরে গেলেও রন সেরকম প্রেশারে পড়তো না যতটা এবার আর্জেন্টিনা হেরে গেলে পড়তো।

এমনিতেই মেসির বিপক্ষে একটা অভিযোগ ছিল যে সে ক্রুশিয়াল ম্যাচগুলোতে সেভাবে জ্বলে উঠতে পারে না। আজ আর্জেন্টিনা হেরে গেলে কথাটা আরো তীব্র ভাবে ফুটে উঠতো এবং বিশ্বাস করুন ‘মেসি বনাম রন’ টপিকটা আজকেই শেষ হয়ে যেত।

কিন্তু গ্রেটরা তো এমনই হয়। শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত তাদের সম্পর্কে মন্তব্য করাটা বোকামি।

মেসির আজকের ম্যাচটা আমার দেখা আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে তার সেরা ম্যাচ।

মেসি ভক্তদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি তারা যদি এর চেয়ে ভালো কোন ম্যাচ দেখে থাকে তাহলে সেটা আমাকে জানাতে। আমি ইউটিউওব থেকে সেটা দেখে নিব।

আর হ্যা, মেসিকে অভিনন্দন লড়াইটা আরো জমিয়ে দেওয়ার জন্য।

আশা করি আগামীতেও মেসি এমনটাই খেলবে আমাদের মতো সমর্থকদের জন্য।

কারণ আমরা গুটি কয়েক সমর্থক মেসির নামের জন্য মেসিকে সমর্থন করতে চাই না, তার পারফর্মেন্সের জন্য তাকে সমর্থন করতে চাই।

বেষ্ট অফ লাক ম্যাজিশিয়ান।

https://www.mega888cuci.com