মোটাদের আদর্শ তিনি

জিরো সাইজের ফিগার আর ফেয়ারনেস ক্রিমের যুগ মোটা আর কালোদের খুব একটা স্বাগত জানায় না। অনেক ক্ষেত্রে আচরণটা এমন যে তারা এসেছেন ভিন্ন কোনো গ্রহ থেকে। ভাগ্য ভাল যে, এখন এমন কিছু মানুষ আছেন যারা এই ‘অ্যান্টি-ফ্যাট’-দের বিরুদ্ধে লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মোটা-চিকন কোনো ব্যাপার নয়,  ব্যাপার হল একজন মানুষ তার শরীর ও মন নিয়ে কতটা ইতিবাচক থাকতে পারেন। তেমনই একজন হলেন ডলি সিং। ভারতের এই ৩৪ বছর বয়সী নারী হলেন যোগ ব্যায়ামবিদ। সম্প্রতি তিনি স্যোশাল মিডিয়ায় এমন কিছু ছবি পোস্ট করেছেন যাতে করে সুস্থতার প্রচলিত ধারা ভেঙে যেতে বাধ্য। আর এটা করতে গিয়ে তিনি রীতিমত মোটাদের আদর্শে পরিণত হয়েছেন।

ডলি একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। ছোটবেলা থেকেই তার শরীরে অনেক মেদ জমে। ২০১২ সালে তিনি হ্যাম্পিতে গিয়েছিলেন ট্র্যাকিং করতে। তখনই তার অ্যাঙ্কেলে টান লাগে। ডাক্তার দেখান, ডাক্তার দাবী ডলির পা তার শরীরের ওজন বহন করতে করতে ক্লান্ত। এখন ওজন কমানো জরুরী।

ডলি ছিলেন প্রচন্ড একগুঁয়ে। তিনি ডাক্তারের পরামর্শ মানলেন না। এবং নিজের শখের ভ্রমণ চালিয়ে যেতে লাগলেন। তবে, সাথে রাখলেন একজন ট্রেইনার। মন দিলেন ডায়টিংয়ে। শিগগিরই লক্ষ্য করলেন দৌড়াদৌড়িতে তাঁর বিরক্তি চলে এসেছে।

তখন ভিন্ন কোনো পথ খুঁজতে লাগলেন ডলি। জুম্বা ও পিলেটস চেষ্টা করলেন। তবে, খুব একটা আগ্রহ পেলেন না। এরপর এমন একটা উপায় অবলম্বন করলেন যেটা আগে কখনো চেষ্টা করেননি – যোগ ব্যায়াম।

যোগ ব্যায়ামের গ্রুপ ক্লাসে যোগ দিলেন। তবে ভারী শরীরের কারণে কোনো ভাবেই আত্মবিশ্বাস পাচ্ছিরেন না। লক্ষ্য করলেন ক্লাসের অন্যরা তাঁর দিকে কেমন করে যেন তাকাচ্ছে। ভাবটা এমন যে – ‘ওর শরীরে না আছে জোর না আছে ফ্লেক্সিবিলিটি! ও করবে যোগ ব্যায়াম!’

কিছুদিন পর ডলি বুঝতে পারলেন যোগ ব্যায়াম শেখার জন্য শুধু গ্রুপে ক্লাস করা যথেষ্ট নয়। এরপর তিনি ইউটিউব ঘেটে টিউটোরিয়াল দেখা শুরু করলেন। আস্তে আস্তে প্রেমে পড়ে গেলেন যোগ ব্যায়ামের। ডলি বলেন, ‘এখন অবধি আমার জীবনে খুব বাজে সময় আসেনি। কোনো খারাপ কিছু দেখলেই আমি যোগ ব্যায়ামের ম্যাটে মন দেই। ওটাই আমার সব রাগ-ক্ষোভ দূর করে আমাকে শান্ত করে দেয়।’

যদিও, এটুকুতে ডলি সন্তুষ্ট হলেন না। তিনি ভারতীয় আর্মির অধীন পর্বত আরহণের কোর্স করলেন। তখন তিনি লক্ষ্য করলেন পাহাড়ে চড়ার সময় তার শরীর সব কিছু খুব মসৃনভাবে করতে পারছে। ওই গ্রুপে ডলিই ছিলেন সবচেয়ে বয়স্ক, অথচ অনেক কঠিন টাস্কেও তিনি ছিলেন অবিচল। কখনোই হাল ছাড়েননি। সবার মনে তিনি সাহস সঞ্চার করেন, অনুপ্রেরণা যোগান।

সেখান থেকে ফিরে তিনি নিজের যোগ ব্যায়ামের সফরটা ডকুমেন্টেশনের কাজে ব্যস্ত হয়ে যান। ইন্সটাগ্রামে তার পেজ ‘ইয়োগাফরঅলমুম্বাই’-এ গেলে বোঝা যায় এই প্রকাণ্ড শরীর নিয়ে তিনি আক্ষরিক অর্থেই সব করে ফেলতে পারেন। আর এই যোগ ব্যায়ামের ফলে রোজ শতশত ইতিবাচক বার্তা স্যোশাল মিডিয়ার সুবাদে পাচ্ছেন ডলি।

ইন্সটাগ্রামে তাঁর একটা পাবলিক যোগ ব্যায়ামের সেশন আছে, যার নাম ‘কার্ভি যোগি’। ডলি বলেন, ‘আমি শুধু মোটা আর গোলগাল নই, প্রচণ্ড শক্তিশালীও। ‘ আর ডলির এই শারীরিক সক্ষমতা এখন তাঁর মানসিক দৃঢ়তার কারণ। তাই এখন নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে ভালবাসেন তিনি। এখন মোটর বাইক চালানোটাও শিখে ফেলেছেন।

মোটা হওয়া নিয়ে যারা বিব্রত তাদের মনে নতুন আশার যোগান দিয়েচেন ডলি। তিনি বুঝিয়েছেন – ওজন কমানো নয়, ইতিবাচক থাকতে পারাটাই মূল ব্যাপার। ডলি ইতিবাচক থেকেছেন সপ্তাহে পাঁচবার যোগ ব্যায়ামের ম্যাটে মনোনিবেশ করে। আপনি কিভাবে করবেন? সিদ্ধান্তটা নিতে হবে আপনাকেই!

– কেনফলিওস.কম অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com