মেসি কেন ম্যারাডোনার পেছনে থাকবেন?

প্রথমে কিছু পরিসংখ্যান না টানলেই নয়।

  • আর্জেন্টিনার হয়ে ম্যারাডোনার গোলসংখ্যা ৯১ ম্যাচে ৩৪ টি। মেসির ১২২ ম্যাচে ৬১ টি।
  • আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ম্যারাডোনার গোল্ডেন বল ১ টি, মেসির ২ টি।
  • যতদূর জানি আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশী অ্যাসিস্টও মেসির।
  • সাউথ আমেরিকার বাছাইপর্বে সবচেয়ে বেশি গোল মেসির।
  • ১৯৮৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশী অ্যাসিস্ট ম্যারাডোনার। আবার ২০১৪ বিশ্বকাপে টানা চারবার ম্যান অব দি ম্যাচের রেকর্ড মেসির।
  • কোপা আমেরিকাতে টানা তিন টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশী অ্যাসিস্টের রেকর্ড মেসির। ২০১১ তে ৩ টি, ২০১৫ তে ৩ টি, ২০১৬ তে ৪ টি।

এখন বাকিদের কিছু কথা যুক্তি দেই। এগুলোর সাথে আমি একমত না।

  • বিশ্বকাপ ম্যারাডোনা জিতেছে কারণ তার দলের সতীর্থরা ভালো খেলেছে। ফাইনালে ম্যারাডোনা গোল করেন নি। বুরাচাগা গোল দিতে না পারলে কি ম্যারাডোনা বিশ্বকাপ জিততে পারতো?
  • হিগুয়েন যে মিস করেছে তা না করলে মেসিরও বিশ্বকাপ থাকতো। আর মেসির পরিসংখ্যানেও অ্যাসিস্ট যোগ হতো।
  • টুর্নামেন্ট জয় দলীয় সফলতা। এটা দিয়ে একজন খেলোয়াড়ের পারফর্মেন্স বিচার করা ঠিক না।
  • আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি আর ম্যারাডোনার গুরুত্ব কিংবা অবদান সমান। কেউ কারো চেয়ে কম নয়।

এবার আমার প্রশ্নে আসি। দু’জন খেলোয়াড় কখনোই সমান হতে পারেন না। একটু কম বেশি থাকবেই। আর উপরের যুক্তি গুলোর সাথে কেউ একমত হতে পারেন, আবার নাও হতে পারেন। আমি নিজেই যেমন একমত নই। কারো কারো নিজস্ব কিছু যুক্তিও থাকতে পারে। আমি প্রশ্ন গুলো করছি শুধু মাত্র আপনার দৃষ্টিভঙ্গী টা বুঝার জন্য আর আমার কিছু খটকা ক্লিয়ার হবার জন্য। প্রশ্ন শুরু করি।

  • যদি ১০০ তে মার্কিং করা হয় তাহলে শুধুমাত্র আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মেসিকে কত দিবেন আর ম্যারাডোনাকে কত?
  • যদি মেসিকে এগিয়ে রাখেন তাহলে তার কারণ কি আর ম্যারাডোনাকে এগিয়ে রাখলেও কারণটা কি?

এবার উত্তরে আসি। অবশ্যই আমি ব্যক্তিগত ভাবে ম্যারাডোনাকে এগিয়ে রাখবো। ফুটবলকে পরিসংখ্যান দিয়ে বিবেচনা করা বোকামি হবে। ম্যারাডোনাকে কেন এগিয়ে রাখছি? কারণ, বুরোছাগা গোল না করলে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিততে পারতো না, আর হিগুয়েন গোল করলেই আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতে যেত। এখানে কৃতীত্ব দিতে হবে ম্যারাডোনার নেতৃত্বে’র।

ম্যারাডোনার উপস্থিতে যেমন প্রতিপক্ষ আঁতকে উঠতো, তেমনি তার উপস্থিতে পুচকে খেলোয়াররাও ভালো খেলোয়াড়দের চেয়েও জ্বলে উঠে। এর স্পষ্ট উদাহরণ হল বুরোছাগা। অন্যদিকে মেসির উপস্থিতে প্রতিপক্ষ আঁতকে উঠছে ঠিক, কিন্তু নিজ দলের ভাল খলোয়াড়রা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাও খেলতে পারেন না। যেমন, হিগুয়েন, অ্যাগুয়েরো।

মেসি আর ম্যারাডোনার মাঝে সবচেয়ে বড় পার্থক্যতাই হল নেতৃত্বে। ৮৬ বিশ্বকাপে একমাত্র ম্যারাডোনা বাদে আর্জেন্টিনা দলের কেউই অলস্টার দলে কখনো সুযোগ পাননি। ম্যারাডোনা যে একাই বিশ্বকাপটা এনে দিয়েছিলেন সেটা তাই না বললেও চলে।

অথচ ২০১৪ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বলের জন্য ১০ জনের তালিকায় আর্জেন্টিনা দল থেকে মেসি বাদেও ডি মারিয়া, মাশ্চেরানো ছিল। বিশ্বকাপ জিতলে হয় তো রোমারিও গোল্ডেন গ্লাভস্টাও পেয়ে যেত। ১৪ বিশ্বকাপ জিতলে হিগুয়েন,মাশ্চেরানোরা কিংবদন্তিদের তালিকায় চলে যেত।

যেকোনো সর্বকালের সেরা একাদশে অনায়াসে জায়গা পান ম্যারাডোনা, মেসি নন। মেসির তুলনা হয় ম্যারাডোনার সাথে। আর ম্যারাডোনার তুলনা হয় পেলের সাথে। পার্থক্যটা এখানেই স্পষ্ট।

কৃতজ্ঞতা: আকতার আর হোসাইন

https://www.mega888cuci.com