মুমিনুলের বাদ পড়াকে আনলাকি বলতে পারেন না: নান্নু

টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে ধারাবাহীক ব্যাটসম্যানদের একজন মুমিনুল হক সৌরভকে বাদ দেওয়া হল সেই টেস্ট স্কোয়াড থেকেই। ২২ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৪৬.৮৮ গড়, চারটি সেঞ্চুরি ও ১১ টি হাফ সেঞ্চুরির সৌজন্যে যার ১৬৪৮ রান; তিনি কেন বাদ পড়লেন? ব্যাখ্যা কী? প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুকে অনেক তোপ সামলাতে হল সংবাদমাধ্যমের।

প্রশ্ন-পাল্টা প্রশ্নের জবাবে লম্বা এক ব্যাখ্যা দিলেন তিনি –

মুমিনুলের সামগ্রিক যে ফর্ম, আমাদের কাছে যে স্ট্যাট আছে… জানুয়ারি থেকে শ্রীলঙ্কা সিরিজ পযর্ন্ত। ছয় ইনিংসে ওর একটি মাত্র ফিফটি। এ পারফরম্যান্সের জন্য মুমিনুল নেই। তবে সে যে আমাদের চোখের আড়াল হয়ে গেছে তেমনটা নয়। আমাদের যখন যাকে লাগে আমরা তখন তাকে ব্যবহার করতে পারব।

সামগ্রিক পারফরম্যান্সের জন্য মুমিনুল বাদ। ও যেই জায়গা ব্যাট করছে সেই জায়গায় সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস ভালো করছে। সৌম্যর আট টেস্টের চারটিতে ফিফটি রয়েছে। ওর গত ৪৫.৭৫। এ কারণে মুমিনুল বিবেচনার নিচে চলে গেছে। এছাড়া ঘরের মাঠে ইমরুলের পারফরম্যান্সও যথেস্ট ভালো। মাঝে ইনজুরির কারনে অনেক গুলো ম্যাচ মিস করেছে। সার্বিক ফর্মের জন্য ওকে নিচে রাখা। ব্যাক টু ব্যাক যে খেলোয়াড়গুলোকে পুলের মধ্যে রাখি মুমিনুল কিন্তু আমাদের প্রথম পছন্দ। প্রথম টেস্টের জন্য বিবেচনায় আনিনি বলে যে মুমিনুল হকের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে এমনটা মনে করার কারণ নেই।

ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের সঙ্গে খেলার পর আমরা কিন্তু আরও টেস্ট ম্যাচ খেলেছি। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পযর্ন্ত ওর পারফরম্যান্স বিবেচনায় ওকে বাদ দেয়া হয়েছে।

টিম ম্যানেজম্যান্টেরও একটা পরিকল্পনা আছে বিভিন্ত খেলোয়াড় নিয়ে। টিম ম্যানেজম্যান্টের সঙ্গে আলোচনা করেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কোচও নির্বাচক প্যানেলের অন্তভূক্ত। একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে যদি এভাবে জিজ্ঞেস করা হয় তাহলে কিন্তু উত্তর দেয়া সম্ভব না।

আমাদের হেড কোচ সিলেকশন প্যানেলের অন্তভূক্ত। টিম ম্যানেজম্যান্ট একাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওয়ানডে ক্রিকেট আর টেস্ট ক্রিকেটের পারফরম্যান্স আমরা একসঙ্গে বিবেচনায় আনিনি। তিন ফরম্যাটকেই আলাদা করে দেখা হচ্ছে। সার্বিক সবকিছু চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কিছু খেলোয়াড়ের পজিশন কিন্তু টিম ম্যানেজম্যান্ট ঠিক করে। এটা সিলেকশন থেকে কিন্তু যায় না। টিম ম্যানেজম্যান্টের একটা পরিকল্পনা থাকে, হেড কোচের একটা চাওয়া থাকে। সেই অনুযায়ী কিন্তু আমাদের কাচ করতে হয়।

আমাদের কাছে যদি ১৮টা খেলোয়াড় থাকে… অবশ্যই আমাদের চ্যালেঞ্জ থাকে আমরা কাকে নিব কাকে নিব না। এটা দলের জন্য ভালো দিক। একটা প্লেসে দুজন-তিনজন করে আলোচনা হচ্ছে। এমন খেলোয়াড় আছে যাদেরকে আপনি নিতে বাধ্য। শেষ পযর্ন্ত বেছে নিতে হবে। আমাদের ১৮ টা খেলোয়াড় আছে সেখান থেকে আমাদেরকে ১৪জন বেছে নিতে হবে। এদের মধ্যে একজনকে বাদ দিচ্ছি তার মানে এই নয় যে আমরা তাকে চোখের আড়াল করে দিচ্ছি। যাকে যখন টিমের স্বোথে, দেশের স্বাথে লাগবে তাকে আমরা নিব।

এটা আমাকে এভাবে জিজ্ঞেস করতে পারেন না। আমাদের হেড কোচ আছে তাকেও জিজ্ঞেস করতে পারেন। মুমিনুলের ..আপনারা ওর স্ট্যাটের দিকে যাচ্ছেন না। গত এক বছরে ওর গড় ২৮ এ নেমে এসেছে। ও যেভাবে ওর ক্যারিয়ার স্টার্ট করেছে সেভাবে কিন্তু খেলতে পারছে না। ওকে নিয়ে কিন্তু আমাদের সামনে অনেক চিন্তা ভাবনা আছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ওকে যেন নিতে পারি সেজন্য আলোচনা হয়েছে। এটা না যে ওর ক্যারিয়ার আমরা এখানেই শেষ করে দিচ্ছি।

মুমিনুলকে কিন্তু মোরালি আমরা সব সময় সাপোর্ট করেছি। আমি হাবিবুল বাশার সুমন সব সময় ওকে সাপোর্ট করি, আলোচনা করি। ওর ব্যাটিং দেখি। শ্রীলঙ্কা থেকে ওকে ফিরিয়ে আনি ওকে আমরা ইমার্জিং কাপে খেলার সুযোগ তৈরি করে দেই। এটা এমন না যে আমরা ওকে চোখের আড়াল করে দিয়েছি। যেহেতেু ১৪ জনের স্কোয়াড, সেখানে একজন বাড়তি ওপেনার, একজন বাড়তি ব্যাটসম্যান নেয়ার সুযোগ কম হয়।হয়ত আগামী সিরিজেই ওকে আমরা দেখতে পারি।

এ টেস্টে মুমিনুলের বাদ যাওয়াকে আনলাকি বলতে পারেন না। ওর থেকে অনান্য খেলোয়াড়রা একটু উপরের দিকে রয়েছে। আমি যেটা বিশ্বাস করি একটা খেলোয়াড়কে সব সময় অগ্রাধিকার দেয়া উচিত ওর পারফরম্যান্স বিবেচনা করে। একটা ব্যাটসম্যান যদি ধারাবাহিকভাবে চার-পাঁচ ম্যাচে রান না করে  তাহলে তার আত্মবিশ্বাসেও কিন্তু ঘাটতি থাকে। আর হোম সয়েলে প্রেসার থাকে সবথেকে বেশি। এ জিনিসগুলো চিন্তা করে এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো একটি দলের বিপক্ষে। সবগুলো বিষয় চিন্তা করে এবার মুমিনুল নেই।

https://www.mega888cuci.com