মিরপুরের সেঞ্চুরি ও বিসিবির বিপণন ব্যর্থতা

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। হোম অব ক্রিকেট। এই নামটা বললে একজনের নামটা আসতে বাধ্য। তিনি অবশ্য স্থানীয় কেউ নন, বরং জিম্বাবুয়ের হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। ওহ না, আরেকজন আছেন – ক্রিস্টোফর এমপফু।

কেন? কারণটা জানতে যেতে হবে একটু পেছনে। ২০০৬ সালের ৮ ডিসেম্বর। এই মিরপুরের সেদিন আন্তর্জাতিক অভিষেক হল, ওয়ানডে দিয়ে। সেই ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের দলে ছিলেন এই দু’জন। আজ, বুধবার যখন এই ভেন্যুটি যখন নিজেদের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখবে, তখনও থাকবেন তারা। নি:সন্দেহে তারা তাই বাড়তি বিশেষত্বই পেয়ে যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনেও তাই উচ্ছ্বাস ঝড়ে পড়লো মাসাকাদজার কণ্ঠে। তিনি বললেন, ‘একটা ঐতিহাসিক মুহূর্তের সঙ্গী হতে পারা অনেক বড় ব্যাপার। আমরা এখানকার প্রথম ম্যাচটাও খেলেছিলাম। তাই আমরা এখানে একটা ইতিহাসের সঙ্গী হতে পারছি।’

সেই প্রথম ম্যাচটায় খেলা মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম এবারো আছেন। তবে, ম্যাচটা যে এবার শ্রীলঙ্কার সাথে। নিজেদের ভেন্যুর সেঞ্চুরির ম্যাচে বাংলাদেশ তাই স্রেফ দর্শক। তা তো, আছেই ম্যাচটিকে ঘিরে কোনো বাড়তি উন্মানদা বা বাড়তি আয়োজন নেই দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি)।

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচ ভুগেছে দর্শক সংকটে। আজো তেমন কিছু একটা ঘটলে অবাক করার কিছু নেই। বিসিবির যে তেমন কোনো প্রচারণাই নেই। চাইলেই এই ম্যাচটাকে ঘিরে বাড়তি হাইপ তোলা যেত। চাইলেই অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের সম্মাননা, বিশেষ মেডেল জাতীয় কিছু দিয়ে ম্যাচটা মনে রাখার মত করে রাখা যেত।

বাংলাদেশের শততম টেস্টে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) যা করেছিল আর কি। আমাদের শততম টেস্টের উদযাপন করে একই সৌজন্যতা আর বিপণন – দু’টোই সেরে নিয়েছিল এসএলসি। বিসিবি সেই উদযাপন দেখেছিল, তবে কিছু শিখতে পারেনি। তার ওপর ক’দিন আগেই আউটফিল্ড নিয়ে আইসিসির সতর্কবার্তা পাওয়া বিসিবির এই প্রচারণা গোটা দুনিয়ার কাছেও মাঠের ভিন্ন একটা চিত্র সামনে তুলে ধরতে পারতো। কিন্তু, এই সামান্য অথচ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটা তাঁদের মাথাতেই আসলো না!

মাঠে বাংলাদেশ এখন বড় শক্তি হয়ে ওঠার পথে। মাঠের বাইরে বিসিবিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন ও আইসিসিতে বাড়তি সম্মান পায়। তাদের কথা বলার সুযোগ বা মর্যাদাও আগের চেয়ে বেশি। এবার বিপণন, নিজেদের মাঠে আরো বেশি দর্শক আনার কৌশলগুলোও শিখে ফেলাটাও জরুরী।

এই মাঠে এখন অবধি ৮৪ টি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। এছাড়া বাকি ১৫টি ম্যাচ ছিল নিরপেক্ষ ম্যাচ—যেখানে বাংলাদেশ দর্শক ছিল। এই স্টেডিয়ামে এখন পর্যন্ত ৫০টি ম্যাচে টসে জেতা দল আগে ফিল্ডিং করেছে। ৪৯ টি ম্যাচে টসে জেতা দল ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মিরপুরে এখন পর্যন্ত ৭০ টি দিবা-রাত্রির ম্যাচ হয়েছে এবং ২৯ টি হয়েছে ডে-ম্যাচ। এই মাঠে পরিত্যক্ত ম্যাচের হার খুবই কম। গত ৯৯ ম্যাচে মাত্র একটি ম্যাচের ফলাফল হয়নি। বাকি ৯৮টি ম্যাচেই ফলাফল এসেছে।

এখানে সর্বোচ্চ রান তামিম ইকবালের ২৩৮৯। দ্বিতীয় স্থানে আছেন ২২৫১ রান করা সাকিব আল হাসান। আবার ১০৬ উইকেট নিয়ে এই স্টেডিয়ামের সর্বাধিক উইকেট শিকারি সাকিব আল হাসান। এখানে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ৮৫ উইকেট নেওয়া মাশরাফি বিন মুর্তজা।

এই স্টেডিয়ামে সবচেয়ে বড় ইনিংসটা খেলেছিলেন শেন ওয়াটসন—১৮৫ অপরাজিত। সেরা বোলিং ছিল স্টুয়ার্ট বিনির; ৪ রানে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। এর কোনোটাই বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয় কোনো ম্যাচ নয়। আজকেরটাও ম্যাচ বিবেচনায় স্মরণীয় হচ্ছে না। আর এর দায়টা কিছুটা হলেও বিসিবির।

https://www.mega888cuci.com