মাশরাফি না ম্যাশট্রফি

ঢাকা ডায়নামাইটসকে করতে হত ২০৭ রান। লক্ষ্যটা বিশাল, তাই শুরুটা দুর্দান্ত করা প্রয়োজন সাকিব আল হাসানের দলের। কিন্তু হল উল্টোটা!

বল হাতে রংপুর রাইডার্সকে দারুল সূচনা এনে দেন দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ইনিংসের তৃতীয় বলেই ঢাকার ওপেনার মেহেদি মারুফকে শুন্য হাতে ফিরিয়ে দেন তিনি। ফেলেন লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। যেখানে ক্রিস গেইল একাই করেছিলেন ১৪৬ রান, সেখানে ঢাকা নয় উইকেট হারিয়ে করতে পারলো ১৪৯ রান।

ব্যস, প্রথমবারের মত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) শিরোপা হাতে নিল রংপুর রাইডার্স। ৫৭ রানের বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে মাশরাফি অধিনায়ক হিসেবে চতুর্থ বারের মত এই ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ট্রফি উঁচু করে ধরলেন মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

বিপিএলের প্রথম দুই আসরে, মানে ২০১২ ও ২০১৩ সালে মাশরাফি খেলেছিলেন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে। দু’বারই দলটি শিরোপা ঘরে তোলে নড়াইল এক্সপ্রেসের নেতৃত্বে।

স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে এরপরের দু’বছর মাঠেই গড়ায়নি বিপিএল। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স এর সাথে জড়িত থাকায় তাদের মালিকানাও বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়।

২০১৫ সালে মাশরাফির ঠিকানা হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। যদিও, সেবার দলটি টার্গেট করেছিল সাকিব আল হাসানকে। সেটা না হওয়ায় নাফিসা কামালের দল নেয় মাশরাফিকে।

দলটা ছিল সাদামাটা। অথচ, সেই তারকাশুণ্য দল নিয়ে স্রেফ অধিনায়কত্বের জোর দিয়ে মাশরাফি দলকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে দিলেন। একই সাথে ব্যাটিং-বোলিংয়েও হলেন প্রশংসিত। মাশরাফিই যে দেশের সেরা অধিনায়ক সেটা আরেকবার নতুন করে প্রমাণিত হল।

এরপরের বছরের বিপিএলটা মাশরাফি নি:সন্দেহে ভুলে যেতে চাইবেন। বিপিএলে সেবারও ছিলেন কুমিল্লাতে। শুরু থেকেই টানা হার দেখতে হয়েছিল তাকে। মাঠের বাইরেও মালিক পক্ষের সাথে মাশরাফির সম্পর্কের অবনতি হয়। শেষের দিকে টানা জয় নিয়ে লড়াইযে ফিরলেও সেটা যথেষ্ট ছিল না। শেষ চারের লড়াইয়ে যাওয়ার আগেই বিদায় নিতে হয় কুমিল্লা ও মাশরাফিকে।

পঞ্চম আসরটায় অনুমিত ভাবেই মাশরাফি আর থাকলেন না কুমিল্লায়। গন্তব্য হল রংপুর। তারকাখঁচিত দল, তারাই যে অন্যতম ফেবারিট তাতে সন্দেহ ছিল না। কিন্তু, প্রথম দিকের অনেকগুলো ম্যাচ সঠিক টিম কম্বিনেশন খুঁজে পেতে অনেক বেগ পেতে হয়েছিল তাদের।

তবে, মাশরাফি যেন কাটাচ্ছিলেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে নিজের সেরা সময়। বল হাতে মিতব্যয়ী বোলিং করেছেন, উইকেট পেয়েছেন। একই সাথে ব্যাটিংয়ে নেমে দলকে বেশ কয়েকটা ম্যাচও জিতিয়েছেন।

আর শেষের দিকে আসলো গেইলের ঝড়। সাথে যোগ হলেন জনসন চার্লস ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামরা। সেখানে ডায়নামাইটসের মত শক্তিশালী দলও উড়ে গেল।

তাই, মাশরাফিকে আরেকবার কুর্ণিশ করতে হয়। মাশরাফি নামটা পাল্টে এখন যদি কেউ তাকে ম্যাশট্রফিও ডেকে বসে তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই!

https://www.mega888cuci.com