মাতৃত্বকালীন ছুটিতে মিলিয়ন ডলারের স্টার্টআপ

সময়টা ২০১১ সাল। তখন সবাই ঝুকছিল ই-কমার্সের দিকে। যদিও, ক্যাটালগ দেখে দেখে জামা কাপড় ও অন্যান্য আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র কেনাকাটার স্বাদ তাতে ছিল না। এই গ্যাপটা নজরে আসে সূচি মুখার্জীর। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থেকে যখন তিনি একদিন ম্যাগাজিনের পাতা উল্টাচ্ছিলেন, তখন বিষয়টা তার মাথায় আসে।

হ্যা, সেই সময় যখন কাজের প্রেশার, উদ্বেগ ভুলে একজন মানুষ শুধুই আরাম করতে চায় তখনই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন সূচি। ই-ফ্যাশনের বাজারে বিনিয়োগ করা খুব ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে, সূচির ইচ্ছাশক্তিকে স্যালুট জানাতেই হয়। কারণ তিনি শুধু সফলই হননি, উপহার দিয়েছেন জনপ্রিয় একটা প্ল্যাটফরম।

২০১২ সালে এসে তিনি নিজের দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। একই সাথে তিনি মেয়েদের ফ্যাশনের জন্য জন্ম দিয়েছেন ‘লাইমরোড’ নামের একটি প্ল্যাটফরমের, যেটা কেনাকাটার আগে কাজ করে ভার্চুয়াল স্ক্র্যাপবুকের মত। ফ্যাশনেবল নারীরা কোনো পণ্য যেমন পোশাক আশাক বা এক্সেসরিজ কেনার আগে তাতে নিজেকে কেমন লাগবে সেটা এই প্ল্যাটফরমের মধ্য দিয়ে ভার্চুয়ালি যাচাই করে নিতে পারেন।

এই কাজে সূচির সাথে ছিলেন লাইমরোডের কো-ফাউন্ডার প্রসান্ত মালিক, যিনি আগে কাজ করতেন ফেসবুকে। আরেকজন কো-ফাউন্ডার হলেন রিলায়েন্স হাইপারমার্কেটের সাপ্লাই চেইনে কাজ করা অঙ্কুশ মেহরা। তারা মিলে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফরম উপহার দেন।

সূচি বলেন, ‘কোনো উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আপনার ভেতরে লড়াই করার জিন থাকতে হয়। যখন আমি আমার মাকে বলি, আমি ভারতে ফিরে এসে নিজের একটা আলাদা ব্যবসা করতে চাই, তখন মা বলেছিলেন “সর্বনাশ”!’ উপমহাদেশীয় সমাজে সেটা বলাটা খুব অস্বাভাবিক নয়।

আর এমন একটা উদ্যোগের সিদ্ধান্ত ৩৯ বছর বয়সে এসে মানুষ খুব কমই নিয়ে থাকেন। আর যখন কারো ১৬ বছরের লম্বা আর সফল ক্যারিয়ার থাকে তাঁর তো এসব নিয়ে ভাবারই কথা নয়। তারপরও সূচি ভেবেছিলেন।

এই কাজ শুরু করার আগে তিনি যুক্তরাজ্যে ১৬ বছর যুক্ত ছিলেন ভার্জিন মিডিয়া, স্কাইপে, ইবে ও গামট্রি’র মত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের পদে। সেসব ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে সূচি ঝুঁকি নিয়েছেন। নিজের ভবিষ্যৎ পাল্টে ফেলার সাথে সাথে ভোল পাল্টে দিয়েছেন ভারতের ই-কমার্সের চিত্রও।

লাইমরোডের তিন উদ্যোক্তা

লাইমরোডের প্রধান নির্বাহী সূচির পড়াশোনো লন্ডনে। সেখানে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সে তিনি পড়েছেন ফিন্যান্স নিয়ে। লাইমরোডের পথে তিনি অনেক চ্যালেঞ্জ উৎরেছেন, সামনে অপেক্ষা করছে আরো অনেক চ্যালেঞ্জ। তবে, আশার ব্যাপার হল এখন এই প্ল্যাটফরমে প্রতি মাসে এর ব্যবহারকারীরা আড়াই লাখের বেশি ভিজুয়াল কনটেন্ট আপলোড করেন।

এখন এই স্টার্টআপ উদ্যোগের বাজারদর ১০ মিলিয়ন ডলার। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে বসে স্রেফ একটা ভাবনাই পাল্টে দিল ভারতের স্যোশাল ই-কমার্সের ভবিষ্যৎ!

– কেনফলিওস.কম অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com