ব্রিটিশ রাজ পরিবারের যত আদিখ্যেতা

ব্রিটিশ রাজ পরিবারের প্রত্যেকেই ‘পাবলিক ফিগার’। প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা ভাবে একেকজন তারকা। তবে, তাদের জীবনযাত্রার সাথে আর দশজন সেলিব্রিটির কোনো মিল নেই। পারিবারিক, সামাজিক জীবনে তাদের বাড়তি কিছু প্রটোকল মানতে হয়। এমনই ডিপ্লোম্যাটিক অনুষ্ঠান কিংবা বিদেশ ভ্রমনেও আছে আলাদা নীতি। ব্রিটিশ রাজ পরিবারের তেমন সব অজানা অধ্যায় নিয়ে আমাদের এই আয়োজন।

রাজ পরিবারের কারোই মনোপলি খেলার ‘অধিকার’ নেই।২০০৮ সালে ইয়র্কের ডিউক প্রিন্স অ্যান্ড্রু এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, ‘আসলে এটা অতিমাত্রায় দুষিত একটা খেলা।’

ব্রিটিশ রাজপরিবার পোশাকের ব্যাপারে রক্ষণশীল। যদিও, রানী এলিজাবেথ দ্বিতীয় খুব উজ্জ্বল রংয়ের পোশাক পরতে ভালবাসেন। টকটকে লাল, লেমন, হলুদ কিংবা হালকা নীল রং রানীর খুব পছন্দ। এমন পোশাক তিনি পরেন, যাতে করে দূর থেকেও কেউ বুঝতে পারেন যে, রানী আসছেন। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমি হালকা রঙের পোশাক একেবারেই পরতে পারি না। ওভাবে কেউ আমাকে দেখে অভ্যস্ত নয়।’

রানী দু’টি ভিন্ন জন্মদিন পালন করেন। একটি তার আনুষ্ঠানিক জন্মদিন, যেটা কমনওয়েলথ দেশগুলোতে ‘বিভিন্ন তারিখে’ পালিত হয়। আরেকটা হল তার সত্যিকারের জন্মদিন। সেটা হল ১৯২৬ সালের ২১ এপ্রিল। সেদিন খুবই ঘরোয়া পরিসরে পরিবারের সাথে দিনটি উদযাপন করেন তিনি।

বাইরের কেউ চাইলেই রাজ পরিবারের কোনো সদস্যকে ছুঁতে পারেন না। যদিও, আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার যুগে এসে প্রায়ই এই নিয়ম ভঙ্গ হয়। বিশেষ করে, রাষ্ট্র প্রধান বা অন্যান্য সেলিব্রিটিদের সাথে সাক্ষাতে এটা বেশি হয় আজকাল।

উপহার, সেটা যেমনই হোক না কেন প্রটোকল অনুযায়ী রাজপরিবারের কোনো সদস্য সেটা গ্রহণ করতে বাধ্য। সেই উপহারের ভাগ্য নির্ধারণ করেন খোদ রানী। কারণ, উপহারের মালিক রাজতন্ত্র। বুঝুন অবস্থা!

রানীর সাথে ডিনার করার সুযোগ ক’জনারই বা হয়। তবে, নিশ্চিত করে বলা যায় অভিজ্ঞতাটা সুখকর হবে না। কারণ, রানীর খাওয়া শেষ হওয়া মাত্রই আপনাকে প্লেট-চামচ ছেড়ে দিয়ে খাওয়া বন্ধ করতে হবে। এই নিয়ম সাধারণ মানুষ তো বটেই, রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

ব্রিটিশ পাসপোর্ট ইস্যু করা হয় রানীর নামে। তাই বলাই বাহুল্য যে, রানীর বিদেশ ভ্রমণ করতে কোনো পাসপোর্টের দরকার হয় না। ভ্রমণ করার সময় স্রেফ কোনো কয়েক বা ব্যাংক নোট দেখালেই চলে। কারণ, সেখানেই তার ছবি থাকে। আসলে এই কয়েন-নোট দেখানোর নিয়মটাও টিকে আছে স্রেফ কাগজে-কলমে। বাস্তবে এরও কোনো প্রয়োজন নেই। রানী কে চেনেন না, এমন লোক তো পৃথিবীতেও নেই। তবে, রাজ পরিবারের অন্যদের বিনা পাসপোর্টে ভ্রমণের সুযোগ নেই।

রাজপরিবারের সদস্যরা ঠিক বসে বসে খান না। বরং তাদের নিজস্ব আয়ের উৎস আছে। মূলত কিছু ‘রেসিডেনশিয়াল প্রোপার্টি’ যেমন নরফোকের স্যান্ড্রিঘাম হাউজ, এবারডিনের ব্যালমোরাল ক্যাসল থেকে এই আয় আসে। এছাড়া খালি জমিতে হয় চাষাবাদ।

রানীর আয়ের মূল উৎস হল ‘দ্য সোভেরেইন গ্রান্ট’। এটা হল দেশের করের ১৫ শতাংশ। ১৭৬০ সাল থেকে জমির মালিকানা থেকে থেকে পাওয়া যুক্তরাজ্যের করের একটা অংশ পেয়ে আসছেন রানী। এছাড়া রাজ পরিবারের স্ট্যাম্প কালেকশন, গয়না, গাড়ী, ঘোড়া, রানীর মায়ের ঐতিহ্যও রানীর সম্পদের অংশ।

রানীই একমাত্র ব্যক্তি যিনি কোনো লাইসেন্স ছাড়া গাড়ী চালানোর অধিকার রাখেন। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এলিজাবেথ অ্যাম্বুলেন্সু চালিয়েছেন। তখন তার কোনো লাইসেন্স ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ওই সময় সিট বেল্টও বাঁধতেন না রানী।

রাজ পরিবারের কোনো সদস্য চাইলেই বিয়ে করতে পারেন না। এজন্য তাদের ‘ইনহেরিটেন্স অ্যাক্ট’ নামক একটা আইন মানতে হয়। বিয়ে করতে অন্তত ২৫ বছর বয়স হতে হবে। তারপরও আগে যদি মুকুটের ভাগীদারদের মধ্যে (line to the throne ) বিবাহ উপযুক্ত ছয়জন থাকে, তাহলে বিয়ে করা যাবে না। তবে, সেক্ষেত্রে বিশেষ একটা ‘এস্কেপ গেট’ আছে। তার জন্য লাগবে রানীর দেওয়া ‘ম্যারিজ লাইসেন্স’।

পরিবারের ভেতরে কেউ বিয়ে করলে তিনি সিংহাসনের উত্তরাধিকার হবে না। এই নিয়মটা রানী নিজেও মেনেছেন। তার স্বামী প্রিন্স ফিলিপস হলেন ‘কিং-কনসর্ট’, যার ফলে তিনি কখনো রাজা হতে পারবেন না। একই নিয়ম প্রিন্স উইলিয়ামের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। উইলিয়াম রাজা হলে ক্যাথরিন, ডিউচেস অব ক্যামব্রিজের পদবী পাল্টে গিয়ে হবে ‘কুইন-কনসর্ট’।

ব্রাইট সাইড অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com