বাচ্চার চেয়ে বাচ্চার বাবারাই বেশি স্ট্রেস দেয়!

মায়েরা প্রায়ই মজা করে বলেন, বাড়িতে আসলে তাঁকে একটা বাড়তি বাচ্চার ভরণ-পোষণ করতে হয়। সেটা আর কেউ নন, তার নিজের স্বামী। কারণ, স্বামীরাই বেশি স্ট্রেস দেন তাঁদের। তবে, বিষয়টা ঠিক মজা নয়, রীতিমত জরিপ করে প্রমাণিত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৭০০০ হাজার নারীকে এই প্রশ্নটি করা হয়েছিল। আর এর মধ্যে শতকার ৪৬ শতাংশ নারী বলেছেন, সন্তানের চেয়ে তাদের বাবারাই বেশি স্ট্রেস দেন তাদের। ডেনো ফ্লেনো নামের এক মা বলেন, ‘একটা সাত বছরের বাচ্চা তো সাত বছরের বাচ্চার মতই আচরণ করবে। কিন্তু, একজন ৩৫ বছর বয়সী কেউ যখন সাত বছর বয়সীদের মত আচরণ করে তখন ‍বুঝতেই পারেন বিষয়টা কতটা বিরক্তিকর।’

জরিপে স্ট্রেসের লেভেলে নিজেদের স্বামীদের এক বিন্দুও ছাড় দেননি এই নারীরা। স্ট্রেসের লেভেলে প্রত্যেকে গড়ে স্বামীদের ১০ এ দিয়েছেন সাড়ে আট! তারা জানিয়েছেন, সময়ের স্বল্পতার কারণে সাংসারিক ও পেশাদার অনেক কাজই তারা নিয়মমাফিক করতে পারেন না, যার ফলে তাদের স্ট্রেস আরো বেড়ে যায়। স্বামীর উপস্থিতি সেটা আরো বাড়িয়ে দেয়।

একজন নারী বলেন, ‘আমার স্বামী বাসায় ফিরলে আমার শারীরিক ও মানসিক ভাবে খুব বিপর্যস্ত লাগে। ওকেও আরেকটা চাকরি বলে মনে হয়।’

সংসারের কাজকর্ম ৭৫ শতাংশ আমেরিকান নারীর স্ট্রেসের কারণ। তাদের দাবী সংসার ও ঘরের সিংহভাগ কাজ তাদেরিই করতে হয়। পাঁচ জনের মধ্যে একজন নারী জানান, এর পেছনেও দায়ী তাদের স্বামীরা। কারণ, ঘরের কাজে স্বামীদের কাছ থেকে তারা যথেষ্ট পরিমান সাহায্য পান না।

দুই তৃতীয়াংশ বাবা মুখে মুখে মায়েদের বাহবা দেওয়াকেই দায়িত্ব পালন বলে মনে করেন। তাই মায়েদের দাবী এই ‘ড্যাড স্ট্রেস’-এর সাথে অন্য কোনো কিছুর তুলনা হয় না। অধিকাংশের মতে, সন্তানের চেয়ে তাদের বাবারা দ্বিগুন পরিমান স্ট্রেস দিয়ে থাকে।

কয়েকজন ত্যক্ত-বিরক্ত মায়ের কথা তুলে দিচ্ছি, তাতেই বিষয়টা পরিস্কার হয়ে যাবে।

‘আমি আমার সংসার-স্বামীর ব্যাপারে খুব কমিটেড। কিন্তু, সব সময় আমার ওপরই সব ঠিক ঠাক করার চাপটা থাকে। আমার স্বামীর সমপরিমান কাজই আমি করি। তারপরও, সব কিছু সময়মত করার দায়িত্ব আমার একার।’

‘প্যারেন্টিংয়ের অনেক কিছুই আমি নিজে নিজে বুঝে নিয়েছি। আর সেটা করেছি আমার স্বামীর কোনো রকম সাহায্য ছাড়াই। এটা খুবই বিরক্তিকর যে, যখনই কোনো কিছু ওলট-পালট হয় সব দোষ আমার ঘাড়ে এসে পড়ে।’

‘ও যখন-তখন নিজের জন্য প্রচুর সময় পাই। আর আমি কিছুই পাই না। এমনকি খুব রিল্যাক্স করে গোসলটাও করতে পারি না। ওই সময়ও আমার স্বামী বাচ্চাকে আমার কাছে নিয়ে আসে।’

‘মাঝে মাঝে মনে হয়, বাড়িতে একমাত্র আমিই প্রাপ্তবয়স্ক। আমার মনোযোগ আকর্ষণের জন্য বাবা আর মেয়ে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করে।’

– প্যারেন্টিংইজেন্টইজি.কো অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com