বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘আসল’ সমস্যা

খেলাধুলায় প্রতিপক্ষের সাথে ভালো রেজাল্ট করার ক্ষেত্রে নিজেদের খেলার সামর্থ্যের বাইরেও আরো কিছু ফ্যক্টর কাজ করে।

আপনার দলের খেলোয়াড়েরা কোন কন্ডিশনে ভালো করে, অথবা বিপক্ষে দলের খেলোয়াড়েরা কোন কন্ডিশনে খারাপ করে – এগুলোও অনেক বিষয় বিশ্লেষন করতে হয়। সবার শেষে এই বিশ্লেষনের পর যা বের হয় সেটা মাঠে গিয়ে কাজে লাগাতে হয়।

দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে  দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল মাঠে কোন কিছুই করতে পারে নি। এই সিরিজে বাংলাদেশ হেরেছে সেটা নিয়ে আমার মনে হয় সমর্থকদের মনে কোন হতাশা নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বশেষ সিরিজগুলোতে অন্যান্য এশিয়ান দলগুলোও হিমশিম খেয়েছে।

শ্রীলঙ্কা সর্বশেষ আফ্রিকা সফরে ৩-০ তে টেষ্ট সিরিজি হেরেছে, পাকিস্তান ৩-০ তে, ভারত ১-০ তে। উপমহাদেশের বাইরের দলগুলোর মাঝে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ কে হারিয়েছে ২-০ তে আর নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে ১-০ তে।

কেবলমাত্র অষ্ট্রেলিয়ার সাথে ২-১ এ আর ইংল্যান্ডের সাথে ২-১ এ সিরিজ হেরেছে। বাংলাদেশের সাথে সিরিজ হবার আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ঘরের মাঠে টানা দুটো সিরিজ জিতে ছিল।

যে দলগুলোর কথা বললাম টেস্ট ক্রিকেটে তাদের চেয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের স্কিলও বেশি নয়, বিরুদ্ধ কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও বেশি নয়, এমনকি ঐতিহ্যও বেশি নয়।

এত কমতি নিয়ে বাংলাদেশ কেবল একটা আশাই করতে পারতো, সেটা হচ্ছে যতটা সম্ভব ভালো খেলে কোন আপসেট যদি ঘটানো যায় সেটার জন্য অপেক্ষা করা। যদিও টেষ্ট ক্রিকেটে আপসেট খুব কদাচিত ঘটে।

কাজেই বাংলাদেশের হেরে যাওয়াতে সমর্থকেরা ব্যথিত হয়েছে সেটা খুব সম্ভবত ঠিক না।তবে সমর্থকরা ব্যাথিত হয়েছে হেরে যাওয়ার ধরণে। এভাবে হেরে যাওয়া মোটেও কাম্য ছিল না কারো কাছে।

খেলায় হার জিত থাকবেই। এসব কিছু ছাপিয়ে দুই টেষ্টেই টস জিতে ব্যাটিং এর পরিবর্তে বোলিং নেওয়া, বোলিং পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা, মুশফিকের বাউন্ডারিতে ফিল্ডিং করা এবং সর্বোপরি সংবাদ সম্মেলনে মুশফিকুর রহিমের কিছু বক্তব্য একটা অশনি সংকেত দেয় যে বাংলাদেশের ক্রিকেটটা আসলে যেভাবে চলা উচিত ঠিক সেভাবে চলছে না।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মুশফিকের অধিনায়কত্ব পছন্দ করি না। তবে আমি বিশ্বাস করি সবার নিজস্বতা আছে। মুশফিক আমার কিংবা আপনার পছন্দ মতো অধিনায়কত্ব করবেন না। তিনি তার মতো করে করতে চাইবেন সেটাই স্বাভাবিক। মুশফিক নিজের মতো করে যা করবে সেটাই সবার মেনে নেওয়া উচিত।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে মুশফিক কি নিজের মতো করে সব কিছু করতে পারছে?

এই যে টস নিয়ে এত কথা হচ্ছে। যে কোন মানুষেরই বুঝা উচিত যে টসের সিদ্ধান্ত অধিনায়কের একার নয়। এটা কোচ, অধিনায়ক, সহ অধিনায়ক এবং টিম ম্যানেজারের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। কাজেই দোষ যদি হয়ে থাকে তাহলে সেটার দায়ভার সবার, মুশফিকের একার নয়।

আমাদের দলটা অনেক দিন ধরেই ধীরে ধীরে একটা গোছানো দলে পরিণত হচ্ছিল। কিন্তু ক্রিকেটের বাইরের কিছু কর্মকান্ডে দলটাতে সমস্যা ঢুকে যাচ্ছে।

সমস্যা এটা নয় যে বাংলাদেশ খারাপ খেলেছে। সমস্যা এটা যে খেলোয়াড়রা এই পরিস্থিতিতে নিজেদের প্রতি হয়তো আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে। কারণ দলে টিকে থাকতে হলে কর্মকর্তাদের নির্দেশের বাইরে কেউ যেতে পারবে না।

যখন ক্রিকেটীয় কারণের চেয়ে বাইরের কোন কিছু আঘাত করে তখন সেটা ওভারকাম করা খুবই কষ্টকর। দলের সুসময়ে অনেককেই ক্রেডিট নেওয়ার জন্য এগিয়ে আসতে দেখা যায়। কিন্তু দুঃসময়ে তাদের আসল স্বরূপটা প্রকাশ পায়।

প্রশ্ন করার সময় এসেছে যে কোর্টনি ওয়ালশ বাংলাদেশের বোলারদের জন্য কতটুকু ফলপ্রসু হয়েছেন? চান্দিকা হাতুরুসিংহের একনায়কতন্ত্র কতটা ক্ষতি করে দিচ্ছে?

তামিম, সাকিব কিংবা মুশফিকের এটাই পিক টাইম। এই সময়ে বাংলাদেশ দল যদি তাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা বের করতে না পারে তাহলে সমস্যাটা খতিয়ে দেখাটা জরুরি ।

এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের জন্য সামনে ভয়াবহ দূর্দিনই অপেক্ষা করছে!

https://www.mega888cuci.com