বস্তিতে রাত কাটানোর ‘সুবর্ণ’ সুযোগ

ভারতের মুম্বাইয়ে বিদেশি ট্যুরিস্টদের জন্য থাকার জায়গার কোনো অভাব নেই। চাইলে আপনি সুরম্য পাঁচ তারকা হোটেল ‘দ্য তাজ’-এও থাকতে পারেন, চাইলে আপনি থাকতে পারেন বস্তিতে। না ভুল শোনেননি, চাইলে বিদেশি ট্যুরিস্টরা মুম্বাইয়ের বস্তিতে থাকতে পারবেন।

বস্তির জীবনটা আসলে কেমন হয়, সেটা বোঝা যাবে এই হোটেলে। আসলে এই থাকার জায়গাগুলো ঠিক হোটেল নয়, আসলে বস্তির পরিবারগুলো নিজেদের শোবার ঘরটা ভাড়া দিয়ে থাকেন বিদেশিদের কাছেই। সেটাই এখন মুম্বাইয়ের বস্তির হোটেল নামে পরিচিত।

ভারতে তো বটেই, গোটা পৃথিবীতেই এমন উদ্যোগ এটাই প্রথম। তবে, ভেবে বসবেন না বস্তির এই হোটেল রাত কাটানোটা খুব স্বস্তা। প্রতি রাত থাকতে এখানে খরচ হবে দু’হাজার ভারতীয় রুপি। এই উদ্যোগের নাম ‘স্লাম হোমস্টে মুম্বাই’।

এই অভিনব উদ্যোগের ধারণাটি প্রথম মাথায় আসা স্থানীয় এক বস্তি বাসিন্দা রবি শানসির মাথায়। তার সাথে যোগ হন মুম্বাইয়েরই একটি এনজিওতে কাজ করা ডাচ নাগরিক ডেভিড বিজল।

এই হোটেলের প্রতিটি রুমে আছে একটি সিঙ্গেল ম্যাট্রেস, থাকতে পারবেন সর্বোচ্চ দু’জন। বাথরুম ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বস্তির অন্যান্য বাসিন্দাদের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে হবে। মানে বস্তির আরো ৫০ টি পরিবারের সাথে সেখানে বাথরুম শেয়ার করতে হবে। তবে, এর মধ্যে শানসির ঘরটা একটু আলাদা। কারণ সেই ঘরে আছে ৪০ ইঞ্চি ফ্ল্যাট এলইডি টেলিভিশন ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা।

৩২ বছর বয়সী ডেভিড মনে করেন এই উদ্যোগ বস্তির জীবনের ব্যাপারে বাইরের বিশ্বে একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, ‘এখানে আসে ট্যুরিস্টরা আসতো। দুই একটা ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে চলে যেত। এদের জীবনটা বুঝতে পারতো না। আমি অনেকদিন হল বস্তিবাসীর জীবন নিয়ে কাজ করছি। আমার মনে হয়েছে এই উদ্যোগটা দু’পক্ষের জন্যই ইতিবাচক হবে। যাদের আগ্রহ আছে, তারা এই প্রক্রিয়ায় বস্তিবাসীর জীবনের ব্যাপারে জানতে পারবেন।’

একই ভাবে এই হোটেলগুলোতে রাত্রী যাপন করার মধ্য দিয়ে এই জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কিছুটা হলেও পাশে দাঁড়াতে পারেন ট্যুরিস্টরা। কারণ, প্রতিরাতের জন্য তাদের খরচ করা হবে ওই পরিবারটির উন্নয়নে। বিজল জানান, এই উদ্যোগে ব্যাপক সারাও এসেছে। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগে এরই মধ্যে ব্যাপক সারা এসেছে। এরই মধ্যে অন্যান্য বস্তির বাসিন্দারাও ট্যুরিস্টদের আতিথেয়তা দিতে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’

মুম্বাইয়ের জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬০ শতাংশ থাকে বস্তিতে। ফলে, শহরটিতে এমন একটা উদ্যোগ বাকিদের জন্য অবাক করার মত হলেও, সেখানে যেন খুবই স্বাভাবিক এক ঘটনা।

– দ্য গার্ডিয়ান ও টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com