বন্ধ হোক নাক ডাকার অত্যাচার!

নাক ডাকা একটা বদঅভ্যাস, নাকি রোগের লক্ষণ, তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। একটি পরিসংখ্যান বলে, প্রায় ৪৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে ঘুমের ভেতর নাক ডাকেন। এই নাসিকা গর্জন নিয়ে যতই ঠাট্টা কৌতুক রচনা করা হোক না কেন, এটিকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ, এমনকি ডিভোর্সের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছে।

নাক ডাকা শুধু অস্বস্তিকরই নয়, এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। দেখা গিয়েছে, যেসকল মানুষ ঘুমাবার সময় নাক ডাকেন, তাদের ৭৫ শতাংশই স্লিপ অ্যাপানিয়ায় ভুগছেন।

তাহলে নাক ডাকা রেহাই পাওয়ার কোনো উপায় কি নেই? হ্যা, অাছে। বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র তিনটি বিষয়ে নজর দিলেই নাক ডাকার হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

১. শোবার ভঙ্গী বদল করুন

আপনি কি বিছানায় চিৎ হয়ে ঘুমান? যদি উত্তর হ্যা হয় তবে আপনার নাক ডাকার সম্ভাবনা খুবই বেশী। কেননা এতে করে জিহবা। শ্বাসনালী ঢেকে দেয় এবং ফুসফুসের বাতাস বের হতে বাধা পায়। কাত হয়ে শোবার মাধ্যমে এ সমস্যাটি দূর হতে পারে। অথবা শোয়ার সময় মাথার নিচে অতিরিক্ত বালিশ দিয়েও কাজ হয়।

অনেকে স্নোরিফিক্স নামক একটি বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে ফল পেয়েছেন বলে দাবি করেন। এ যন্ত্রটি ঘুমাবার সময় চোয়াল স্থির রাখতে সাহায্য করে, যাতে বাতাস বিনা বাধায় চলাচল করতে পারে। কেউ কেউ আবার অ্যান্টি স্নোর চিন স্ট্রিপ ব্যবহারের পক্ষপাতী।

২. ওজন কমান

স্থুলকায় কিংবা শীর্ণকায়, নাক ডাকার সমস্যাটি সবারই কমবেশী আছে। তবে বিশাল বপুর অধিকারীদের ক্ষেত্রে এ ব্যাপারটি প্রকট আকার ধারণ করে। তাই অতিরিক্ত ওজনের সাথে নাক ডাকার সম্পর্ক একদম পরিষ্কার। কিন্তু এটা কি জানেন, ডায়েট কন্ট্রোলের মাধ্যমে নাক ডাকা নিরাময় সম্ভব?

ঘাড়ের চারপাশের মেদ নাক ডাকার অন্যতম একটি কারণ। এই অতিরিক্ত চর্বির ফলে ঘাড়ের ব্যাস কমে যায় এবং ঘুমের সময় এই পেশীগুলোর ধাক্কা দেয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

তাই আপনার ওজন যদি অতিরিক্ত হয়, তাহলে ব্যালেন্সড ফিগার অর্জনের জন্য এখন থেকেই ডায়েট কন্ট্রোল শুরু করে দিন।

৩. ভালোভাবে ঘুমান

একটি ঝঞ্ঝাটহীন নিদ্রা সুস্বাস্থ্যেরর জন্য কতটা জরুরী, তা ইনসোমনিয়ার রোগীরাই ভালো বলতে পারবেন। তাই দিনে কমপক্ষে সাত ঘন্টা ঘুমাবার চেষ্টা করবেন। নাক ডাকা, অনিদ্রার অনেকগুলো কুফলের মধ্যে একটি। তাই ভেবে দেখুন, প্রতিদিন পরিমিত ঘুম হচ্ছে তো?

ঘুমানোর পূর্বে অনেকক্ষণ ধরে মোবাইল ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ নীল আলো মানবদেহে মেলানিন হরমোন উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করে, যেটি ঘুমের জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান। তাই ঘুমানোর পূর্বে মোবাইলকে না বলুন।

কিছু কিছু বদ অভ্যাস, যেমন কোনো ঘুম বা বিশ্রাম ছাড়াই দীর্ঘক্ষণ কাজ করা, মাত্রাতিরিক্ত চা-কফি পান, আপনার নিদ্রাচক্রকে ব্যাহত করতে পারে। তাই এসব থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকা উচিত।

মোটামুটি এসব নিয়ম মেনে চলতে পারলে, এমন একদিন আসবে যেদিন বন্ধ হবে নাক ডাকার অত্যাচার। একটু চেষ্টা করে দেখবেন নাকি!

হাফিংটন পোস্ট অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com