ফ্লাইট টু ফেয়ারিটেল

বয়স তখন ১০ বছর। বাবা ইয়ান শ্রাবসোলে জাতীয় ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে খেলছিলেন বাথ ক্লাবের হয়ে। তখনই প্রথমবার লর্ডসে আসেন অ্যানা শ্রাবসোলে। বাবার হাত ধরে গেট দিয়ে ঢুকতে গিয়ে শৈশবের কৌতূহল ভরা চাহনিতে দেখছিলেন সব কিছু। সেদিনই ভবিষ্যতটা ঠিক করে ফেলেছিলেন। বলেছিলেন, ‘কি দারুণ জায়গা! এখানে আমি খেলতে চাই… ইংল্যান্ডের হয়ে… বিশ্বকাপের ফাইনালে!’

আপাতদৃষ্টিতে এটাকে এক শিশুর আকাশকুসুম কল্পনা মনে হতে পারে। তবে,  কথা রেখেছেন শ্রাবসোল। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে থ্রি লায়ন্সের হয়ে খেলেছেন সেই লর্ডসেই। শুধুই খেলাই নয়, কি অনন্য পারফরম্যান্সই না করলেন। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ছয় উইকেট নিলেন। দলকে ৯ রানের শ্বাসরুদ্ধকর এক জয় এনে দিলেন। রূপকথা বললেও কম বলা হয়, এমন এক স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলেন শ্রাবসোল। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নিয়ে শুধু স্বপ্ন পূরণ নয়, ইংলিশদের ‘হিরো’ বনে গেছেন তিনি।

লর্ডসে ১০ বছরের অ্যানা। ছবি: বাবার টুইটার থেকে

৪৩ তম ওভারে তিন উইকেটে ১৯১ রান করে ভারতীয় নারীরা যখন জয়ের দুয়ারে ছিল, তখন অসম্ভব একটা স্পেলের দরকার ছিল স্বাগতিকদের। সামারসেটের ২৫ বছর বয়সী পেসার তখন সেই অসাধ্য সাধন করে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসালেন ইংল্যান্ডকে। নিজের হাতেই নিজের রূপকথা লিখে ফেললেন শ্রাবসোল। ৪৬ রান দিয়ে তার পাওয়া এই ছয় উইকেটই মেয়েদের বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সেরা বোলিং ফিগার। এর আগে কেউ ছয় উইকেট পাওয়া তো দূরের কথা, পাঁচ উইকেটও নিতে পারেননি।

তবে, রাস্তাটা সহজ ছিল না শ্রাবসোলের। স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে যোগ দিয়েছিলেন। শুরু হল আসল যুদ্ধ। সামারসেটে তখন পুরুষদের দাপট। ভেতরের অনেকেও অ্যানার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে লাগলেন। যদিও তিনি ছিলেন অবিচল। বললেন, ‘অনেক কথা শুনতে হয়েছে আমাকে। প্রতিপক্ষরা তো বটেই, নিজের লোকেরাও ছাড়তো না। কিন্তু, সেসবকে আমি অনুপ্রেরণা হিসেবেই নিতাম। চাপের মুখে ভেঙে পড়তে শিখিনি আমি। বাজে কথা আমার মনোযোগ আরো বাড়িয়ে দিত।’

বেড়ে ওঠার সময়ে শ্রাবসোলে কতটা মনোযোগী ছিলেন সেটা বোঝা গিয়েছিল ২০১৩ সালের বিশ্বকাপেই। সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন তিনি। তবে, তিনি যে সত্যিকার অর্থেই বড় ম্যাচের পারফরমার সেটার প্রমাণ মিলল বড় ম্যাচেই – বিশ্বকাপের ফাইনালে।

৪৬ রানে ছয় উইকেট নেওয়ার পথে।

তার সৌজন্য ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে গেল – ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই। দিনটাকে মানুষ স্মরণ করবে। বলবে, -‘এদিন ইংল্যান্ডকে তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন শ্রাবসোলে।’

বলা হয়, মানুষের তার স্বপ্নের সমান বড়। আবার বলা হল, আকাশকুসুম কল্পনা করতে নেই। অ্যানা শ্রাবসোলে করেছিলেন দ্বিতীয়টা। অ্যানা প্রমাণ করে গেলেন, যোগ্যতা থাকলে যে কোনো স্বপ্নই পূরণ করা সম্ভব।

https://www.mega888cuci.com