ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে রুপালী পর্দার কিংবদন্তি

শৈশবে তার ইচ্ছা ছিলো, একজন বিখ্যাত ফুটবলার হবেন। কিন্তু সেই স্বপ্নে শুরুতেই ভাটা পরে— যখন মাত্র ১৪ বছর বয়সে তার গোড়ালি ভেঙে যায়, এবং পরবর্তীতে তা আর সম্পূর্ণভাবে ঠিক হয় না। তবে স্বপ্ন ভেঙ্গে গেলেও ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা এতোটুকু কমেনি।

তিনি এখনো নিয়মিত ফুটবল দেখেন এবং স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের কট্টর সমর্থক। বলছি স্প্যানিশ সুপারস্টার অ্যান্তোনিও ব্যান্দেরাসের কথা। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই তারকা একাধারে অভিনেতা, সঙ্গীতশিল্পী, পরিচালক ও প্রযোজক।

১৯৮২ সালে পরিচালক পেড্রো আলমোদোভারের ‘ল্যাবরিন্থ অব প্যাশন’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে সিলভার স্ক্রিনে অভিষেক হলেও চলার পথটা কিন্তু মোটেও পুষ্পসজ্জার ছিলো না। সে যাই হোক, এরপর তিনি ‘ল অব ডিজায়ার’ ‘ম্যাটাডোর’ ‘উইমেন অন দ্য ভার্জ অব আ নার্ভাস ব্রেকডাউন’ ‘টাই মি আপ! টাই মি ডাউন’-সহ আরো কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন।

ছবিগুলো ওই অর্থে খুব একটা সাড়া জাগাতে না পারলেও ‘টাই মি আপ! টাই মি ডাউন’ ছবিতে একজন মানসিক রোগীর চরিত্র অভিনয় করে ব্যান্দেরাস অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। বলা হয়ে থাকে, এই ছবির অসম্ভব খ্যাতিই তাকে হলিউড-জগতে প্রবেশে সাহায্য করেছিলো।

১৯৯২ সালে ‘দ্য মাম্বো কিং’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মার্কিন সিনেমায় তার যাত্রা শুরু হয়। নাট্যধর্মী এই ছবিতে তিনি একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন। অবাক করার মতো একটা ব্যাপার হলো, তখনও তিনি ইংরেজি ভালোভাবে রপ্ত করতে পারেননি। অথচ, ছবির সংলাপগুলো অনেক কষ্টে ধীরে ধীরে শেখা সত্ত্বেও ফিল্ম-ক্রিটিকরা তার ডায়লগ ডেলিভারি এবং অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।

তবে ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ফিলাডেলফিয়া’ চলচ্চিত্রে সাফল্যর মধ্যদিয়েই কার্যত মূলধারার হলিউড মুভিতে তিনি অভিনয় শুরু করেন। এইডস-আক্রান্ত একজন আইনজীবীর সমকামী প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করে বান্দেরাস আন্তর্জাতিকভাবে বেশ খ্যাতি অর্জন করেন।

এরপর একে একে তিনি বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন। যেগুলো তাকে মার্কিন দর্শকদের মনে স্থায়ী আসন এনে দিয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসমূহ হলো— ‘ফিলাডেলফিয়া’ (১৯৯৩), ‘ইন্টারভিউ উইথ দ্য ভ্যাম্পায়ার’ (১৯৯৪), ‘দেস্পারেদো’ (১৯৯৫), ‘অ্যাসাসিনস’ (১৯৯৫), ‘দ্য মাস্ক অব জরো’ (১৯৯৮), ‘স্পাই কিডস’ (২০০১), ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন মেক্সিকো’(২০০৩), ‘টেক দ্য লিড’ (২০০৬), এবং ‘দ্য এক্সপান্ডেবলস থ্রি’ (২০১৪)।

১৯৬০ সালের ১০ আগস্ট, মানে আজকের এই দিনে স্পেনের আন্দালুসিয়ায় জন্মগ্রহণ করা এই অভিনেতার পুরো নাম ‘হোসে আন্তোনিও ডোমিনগেজ বান্দেরাস’। তার বাবা হোসে ডোমিনগেজ ছিলেন সিভিল গার্ড পুলিশ অফিসার এবং মা আনা বান্দেরা গালেগো ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষিকা।

ব্যক্তি-জীবনে অ্যান্তোনিও ব্যান্দেরাস দু’বার বিয়ে করেছেন। ১৯৯৫ সালে প্রথম স্ত্রী অ্যানা লিজার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর অভিনেত্রী মেলানি গ্রিফিথকে বিয়ে করেন ১৯৯৬ সালে। তবে এ সম্পর্কটিও বেশিদূর এগোয়নি, ২০১৪ সালে ভেঙ্গে যায়।

মেলানি-বান্দেরাস দম্পতির সংসারে স্টিলা নামে ১৫ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে। জন্মদিনে এই তারকার প্রতি রইলো অজস্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা!

https://www.mega888cuci.com