প্রাপ্তি আর প্রত্যাশায় হাজার ফারাক

প্রথমেই জানিয়ে রাখতে চাই, যে শ্রদ্ধেয় লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস ‘প্রজাপতির মৃত্যু ও পূর্ণজন্ম’ আমার পড়া হয়নি, যে কাহিনী অবলম্বনে তৈরী হয়েছে এই ছবিটি। তাই কোনরকম কোন তুলনা আমি উপন্যাসের সাথে করতে পারব না।

অনেক ছেলে মেয়ে আছে যারা ভাবে যে পরীক্ষায় কোনরকমভাবে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাশ করে গেলেই বাবা মা খুব খুশি হয়ে যাবে। আবার অনেকে আছে যারা ভাবে যে আশি থেকে নব্বই শতাংশ নম্বর না তুলতে পারলে তাদের বাবা মা কিছুতেই খুশি হবে না। আরে বাবা! না হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। বিশেষ করে যারা খুব পড়ুয়া ছেলে মেয়ে হয়, কারণ তাদের কাছে অনেক প্রত্যেশা থাকেই।

পরিচালক বাবুর শবর সিরিজের আগের ছবিগুলিতে (বিশেষ করে ‘এবার শবর’) ভালো উপস্থাপনা দেখে, ওনার এই ছবিটির প্রতিও মনে খুব প্রত্যাশা জেগেছিল। কিন্তু দেখার পর এইটাই বলবো যে এই ছবি পরীক্ষায় পাশ করে গেছে ঠিকই, কিন্তু স্টার মার্কস থেকে ফসকে গেছে মূলত দ্বিতীয়ার্ধের জন্যই।

একটি দৃশ্য আছে যেখানে শবর ‘শ্যারণ’ চরিত্রটিকে টোটোতে করে লখনৌতে অনুসরণ করছে। কিন্তু তার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে একটা গজল ঢুকিয়ে দেওয়া হল কেন ঠিক বুঝলাম না।

ছবির শেষ দিকে খুনীকে শবর ও তার টিম তাড়া করতে গিয়ে বিকেল থেকে সন্ধ্যে গড়িয়ে যাওয়ার দৃশ্যটা মোটেও আমার ভালো লাগেনি। মনে হচ্ছিল অহেতূক ছবিটিকে টানছে ।

শবরের মতো এত দুঁদে অফিসারের মাথায় এলো না যে তার সহযোগী নন্দর ছবিকে কাজে লাগিয়ে যে ছক শবর কষেছেন খুনীকে ধরার সেই পন্থা যে খুনীও করতে পারে। ছবির শেষ দেখানো হল যে সেটা খুনী ব্যাখা দিচ্ছে।

ছবির শেষ দিকে শবর একটা সুন্দর বার্তা দেন, কিন্তু তার সংলাপ এত দৈর্ঘ ছিল যে ছবির হল থেকে অনেকেই না শুনে তখন উঠে পড়ছিল। সংলাপের কথা যখন তুললামই তখন এটাও বলি যে আগের শবর সিরিজে যে প্রচুর চটক ছিল তা এতেও আছে কিন্তু কেন জানিনা মনে হল আগের থেকে একটু কম।

সব মানুষের মধ্যে যেমন দোষ গুণ থাকে, তেমনিই এই ছবির ও কিছু গুণ আছে যেগুলো না বলে আমি থাকতে পারব না। প্রথমেই বলবো আমার সব চেয়ে প্রিয় অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় কথা। নাহ, আমি ওনার ফ্যান বলে বাড়িয়ে এক বিন্দুও বলবো না। সত্যিই শবর হিসেবে ওনার অভিনয় দুর্দান্ত। আর এক জনের অভিনয় নিয়ে তারিফ করতেই হবে সে হল শুভ্রজিৎ দত্ত। খুব হাসিয়েছেন আমাদের।

আমার একটা ছোট্ট অনুরোধ শুধু নন্দ হিসেবে নয় আরও অনেক ছবিতে বড় পর্দায় যেন ওনাকে দেখতে পাই। নবাগতা দিতি সাহাকে যেমন মিষ্টি লেগেছে তেমনিই অভিনয়ও বেশ প্রসংশনীয়। আমার বিশ্বাস উনি অভিনয় জগতে আরও নাম করবেন। বাকি সকলের অভিনয় বেশ ভালো ও সাবলীল যেটা আমার দৃষ্টি আকৃষণ করে।

আর আলাদা করে বলি যে যিনি খুনীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁর অভিনয় খুব ভালো লেগেছে তবে শেষে যখন সে শবরকে স্বীকারোক্তি দিচ্ছে তখন তার মধ্যে আর একটু অভিব্যক্তি দেখতে পেলে খুশি হতাম । সব শেষে বলি , এর আগে ‘হোলি ফাক’ ওয়েব সিরিজে অনামিকা চক্রবর্তীর অভিনয় বেশ ভালো লেগেছিল কিন্তু এই ছবিতে তাঁর অভিনয়ের তেমন জায়গা না দেখতে পেয়ে একটু হতাশ হলাম ।

যাই হোক, এই বিশ্বাস নিয়ে এখানেই আমি আমার লেখা শেষ করছি যে শবরের পরবর্তী সিরিজের ছবি আমার মনের মধ্যে এই ছবির গ্লানি মিটিয়ে দেবেই । আমার কোন শব্দে বা সমালোচনায় কারোর কোথাও কিঞ্চিত খারাপ লেগে থাকলে ক্ষমা করে দেবেন।

https://www.mega888cuci.com