প্রথম যারা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন

দেশ বিভাগের পাঁচ-ছয় বছর পরের কথ। পঞ্চাশের দশকের শুরুতে সিনেমা হলগুলোতে চলতো কেবল ভারতীয় বাংলা, পশ্চিম পাকিস্তানি, হিন্দি ও কিছু হলিউডের সিনেমা। বাংলাদেশের কেউ তখন পর্যন্ত কেউ সিনেমা বানানোর সাহস করেননি।

কারণ, একটা কথা চালু ছিল যে পূর্ব পাকিস্তানের আর্দ্র আবহাওয়ায় সিনেমা বানানো সম্ভব নয়। সেই কথাটাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন আব্দুল জব্বার খান। চ্যালেঞ্জ জয়ের জন্য উঠে পড়ে লাগেন তিনি। নিজের লেখা ডাকাত নাটক থেকে বানিয়ে ফেললেন চিত্রনাট্য। সেটা ১৯৫৩ সালের ঘটনা।

তখনও সিনেমার ব্যাপারে তেমন কিছু একটা জানা ছিল না জব্বার খানের। ভারত থেকে পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে কিনে আনলেন পুরনো এক আইমো ক্যামেরা। সাধারণ মানের এক ফিলিপস রেকর্ডার দিয়েই শব্দ ধারণ চালিয়ে নেওয়া হল।

ইংরেজিতে মুখ ও মুখোশের পোস্টার

প্রধান চরিত্র ডাকাত সর্দারের চরিত্রে অভিনয় করলেন ইনাম আহমেদ। চরিত্রে তার অট্টহাসি সেসময় খুব বিখ্যাত হয়। দ্বিতীয় প্রধান চরিত্র আফজালের ভূমিকায় পরিচালক নিজেই কাজ করেন।

গোল বাঁধলো নারী শিল্পী নিয়ে। তখনকার সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারী অভিনেত্রী পাওয়াই ছিল মুশকিল। রীতিমত পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জহরত আরা ও ইডেন কলেজেরছাত্রী পিয়ারী বেগম যোগাযোগ করলেন। কলকাতার পূর্ণিমা সেনগুপ্ত যোগ হলেন। ব্যস, হয়ে গেল কাস্টিং।

সিনেমার পরিচালক ও অভিনেতা আব্দুল জব্বার খান

১৯৫৪ সালে ছয় আগস্ট হয় ছবির মহরত। কালীগঞ্জ, লালমাটিয়া, সিদ্ধেশ্বরী, রাজারবাগ, কমলাপুর, তেজগাঁওয়ের জঙ্গল, জিঞ্জিরা ও টঙ্গীর তুরাগ নদীর পাড়ে চললো শ্যুটিং। শেষ হল ১৯৫৫ সালের শেষে গিয়ে। পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ হয় লাহোরে।

এরপরের রাস্তাটাও সহজ ছিল না। ঢাকার পরিবেশকরা ছবি মুক্তি দিতে নারাজ ছিলেন। হলও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ‘পাকিস্তান ফিল্ম ট্রাস্ট’ ও ‘পাকিস্তান ফিল্ম সার্ভিস’ এগিয়ে আসে। ঢাকার রূপমহল, চট্টগ্রামের নিরালা, নারায়ণগঞ্জের ডায়মন্ড ও খুলনার উল্লাসিনী সিনেমা হলে একযোগে মুক্তি পায় ‘মুখ ও মুখোশ’। ১৯৫৬ সালের তিন আগস্ট ইকবাল ফ্লিমসের ব্যানারে মুক্তি পায় বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা।

মুখ ও মুখোশের বাংলা পোস্টার

তৈরি হয় নতুন এক ইতিহাস। সিনেমাটা দর্শকমহলের কাছে প্রশংসিত হয়। মুখ ও মুখোশের হাত ধরে বাংলাদেশে নিয়মিত শুরু হয় চলচ্চিত্র নির্মান।

https://www.mega888cuci.com