প্রতি মিনিটে মারা যাচ্ছে ১১৫ জন!

মৃত্যুর মিছিল বেশ লম্বা। মৃত্যু প্রাচীন, মৃত্যু আদিম।

প্রতিদিন নানাভাবে নানা কারণে আমাদের গোচরে-অগোচরে মারা যাচ্ছে মানুষ; হয়তো এই শহরে, হয়তো পাশের শহরে। লঞ্চডুবিতে, বাস দূর্ঘটনা, ট্রেন দূর্ঘটনা, বিমান দূর্ঘটনা, খুন, যুদ্ধ, রোগে-শোকে কিংবা আত্মহত্যায় মানুষ মরছেই।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মানবসভ্যতার ইতিহাসে এযাবৎকাল পর্যন্ত সংঘটিত সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ। ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সালের এই সময়টাতে মারা যায় ৮ কোটিরও বেশি মানুষ! নিহতের এই বিশাল সংখ্যার মূল কারণ ছিল গণহত্যা আর অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার।

ওয়াশিংটনের এক গবেষনা বলছে- আগামী কয়েক বছরে বিশ্বের দারিদ্র দেশুগলোতে না খেয়ে মারা যাবে আট-দশ কোটিরও বেশি মানুষ! জাতিসংঘ এটিকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুতর মানবিক সঙ্কট’ হিসাবে উল্লেখ করেছে।

২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের উপকূলে সমুদ্রগর্ভে সংঘটিত ভূমিকম্প যে সুনামির অবতারণা ঘটায়, তা-তে দু’লাখ ত্রিশ হাজার মানুষ প্রাণ হারায় ইন্দোনেশিয়া থেকে সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকা পর্যন্ত৷

ফেসবুক চালু হয়েছে এক যুগের বেশি সময়। ফেসবুকের তথ্য অনুযায়ী এই তেরো বছরে মারা গেছে পাঁচ কোটিরও বেশি ফেসবুকার! সারা বিশ্বে ফেসবুকারের বর্তমান সংখ্যা ১৬০ কোটিরও বেশি। এদের মধ্যে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে ৮ হাজার জন, ভাবলেই কেমন গা শিউরে ওঠে।

সূত্র বলছে- প্রতি মিনিটে সারাবিশ্বে মারা যাচ্ছে ১১৫ জন মানুষ! গত বছরের এই বর্ষাকালেই আমার প্রতিবেশি এক ভাইয়ের ছেলে পানিতে ডুবে মারা যায়। সকালে ঘুম থেকে জেগেই দেখতাম পাঁচ বছরের ছোট্ট ছেলেটার চঞ্চলতা। সেই ছেলেটা এখন নাই, কারণ ওই একই; মৃত্যু!

আমার কাছে জগতের সবথেকে স্পর্শকাতর বিষয় মৃত্যু। এই যে পৃথিবী, সূর্য্য আলো দেয়, বিকেলবেলা বাতাস বয়। একদিন এই পৃথিবী থাকবেনা, সূর্য্য থাকবেনা, বিকেল থাকবেনা। এইসব আমাকে কেমন কষ্ট দেয়, বিস্মিত করে…

https://www.mega888cuci.com