পোস্ত আমাদের জীবনেরই গল্প

বর্তমান ভারতীয় বাংলা সিনেমার ইন্ডাস্ট্রিতে শিবু- নন্দিতা এক আস্থাভাজন নাম। তাদের সিনেমা যেমন বক্স অফিসে সাফল্য পায়, তেমনি দর্শকদের হৃদয়েও জায়গা করে নেয়। তাদের একেকটি সিনেমা যেন জীবন দর্শন, সহজ সরল গল্পে তুলে ধরেন আমাদেরই জীবনের গল্প।

এই জুটি সিনেমা যাত্রা শুরু করেছিলেন ‘ইচ্ছে’ দিয়ে প্রথম ছবির সাফল্যের পর একে একে নির্মান করলেন অ্যাক্সিডেন্ট, মুক্তধারা, অলীক সুখ, রামধনু। এরপর বেলাশেষে ও প্রাক্তন দুইটাই বক্স অফিসে রীতিমত বাজিমাৎ করে অর্জন করে নিয়েছিল শীর্ষস্থান।

প্রতি বছর তাঁরা একটি নতুন ছবি নিয়ে আসেন, সেই ধারাবাহিকতায় এই বছরের ছবি ‘পোস্ত’। বরাবরের মত এই ছবির গল্প পারিবারিক আবহেই, পাশাপাশি এটা শিক্ষামূলকও বটে।

ছবির গল্প সাত বছরের ছেলে পোস্তকে নিয়ে, বাবা- মা দুইজনেই কর্মব্যস্ত হওয়ায় দাদু-ঠাকুরমার কাছে বড় হন। এক সময় বাবা-মা তাকে বিদেশে নিয়ে যেতে চাইলে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় দাদু। এই নিয়ে কোর্টে মামলা হয়, চলে বাবা-ছেলের দ্বন্ধের লড়াই।

শেষ পর্যন্ত কি হয়, সেটা না হয় উহ্যই থাক। এই গল্প বাদে আরো কিছু সামাজিক অবক্ষয়ের কথাও উঠে এসেছে, বিশেষ করে মদ্যপানের ভয়াবহতা উঠে এসেছে।

শিবু-নন্দিতা জুটির ছবিগুলোতে অন্যতম আকর্ষন হলো অসাধারণ কিছু সংলাপ, যা এই ছবিতেও আছে। সংলাপ রচয়িতা হিসেবে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এক কথায় অনবদ্য,কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেন নন্দিতা রায়, যদিও সুচিত্রা ভট্টাচার্যের গল্প চুরির অভিযোগ উঠেছিল।

আগের ছবির মত গান গুলো জনপ্রিয় না হলেও, গান গুলো শুনতে মন্দ নয়। সংগীত পরিচালক হিসেবে অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় ও অনুপম রায় বেশ ভালো, রবীন্দ্র সংগীতটাও ভালো লেগেছে। সবশেষে ‘ডাকঘর’ অংশের নাটিকাটাও ভালো লেগেছে।

অভিনয়ে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় একজন সুদক্ষ ও কিংবদন্তি অভিনেতা, লিলি চক্রবর্তী, মিমি চক্রবর্তী, নাম ভূমিকায় থাকা অর্ঘ্য ও বেশ ভালো। তবে অভিনয়ে সবচেয়ে দুর্দান্ত ছিলেন পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সোহিনী সেনগুপ্ত ও যীশু সেনগুপ্ত।

এই তিনজনের সিনেমাটির জন্য রীতিমত পুরস্কার প্রাপ্য। কিন্তু স্বল্প চরিত্রে বাবুল সুপ্রিয়, অপরাজিতা ঘোষ সেভাবে নজর কাড়েননি, তোপসে খ্যাত সিদ্ধার্থ রায়ও নিজের মত ভালো করার চেষ্টা করেছেন।

কনিনীকা একেবারেই ছোট্ট চরিত্রে, যেটা ভালো লাগেনি। ক্যামেরার কাজ ভালো লেগেছে, বাকি কারিগরি দিক গুলো সেভাবে বুঝি না। অসামঞ্জস্য কিছু আছে,তবে সেগুলি উড়িয়ে দিলে পুরো ছবিটি উপভোগ্য।

শিবু-নন্দিতার এই ছবিও বাণিজ্যিক সফল, সম্ভবত টালিগঞ্জে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল ছবি। সিনেমা বোদ্ধারা তাদের ছবির সমালোচনা খুঁজে পান, অনেকে ওভারেটেড নির্মাতা মনে করেন কিন্তু আমাদের মত দর্শকরা তাদের ছবিগুলোর জন্য অপেক্ষা করেন। শিবু-নন্দিতার পরের ছবির জন্য শুভকামনা, তাঁরা এভাবেই আমাদের বিনোদিত করে যাক।

https://www.mega888cuci.com