পিজ্জা নয়, ৩৫ মিনিটে অপহৃত শিশুকে ‘ডেলিভারি’ দিল ডমিনোস

ঘড়ির কাটায় তখন রাত পৌনে ১১টা। দিন শেষের গোছগাছ শুরু হয়ে গেছে। ভারতের চন্ড্রিগড়ের কাছেই জিনাকপুরের ডমিনোস পিজ্জার আউটলেটের কর্মীদের মধ্যে তখন বাড়ি ফেরার চাঞ্চল্য।

তখনই এক ক্রেতা ঢুকলেন। দু’জন পিজ্জা ডেলিভারি বয়কে জানালেন দোকানের বাইরে মাত্রই একটা চলন্ত গাড়ি থেকে একটা বাচ্চা ছেলেকে ছুড়ে ফেলা হয়েছে।

এমন কথা শুনে তৎক্ষণাৎ দৌঁড়ে দোকানের বাইরে চলে আসলো ওই দুই ডেলিভারি বয় – সুরিন্দর ও হারমিত। এসে দেখলো অসহায় ওই ছেলেটি অন্ধকার রাস্তায় বসে চিৎকার করে কাঁদছে। তখনই ওই দু’জন শিশুটিকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার শপথ নিয়ে ফেললো।

ওরা তাই করলো, যা একজন স্বাভাবিক দায়িত্ববান নাগরিকের করা উচিৎ। আউটলেটের আশেপাশের মানুষদের জিজ্ঞেস করতে থাকলো, কেউ শিশুটিকে চেনে নাকি। আশা করতে থাকলো, বাচ্চাটার পরিচিত কেউ না কেউ তো খোঁজ নিতে আসবেনই।

তখনই ওরা লক্ষ্য করলো যে বাচ্চাটির হাতে একটি ব্যাংকের পাশ বই আছে। সেখান থেকেই ওরা ওই শিশুর বাবার ব্যাপারে সব জেনে নিল, পেয়ে গেল ফোন নম্বর। যদিও, এই জানাটা তাদের কোনো কাজেই আসলো না। কারণ, অসংখ্যবার ফোন দেওয়া হলেও কেউ ফোন ধরলো না।

তারপরই তাদের মাথায় দারুণ একটা আইডিয়া খেলে গেল। অন্য কেউ হলে হয়তো শিশুটিকে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়াকে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত বলে মনে করতেন। তবে, সুরিন্দর ও হারমিত ভাবলেন একটু ভিন্নভাবে।

তারা ওই ছেলের বাবার ফোন নম্বরটি নিজেদের প্রতিষ্ঠানের মানে ডমিনোসের ডাটাবেজে সার্চ দিলেন। এমনও তো হতে পারে, কখনো ডমিনোসে তিনি পিজ্জা অর্ডার করেছিলেন!

আর তাতেই কাজ হল। দেখা গেল ২০ নম্বর সেক্টর, পাঞ্চকুলা এলাকা থেকে এই নম্বর দিয়ে পিজ্জার অর্ডার এসেছিল। যদিও, শিশুটি শারীরিক ভাবে আঘাত পায়নি, তারপরও তারা ঝুঁকি নিতে চাইলেন না, শিশুটিকে নিয়ে রওনা হলেন ওই এলাকায়।

বাহন, ডমিনোসের মোটর বাইক। প্রায় আধাঘন্টার পথ। বাইকের সুবাদে পৌঁছে গেলেন আগে ভাগেই। প্রথমেই গেলেন পাঞ্চকুলার পুলিশ স্টেশনে। সেখানে দেখলেন আগে থেকেই উপস্থিত আছেন শিশুটির বাবা-মা। ৩০ মিনিটে পিজ্জা ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি দেওয়া ডমিনোসের দুই ডেলিভারি বয় ৩৫ মিনিটের মধ্যে অপহৃত শিশুকে পৌঁছে দিলেন তার বাবা-মার হাতে!

এরপর জানা গেল ঘটনার আদ্যোপান্তো। বাবা-মার সাথে ওই ছোট্ট ছেলেটি গিয়েছিল আইসক্রিম খেতে। তখনই ওর মায়ের কপালে বন্দুক ঠেঁকিয়ে একজন উঠে পড়েন ওদের গাড়িতে। বাবা-মাকে আগেই নামিয়ে দেওয়া হয়।

মাঝপথে এসে ওই বন্দুকধারী শিশুটিকে দেখতে পায় গাড়ির পেছনের সিটে। তখনই তাকে ফেলে রেখে যায় ডমিনোসের বাইরে, যেখানে তখন কাজ করছিলেন সুরিন্দর ও হারমিত। সেখান থেকেই শুরু হয় সুপার হিরো সিনেমাকেও হার মানানো এক গল্পের!

– কেনফলিওস.কম অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com