‘পিচ ফিক্সিং’ ও তথ্য পাচার করেছেন গামিনি ডি সিলভা!

ফাইনাল তখন শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ হেরে গেছে ৬৯ রানের বড় ব্যবধানে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আক্ষেপ ও অভিযোগের সুরে বললেন, ‘এই পিচেই আমরা ৩২০ রান করেছি। এরপর কিন্তু আর কোনো খেলা হয়নি। আমরা ধরেই নিয়েছিলাম, এই পিচে আমাদের লাভ অনেক বেশি হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে এসে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও বললেন একই রকম কথা, ‘সবসময় চেয়েছি যে, ভাল উইকেটে খেলতে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগে যে উইকেটে খেলেছিলাম, মানে ৩২০, অন্তত ৩০০-২৮০’র উইকেটে খেলতে।’ তাহলে যেমন উইকেট চেয়েছিলেন তেমনটা কি পাননি মাশরাফি? এমন প্রশ্নে মাশরাফি আক্ষেপের হাসি হেসে বললেন, ‘এখন এটা নিয়ে তো আসলে এখানে কিছু বলার নাই।’

ভেতরের খবর হল, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যে ম্যাচে বাংলাদেশ ৩২০ রান করেছিল, ফাইনালে সেই উইকেটই চেয়েছিল বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। আশ্বাসও দিয়েছিলেন প্রধান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা। যদিও, সেই কথা রাখেননি গামিনি।

ফাইনালের আগেরদিন উইকেটে পানি তিনি নিষেধ করা হলেও তা অমান্য করেছেন এই লঙ্কান। তার ওপর পরিস্কার নির্দেশনা ছিল যে উইকেট হতে হবে ব্যাটিং সহায়ক। যেখানে ৩০০-এর ওপর রান তোলাও যাবে, আবার সেই রান তাড়া করে জেতাও যাবে। অচথ, উইকেট ছিল অপ্রত্যাশিত রকমের স্লো। কেন এমন করলেন গামিনি? এর পেছনে কার স্বার্থ জড়িত?

ঢাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে টেস্ট খেলতে দল নিয়ে যাওয়ার আগে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন বললেন, ‘সবাই জানে, বিষয়টা নিয়ে সবাই কনসার্ন ছিল, বোর্ডও জানতো। মাহবুব ভাই ব্যাপারটা নিয়ে অনেক সোচ্চার ছিলেন। ব্যাপারটা নিয়ে খেলা শেষে অনেক কথাও হয়েছে।’

যদিও, পিচের দোহাই দিয়ে ব্যর্থতাকে ঢাকতে চাইলেন না সুজন। বললেন, ‘তারপরও আমরা বলবো, যে রানটা আমাদের তাড়া করার কথা ছিল মানে ২২০ রান, সেটা করার সামর্থ্য আমাদের এই দলটার আছে।’

সুজনের এই বক্তব্যের পরও গামিনি ডি সিলভাকে এক বিন্দুও ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। বরং তার বিরুদ্ধে স্থানীয় টেলিভিশন ও প্রিন্ট মিডিয়া এনেছে আরো বড় অভিযোগ। ফাইনালের আগে মিরপুরের অ্যাকাডেমি ভবনে শ্রীলঙ্কার টিম ম্যানেজেমেন্টের সাথে তিনি ঘণ্টা দেড়েক বৈঠক করেছেন বলে অভিযোগ আছে। বিসিবি ও জাতীয় দলের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি তাদের দিয়েছেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্যও।

এই ঘটনায় খানিকটা দায় নিতে হবে খোদ বিসিবিকেও। বরাবরই গামিনি’র বিরুদ্ধে এমন বড় ধরণের অভিযোগ থাকার পরও সংস্থাটি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে এসেছে। ত্রিদেশিয় সিরিজের আগে চট্টগ্রাম থেকে কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবুকে উড়িয়ে এনে টুর্নামেন্টের দায়িত্ব দেওয়ার কথা ছিল। শেষ মুহূর্তে সেই পথ থেকে সরে আসে বিসিবি। কেন? – উত্তর কারো জানা নেই।

https://www.mega888cuci.com