নেইমারের পিএসজি গমন: মেসির ‘ছায়া’ নাকি অন্য কিছু?

যতটা নেইমার মেসির ছায়া থেকে সরতে চেয়েছেন, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে চেয়েছেন তার চেয়ে বেশি পিএসজি নেইমারকে দলে চেয়েছে। অন্তত, আমার অনুমান তাই বলে।

১৯৭০ সালে জন্ম নেয়া পিএসজি ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে আসে ১৯৭৪ সালে। গত শতকে ফ্রান্সের মোটামুটি সফল একটি দল তারা। কিন্তু, ইউরোপিয়ান কাপে সফল না হওয়ায় গ্লোবাল ফ্যান বেইজটাও সেভাবে তৈরি হয়নি। এই শতকের শুরুতে রোনালদিনহোর মত খেলোয়াড়কে দলে নিয়ে নিজেদের কিছুটা পরিচিতি তৈরি করলেও সেভাবে পারেনি। সেটা নিয়ে তাদের এতটা চিন্তাও ছিলো না হয়ত। কারন ক্লাবটার জন্মই হয়েছে ফ্রান্সে ফাইট দেয়ার প্যারিসের কোন ক্লাব হওয়ার জন্য।

কিন্তু হাওয়া বদলে যায় অক্সি কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্ট ২০০৯ সালে ক্লাবটি কিনে নেয়ার পরে। ইউরোপিয়ান পর্যায়ে ফাইট দেয়ার জন্য এবং নিজেদের গ্লোবাল ফ্যান বেইজ তৈরির জন্য চেষ্টা চালাতে শুরু করে পিএসজি। এইজন্য দলে টেনে নেয় ইব্রাহিমোভিচকে। মেজর লিগ সকার থেকে উড়িয়ে আনে ম্যান ইউ, রিয়াল ও ইংল্যান্ড সুপারস্টার ডেবিড বেকহ্যামকে। কিন্তু তবুও গ্লোবাল ফ্যান বেইজ সেভাবে তৈরি হয়নি যেটা হয়েছে বার্সা, রিয়াল, ম্যান ইউ, আর্সেনাল, লিভারপুল, এসি মিলান কিংবা জুভেন্টাসের। এমনকি ম্যান সিটিও খুব কম সময়ে তৈরি করে ফেলেছে বেশ বড় একটি গ্লোবাল ফ্যান বেইজ।

এই সময়টুকুতে ইউরোপিয়ান কাপে ফাইট দিলেও সেমিতে যাওয়া ছাড়া বড় রকমের কোন সাফল্য আসেনি তাদের। ব্রাজিলিয়ান স্টপার ব্যাক সিলভা, আর্জেন্টাইন উইংগার ডি মারিয়া, সুইডিশ মহাতারকা ইব্রারাও সেভাবে পারেনি বিশ্ব ফুটবল সমর্থকদের মন কাড়তে।

গ্লোবাল ফ্যান বেইজ তৈরি করতে পিএসজির দরকার ছিলো বেশ বড় একটা টার্নিং পয়েন্ট। দরকার ছিলো গ্লোবালে জনপ্রিয় বড় একজন তারকা। রোনালদোকে ছাড়বে না রিয়াল, মেসি বার্সা ছাড়বে না। দিনদিন মেসির ছায়া হয়ে থাকা নেইমার হতে পারে বেশ বড় একটি টার্গেট। আর তাই করলো পিএসজি। বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়ে ট্রান্সফার মার্কেটের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে দলে আনলো নেইমারকে।

নেইমার নিয়ে ট্রান্সফার আলোচনাতেই বিশ্বে পরিচিত হয়ে গেছে পিএসজি। কেবল বাংলাদেশে পিএসজি সমর্থক হুড়ুমুড়িয়ে বাড়ার দিকেই খেয়াল করুন। নেইমার পিএসজিতে যাওয়ায় তাদের ফ্যান বেইজ কি পরিমাণ বেড়েছে এটা বুঝানোর জন্য কেবল নেইমার পিএসজিতে যাওয়ার পরের দিনই তার ১০,০০০ জার্সি বিক্রি হওয়াই বড় প্রমাণ। আর একাধিক ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় থাকায় এশিয়ান দেশগুলোতে থাকা ব্রাজিলিয়ান ফ্যানদেরও বেশ বড় একটা অংশ এখন পিএসজির গ্লোবাল ফ্যান লিষ্টে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।

টিভিস্বত্ব বাড়ছে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের। চ্যানেলগুলোও এখন মনোযোগী হবে ফরাসি লিগের প্রতি। নিয়মতই আপডেট আসবে ইন্টারন্যাশনাল সংবাদ মাধ্যমগুলোতে। তাই আমার মতে, যতটা না নেইমার চেয়েছে তার চেয়ে বেশি পিএসজি চেয়েছে নেইমারকে।

https://www.mega888cuci.com