‘দেব হয়ে একটা দিন কাটান, বুঝবেন ব্যাপারটা কী কঠিন’

দীপক অধিকারী। পর্দায় তিনি আবির্ভূত হন দেব নামে। পর্দার বাইরেও তার ব্যস্ততার শেষ নেই। ২০১৪ সাল থেকে তিনি ভারতীয় লোকসভার একজন সদস্যও। সিনেমার প্রযোজনাও করেন। ২০০৭ সালে প্রথম সিনেমা আই লাভ ইউ-এর সাফল্যের পরও যাকে দীর্ঘ ১৪ মাস কাজ ছাড়া থাকতে হয়েছিল সেই দেবের আজ তাই ব্যস্ততার কোনো অন্ত নেই। তার অভিনয়, ছবির নির্বাচন – ইত্যাদি নিয়ে বিস্তর সমালোচনা আছে, তবে সর্বস্তরের মানুষের কাছেই যে তাঁর স্টারডম পৌঁছে গেছে তা নিয়ে তর্ক করার অবকাশও নেই।

১৯৮২ সালের এইদিনে জন্মেছিলেন কলকাতার এই জনপ্রিয় নায়ক। ৩৪ বছর পেরিয়ে যাওয়ার উদযাপন উপলক্ষ্যে কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজারে প্রকাশিত দেবের কয়েকটি সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে দেওয়া হল পাঠকদের জন্য।

আগে সিনেমা দিয়ে শুরু করি। প্রযোজক না কি অভিনেতা দেব, আগে কাকে রাখবেন?

– আপাতত ভয়কে সকলের আগে রাখব।

দেব ভয়ও পান!

– বাংলায় বাণিজ্যিক আর শহরের ছবি এই ভাগ যে আর নেই, সেটা বোঝানোর জন্যই ‘চ্যাম্প’ করলাম। এমন ছবি যা সব স্তরের মানুষকে হলমুখী করবে। পোস্টার, গান, ট্রেলার দেখে সকলেই এখন বলছে কবে প্রিমিয়ার হবে? ছবি নিয়ে লোকের এক্সপেকটেশন বাড়ছে। ভয় তো হবেই।

লোকে তো বলছে দেব রাজনীতি করে সিনেমা ক্যারিয়ারের বারোটা বাজিয়েছে। সুপারস্টারদের ঘরে ঘরে যেতে নেই…

– সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ আর সুপারস্টার বলে কিছু নেই। অমিতাভ বচ্চন রোজ কী পোশাক পরেন আমরা জানি। শাহরুখ ছবির প্রমোশনের জন্য লোকের ঘরে ঘরে যায়, আমিও রাজনীতির জন্য গিয়েছি। খুব শিগগির এমন দিন আসবে, যখন ভোটের প্রচার আর রাজনীতির প্রচার একই রকম হয়ে যাবে। আর শুনুন আমার কোনও চ্যালা বা সেক্রেটারিও নেই যে ফোন ধরে বলবে, ‘দাদা কথা বলবে না’। নিজেই ফোন ধরি।

রুপালি পর্দায় নেমেই জীবনটা আপনার এক দফা বদলেছে। এরপর নামলেন রাজনীতির ময়দানে। জীবনটা আবার বদলেছে?

– হ্যাঁ, প্রচুর বদলেছে। দেব হয়ে একটা দিন কাটান না, বুঝতে পারবেন ব্যাপারটা কী কঠিন। আজকে আমাকে যদি কেউ বলে দেব হতে হবে, আমার ভয় লাগবে…

কেন?

এত কিছু সামলানো। কাজ, পলিটিক্স, মিটিং… কোনও শেষ নেই। তবে আগের থেকে ব্যাপারগুলো অনেক সেটল ডাউন করে গেছে। লোকে এটাও বুঝতে পেরেছে এমপি মানেই শুধু পলিটিশিয়ান নয়। তাদের কাছে আমি এখনও অভিনেতা এবং এন্টারটেইনার দেব। তারা আমাকে ভাল মানুষ হিসেবেই মনে রাখুক, এটাই কাম্য। আর এত ব্যস্ত থাকি, জীবন পাল্টে যাওয়া-টাওয়া নিয়ে আর বিশেষ ভাবি না।

একটা সময়ে আপনার জীবন ছিল টেকনিশিয়ান্স থেকে ভারতলক্ষ্মী স্টুডিও পর্যন্ত। সেখানে থেকে আজকে লন্ডন কালকে নবান্ন…

জীবনটা পাল্টায়নি, শুধু গণ্ডীটা বড় হয়েছে। আমাকে সে দিন একজন বলেছিলেন, আমার কেরিয়ারের বেস্ট দিক হল আমি নিজেকে শুধু ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে আটকে রাখিনি। আজকে যদি সিএম-এর সঙ্গে বাকিংহাম প্যালেসে যাওয়ার সুযোগ পাই, সেটা তো প্রেস্টিজিয়াস অ্যাচিভমেন্ট। ক’জন পায়? তাই অভিযোগ নেই কোনো!

https://www.mega888cuci.com