তারা রাজা-বাদশা, আমি ফকিন্নির বাচ্চা

দোকানে/মলে গিয়ে আপনি দামী জিনিসের দরদাম করবেন, আপনাকে স্যার স্যার করবে। যদি না নেন, দাম যাচাইয়ের জন্য আরো দোকান দেখতে চান, পেছন থেকে গালি দেবে। এমন আচরণ করবে যেন সে রাজা বাদশা, আপনি ফকিন্নির বাচ্চা। বাংলাদেশের অধিকাংশ দোকানির এটা সহজাত চরিত্র হয়ে গেছে।

কিছুদিন আগে সুবাস্ত নজর ভ্যালিতে আমাদের ছোট্ট বাবুর জন্য জামা কিনতে গিয়েছিলাম। ঠিক এরকম অভিজ্ঞতাই অর্জন করে এলাম। শুধু এখানে না, হাতেগোনা দুয়েকটা মার্কেটে কিছু বিক্রেতা ছাড়া অধিকাংশের ক্ষেত্রেই আমার অভিজ্ঞতা প্রায় একই।

এজন্য সাধ্যের মধ্যে না হলেও, এই আচরণ এড়াতে মাঝে মধ্যে ব্র্যান্ডের শোরুমে যাই। সেখানেও আচরণে খুব ব্যতিক্রম তা নয়, ভদ্রতার খোলসে আটা চোর ধরা মনোবৃত্তি।

সানমুন টেইলার্স আমার শার্ট/প্যান্ট তৈরি করতে গিয়ে কয়েকবার জামা কাপড় নষ্ট করেছে। প্রতিবাদ করার পর তাদের আচরণ দেখে মনে হয়েছে তারা রাজা বাদশা, আমি ফকিন্নির বাচ্চা। ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে আমাকে হুমকি দিয়েছিল।

রাস্তার পাশে যে রিক্সাওয়ালা, ওদের মাঝেও এমন অহংবোধ দেখে থাকি। আপনি কম দূরত্বে যাবেন, সে আপনাকে নেবে না, মুখের ওপর না বলে দেবে। অথচ, তার কাজ হচ্ছে রিক্সা চালানো।

এদের দেখলে থাপড়াতে ইচ্ছে করে, কিন্তু ইচ্ছে পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকতে হয়। নির্ধারিত ভাড়া দেওয়ার পরও তার মনোপূত না হলে আপনার দিকে এমন চোখে তাকাবে যেন আপনি একটা ছোটলোক। কিছুক্ষেত্রে, বোনাস পাওয়াটা তার অধিকার।

ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। যেসব রিক্সাচালক আমার সাথে ভালো আচরণ করে, যারা বিনয়ী, আমি আমি তাদের সাথে কথা বলি। জিজ্ঞেস করি গ্রামের বাড়ি কোন জেলায়, কোথায় থাকে, আয় রোজগার কেমন, পরিবারে কে কে আছে ইত্যাদি। তাদেরকে আমি ইচ্ছে করেই ৫/১০ টাকা বেশী দিই। কারণ এরা যাত্রীর সাথে ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি করতে পারেনা।

রাস্তার পাশে আল-বাগদাদিয়া হোটেলে নাস্তা খেতে যাবেন, যদি খাসির পায়া/মুরগীর স্যুপ অর্ডার করেন, আপনি স্যার। সবজি ডাল অর্ডার করলে আপনি ভাই। স্যার ডাকার পর খাবারের বিল দেওয়ার সময় টিপস দেওয়াটা ফরজ, কারণ পথটা রোধ করা থাকে। অথচ খাবার পরিবেশনের জন্য হাইজিন বিষয়ক ন্যূনতম সাধারণ জ্ঞানও এরা রাখেনা।

পাবলিক বাসের কনডাক্টর, সেতো রাস্তার রাজা। তবে লোকাল বাসের কনডাক্টর/ ড্রাইভারের চেয়ে ’চিটিং’ সার্ভিস বাসের ড্রাইভার/কনডাক্টরের আচরণ বেশী খারাপ। এরা মানুষকে মানুষ মনে করে না। নিজে যা না, তার থেকে নিজেকে অনেক বেশী কিছু মনে করে এরা।

সিএনজি চালকদের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। ভাড়া নিয়ে দরদাম হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আচরণটা এমন যেন, আপনি তার কাছে কিছুই না। এরা নিজেদেরকে কি যে মনে করে আল্লাহ জানে।

বাড়ি ভাড়া নেবেন? বাড়িওয়ালা যে ভাড়া চাইবে আপনি বিনা বাক্যে যদি তা দিতে সক্ষম হন, তাহলে আপনি ব্যক্তিত্ববান। যদি ভাড়া নিয়ে দর কষাকষি করেন, তাহলে আপনি ছেচ্চর। আর দুনিয়ার সবচেয়ে ভদ্রলোক ওই বাড়িওয়ালাটি।

আমার ছোটবেলোয় ৪ টাকার কাপড় কাঁচা সাবান আমি অর্ধেকটা কেটে ২ টাকায় কিনেছি/ দোকানদারকে বিক্রি করতে দেখেছি। কখনো বিরক্ত হতে দেখিনি।

বাংলাদেশের সব পেশার মানুষের চরিত্রই পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে, দিন দিন অমানুষের সংখ্যা বাড়ছে। আচার ব্যবহারটা ব্যক্তি কেন্দ্রিক, পেশা ভিত্তিক না।

খুব অস্বাভাবিক রাগের কারণ না ঘটলে কারো সাথে অভদ্র আচরণ করি না। ভদ্রতার সাথে কথা বলি।

আমি রাস্তা ঘাটে সব শ্রেণীর মানুষের সাথে আপনি সম্ভোধনে কথা বলি। এটাও এক শ্রেণীর মানুষ দুর্বলতা হিসেবে দেখে। ’তুই’ সম্ভোধন না করলে সে বরং তখন নিজের ’সুপিয়রিটি’র ভাব দেখায়। বাস কন্ডাকটরদের মধ্যে এই ব্যাপারটা প্রকট।

কারো সাথেই দুর্ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে সচেষ্ট থাকি কিন্তু নিয়মিতই দুর্ব্যবহার পেয়ে আসছি।আমি আসলে এই দেশে বাস করার যোগ্য নই।

https://www.mega888cuci.com