জয়টা একটা অভ্যাস: সুজন

আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে এসে সাকিব বলে গেছেন, ড্রেসিংরুমের পরিবেশই পাল্টে দিয়েছে বাংলাদেশকে। বলেছেন, সিদ্ধান্ত নিতে পারার বাড়তি দায়িত্বই দলের শীর্ষ ক্রিকেটারদের আরো দায়িত্ববান করে তুলেছে। তাই তো আসছে ধারাবাহীক জয়। এবার সেই জয়ের ধারাবাহীকতা ধরে রাখার মিশন। এবার সেদিকেই সর্বোচ্চ নজর দিচ্ছেন দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন।

কালকে সাকিব বলছিল যে, হাতুরুসিংহে যাবার পর খেলোয়াড়েরা ডিসিশন মেকিংয়েও ভূমিকা রাখতে পারে। আপনারা সেটা নিশ্চিত করেছেন। আপনারা কিভাবে সেটা নিশ্চিত করেছেন আর পরিবেশটা আসলে এখন কতটা স্বস্তিদায়ক?

–  নিশ্চিত করেছি বলতে, মাঠের সিদ্ধান্ত আসলে ক্রিকেটারদেরকেই নিতে হবে। তারা সবাই বেশ অভিজ্ঞ। আমার মনে হয়, সাকিব, তামিম, মাশরাফি, মুশফিক, রিয়াদদের মিলিয়ে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে এখন প্রায় ৬০ বছরের অভিজ্ঞতা আছে। মাঠে সিদ্ধান্ত নেবার সামর্থ্য অবশ্যই তাদের আছে। এই ক্রিকেটারদের প্রায় সবাই ঘুরেফিরে ক্যাপ্টেন্সী করেছে ঢাকা লিগে বলেন বা জাতীয় দলে বলেন। আমরা বাইরে থেকে তো অবশ্যই পরামর্শ পাঠাই। যখন আমাদের মনে হয়, তখন তো আমরা পাঠাই। সেটা যদি তারা শুনতে চায়, শোনে। কিন্তু আসল ব্যাপারটা হচ্ছে, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তগুলো নেয়াটা আসলে তাদের কাজ, যেহেতু তারা মাঠে খেলছে। বাইরে থেকে অনেক সময় উইকেট বুঝা যায় না, যারা খেলছে তারাই উইকেটটা ভালো বুঝে। হয়তো মাঠের বাইরে থেকে আমি যেই বোলারকে বল করাতে বলবো, অধিনায়ক হয়তো তার ব্যাপারে খুব একটা কনফিডেন্ট না। হয়তো সেই সময়টায় সে অন্য কোন বোলারের উপর কনফিডেন্ট। সেইক্ষেত্রে তখন যদি আমি মেসেজ পাঠাই, তখন অধিনায়কের মনে একটা সংশয় তৈরি হয়। সেই সংশয়টা আমি তৈরি করতে চাই না। মাশরাফি অনেক অভিজ্ঞ একজন ক্রিকেটার, সাকিবও অভিজ্ঞ। তারা দুজন মিলে মাঠের সিদ্ধান্ত নেয়াটাই ভালো। যদি তারা বাইরে আমাদেরকে জিজ্ঞেস করে, তখন হয়তো আমরা বলতে পারি। হয়তো আমরা মাঝেমাঝে ফিল্ডিং পজিশন নিয়ে কথা বলি, প্রতিপক্ষকে আমরা কোথায় বল করবো সেটা বলি। অনেকসময় হয়তো ক্রিকেটাররা মাঠে গিয়ে কিছু ব্যাপার ভুলে যায়, আমরা সেটা মনে করিয়ে দেবার চেষ্টা করি। তো আমি মনে করি যে, এটা আসলে ক্রিকেটারদেরই খেলা। ওরা মাঠে গিয়ে খেলে বলেই বাংলাদেশ ভালো করে। তো তাদের একটা সিদ্ধান্ত তো থাকবেই। তাদের একটা দায়িত্ব তো থাকবেই।

মাশরাফি, সাকিব দুজনই বলেছেন যে হাতুরুসিংহে যাবার পর ড্রেসিংরুমে খানিকটা ভিন্নতা এসেছে। আপনি তো হাথুরুসিংহের সময়টা কাছ থেকে দেখেছেন, এখন বলতে গেলে আপনি অঘোষিত কোচের ভূমিকায় আছেন। তো দুইটা সময়ের পার্থক্যকে আপনি কিভাবে দেখেন?

– এটা আসলে ক্রিকেটাররাই ভালো বলতে পারবে। কিন্তু আমি যেটা মনে করি, ড্রেসিংরুম এখন অনেকটা আত্মবিশ্বাসী। নিজেদের মধ্যে পরামর্শগুলো ভালো হয়। আমরা চেষ্টা করি সবকিছুতেই ক্রিকেটারদেরকে ইনভলভড রাখতে। তাদেরকে আমরা সেই দায়িত্বটা দিয়েছি। ড্রেসিংরুম একই আছে, বাংলাদেশ দলে খুব একটা পরিবর্তন হয় না। হয়তোবা স্বাধীনতার কথা যেটা বলা হয়েছে, সেই জিনিসটা হয়তো একটু বেশি আছে।

হাতুরুসিংহে প্রসঙ্গ তো সিরিজের আগে বা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের আগেও বারবার এসেছে। তো প্রথম দেখায় তাদেরকে রেকর্ড ব্যবধানে হারানোর পর কি মনে হয় যে হাতুরুসিংহে প্রসঙ্গ চাপা পড়বে?

– আমি আসলে হাতুরুসিংহের ব্যাপারটাই আনতে চাই নাই বাংলাদেশ দলের মধ্যে। আমি মনে করি, যে চলে গেছে তাকে নিয়ে আলাপ করাটাই বোকামি। কারণ, উনি প্রফেশনাল, উনি উনার মতো ডিসিশন নিয়েছেন। উনি দায়িত্ব নেয়ার পর হয়তো তার প্রথম অ্যাসাইনমেন্টটা বাংলাদেশে পড়েছে। তাই কথা বেশি হয়েছে। কিন্তু আমাদের মাথায় কেবল দল কিভাবে আরও সামনে যাবে সেই চিন্তাই ছিল। আমরা যাতে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, আমরা আমাদের শক্তি ও দূর্বলতা নিয়ে অনেক কাজ করেছি। আমি আগেও বলেছি, আমাদের ফাস্ট বোলিং নিয়ে আমরা অনেক কাজ করেছি। আমাদের সিনিয়র ক্রিকেটাররা গত কয়েক বছর ধরে টানা পারফর্ম করে যাচ্ছে। আমাদের তরুণ ক্রিকেটাররাও যদি সিনিয়রদের সাথে মিলে পারফর্ম করা শুরু করে, তাহলে আমার মনে হয়, আমরা একটা সময় অপরাজেয় হতে পারবো। তো ওইটাই আসলে, চন্ডিকার ব্যাপারটা আমাদের মাথায় আসেনি খুব একটা। খেলোয়াড়রাও এটা নিয়ে বেশি আলোচনা করতে চায়নি। কারণ দিনশেষে, এটা ক্রিকেট খেলা। আমরা যার বিপক্ষেই খেলি, আমাদেরকে নিজেদের পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগাতে হবে। যতোই ভালো পরিকল্পনা করি, কাজে না লাগাতে পারলে আমরা জিততে পারবো না। তো আমরা ভাগ্যবান যে শেষ দুই ম্যাচে আমরা বেশ ভালোভাবেই পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগাতে পেরেছি। এ কারণেই হয়তো আমরা রেকর্ড ব্যবধানে জিততে পেরেছি।

দুইটা ম্যাচ তো আমরা জিতে গেলাম, বোনাস পয়েন্টও পেয়ে গেলাম। ফাইনালের দৌড়ে আমরা অনেকটাই এগিয়ে। এরকম সময়ে তো অন্য অনেক দলই একাদশের বাইরের ক্রিকেটারদের নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করে, একাদশে পরিবর্তন আনে। বাংলাদেশের পরের যে ম্যাচগুলো আছে, সেগুলোতে আপনারাও কি এরকম করবেন, নাকি উইনিং কম্বিনেশন ধরে রাখবেন?

– জয়টা একটা অভ্যাস। জয়ের থেকে দূরে সরে গেলেই সমস্যা। আমরা এই দল নিয়েও হারতে পারি, সেরা একাদশ নিয়েও হারতে পারি। হয়তো কিছু টেকটিক্যাল চেঞ্জ থাকবে, সেটা অন্য ব্যাপার। কিন্তু উইনিং কম্বিনেশন ধরে রাখাটা ইম্পর্ট্যান্ট। আমরা কিন্তু এখনো ফাইনাল জিতি নাই। ফাইনাল জেতাটাই ইম্পর্ট্যান্ট আসলে। আমরা দুইটা ম্যাচ দারুণভাবে জিতেছি, ভালো একটা অবস্থানে আছি। আমরা এই জয়ের ধারাটা ধরে রাখতে চাই।

দল যখন জয় পায়, তখন অনেক ছোট ছোট ভুল এড়িয়ে যাওয়া হয়। প্রথম দুই ম্যাচের পারফরম্যান্সে কি মনে হয়েছে যে কোন জায়গায় আরও উন্নতি দরকার?

– অবশ্যই, আরও উন্নতি দরকার। আমরা এটা এড়িয়ে যাই না। আমরা সেটাকে ধরে রাখার চেষ্টা করি। আমরা সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করবো ইনশাল্লাহ। যেগুলোতে আরও ভালো করা যায়, আমরা সেগুলো নিয়ে কথা বলি। আমাদের এই দলটার আরও ভালো করার সুযোগ আছে। প্রথম ম্যাচে আমার মনে হয়েছে আমরা এক্সট্রা বেশি দিয়েছি। গত ম্যাচে এটা হয়নি, এইটা পজিটিভ দিক। ছোটখাটো ভুলগুলো না করলে আমরা আরও শক্তিশালী একটা দল হবো।

https://www.mega888cuci.com