ছোঁয়া পরিবহন থেকে রেইনট্রি হোটেল…

একটা বাসে নারী-পুরুষ-শিশু কত যাত্রীই থাকে। বাসের ড্রাইভার-কর্মচারীরা লোক উঠায়-নামায়। এটাই তাদের কাজ। এটাই তাদের সেবা। বিনিময়ে তারা বেতন পায়। এভাবেই তারা সকাল সন্ধ্যা, কখনোবা রাত পার করে। কাজশেষে যে-যার গৃহে চলে যায়।

কেউ স্ত্রী-সন্তানের কাছে, কেউ মা-ভাই-বোনদের কাছে। অন্য পাঁচটা মানুষের মতোই তারা খেটে খাওয়া বা পরিশ্রমী মানুষ। মানুষকে নিয়ম করে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া কম পুণ্যের কাজ নয়। যেমন করে কৃষক অন্যের জন্য ফসল ফলায়, শ্রমিক অন্যের জন্য উৎপাদন করে। কিংবা শিক্ষক অন্যকে জ্ঞানের সূত্র ধরিয়ে দেয়। ব্যবসায়ী অন্যের জন্যই প্রয়োজনীয় দ্রব্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দেয় বা দোকানে পসরা সাজায়।

বাসের কর্মচারীর কাজ কম পুণ্যের নয়।

কিন্তু একদিন তারা ভিন্ন মানুষ হয়ে যেতে পারে। একে একে যাত্রীরা নেমে গেলে, হয়তো শেষ যাত্রী কোনো মেয়ে, কোনো তরুণী। আর কেউ নেই বাসে, মেয়েটি এবং বাসের কর্মচারীরা। সময় সন্ধ্যা কিংবা রাত। বাস একটা পরিসর, দেয়ালঘেরা পরিসর। এবার সেই খেটেখাওয়া পুণ্যবান সাধারণ কর্মচারীরাই পুরুষরূপে আবির্ভূত হয়।

তাদের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা ধর্ষক সত্তা জেগে ওঠে। কর্মচারী চার বা পাঁচজনের একইসাথে এই রূপান্তর ঘটে। তারা কেবল চোখাচোখি করে নেয় একবার। তারা মানুষ থেকে দানবে রূপান্তরিত হয়। তারা মেয়েটিকে গণধর্ষণ করে। তারা যেমন যৌথভাবে যাত্রীব্যবস্থাপনা করে, তেমনি যৌথভাবে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। পরে অনায়াসে তাকে হত্যাও করে। ফেলে দেয় রাস্তার পাশের জঙ্গলে।

ছোঁয়া পরিবহন থেকে রেইনট্রি হোটেল, প্রত্যেক স্থানেই ধর্ষকের চলাচল। তাদের বেশবাশ মানুষের, কিন্তু যেকোনো সামান্য অনুকূল পরিবেশ জুটে গেলে তারা ধর্ষকে রূপান্তরিত হয়।

কিছু মানুষ অবশ্য অনূকূল পরিবেশ পেলেও দণ্ডায়মান ধর্ষক সত্তাকে নিরস্ত্র করতে সমর্থ হয়। আমরা তাদের মানুষ বলি।

কিন্তু প্রত্যেক পুরুষমানুষই সম্ভাব্য ধর্ষক। তার খেটেখাওয়া পুণ্যবান সত্তা সবসময়ই ধর্ষক সত্তায় রূপান্তরিত হবার ঝুঁকিতে থাকে।

সভ্য মানুষের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো সেই ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে পারা।

https://www.mega888cuci.com