গেম অব থ্রোন্স: এবার কী অপেক্ষা করছে?

গেম অব থ্রোন্স – বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত দর্শকপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজগুলোর মধ্যে অন্যতম। টেলিভিশন চ্যানেল এইচবিওতে সম্প্রতি প্রচারিত হল এর সপ্তম সিজনের প্রথম পর্ব ‘ড্রাগনস্টোন’। সেই সাথে বিশ্বজুড়ে গেইম অফ থ্রোন্স ফ্যানরাও মেতে উঠেছে নানান রকম আলোচনা, সমালোচনা ও ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে।

যথারীতি সেই উত্তেজনার হাওয়া লেগেছে এই দেশের দর্শকদের ওপর। তাই তো অলিগলি.কমের পাঠকদের সাথে এই উত্তেজনা ভাগ করে নিতে এবারের আয়োজনে থাকছে ‘গেইম অফ থ্রোন্স’ এর সপ্তম সিজনের প্রথম পর্ব ‘ড্রাগনস্টোন এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য, মতামত এবং এর উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে কী কী ঘটতে পারে সেই সম্পর্কে সামান্য ভবিষ্যদ্বাণী।

জীবন্ত ওয়াল্ডার ফ্রে

সিজন ৬ এর শেষ পর্বের দর্শকপ্রিয় দৃশ্যগুলোর অন্যতম ছিল আরিয়ার ওয়াল্ডার ফ্রে কে মেরে ফেলার দৃশ্য।

কিন্তু সপ্তম সিজনের শুরুই হয় ওয়াল্ডার ফ্রে কে দিয়ে। প্রথমেই দর্শকদের ধাঁধায় ফেলে দেয় দৃশ্যটি। কেউ ভেবেছেন ফ্ল্যাশব্যাক, আবার কেউ কেউ বুঝতে পেরেছিলেন এটি আরিয়া। ‘ফেসলেস ম্যান’ খ্যাত জ্যাকেন হ্যাগার এর শেখানো কৌশল কে কাজে লাগিয়েই আরিয়া প্রতিশোধ নেয় ‘রেড ওয়েডিং’ এর। যেখানে হাউজ ফ্রে গণহত্যা চালিয়াছিল হাউজ স্টার্ক এবং তাদের ব্যানারমেন্ট এর অনেক হাউজ কে। সপ্তম সিজনের শুরুতেই আরিয়া হাউজ ফ্রে এর বাকি সৈন্য এবং সমর্থক দের হত্যা করে হিসাব সমান করে।

যদিও জন স্নো কে নর্থের রাজা ঘোষণার সময় বলা হয়েছে জন স্নো রেড ওয়েডিং এর প্রতিশোধকারী। তবে সত্যিকার অর্থে আরিয়া স্টার্কই তার মা ও বড় ভাই রবের মৃত্যু প্রতশোধ কড়ায় গণ্ডায় নিয়েছে। অপেক্ষা করে আছি তার লিস্টে এরপর কোন নাম কাটা যায় তার জন্য।

ওপেনিং ক্রেডিটস

গেইম অফ থ্রোন্সের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হল এর ওপেনিং ক্রেডিট। বরাবরই সিরিজের বিভিন্ন কাহিনীর আদলে ওপেনিং ক্রেডিটস এ নানা বদল আসে। কিছু হাউজের রাজত্ব পালটায়, কিছু জায়গা যোগ হয়। এবার প্রথম পর্বেই যোগ হয়েছে ‘সিটাডেল’ যেখান স্যাম বর্তমানে ‘মায়েস্টার’ হওয়ার জন্য ট্রেইনিং এ রয়েছে !

যদিও ট্রেইনিং এর ধরণ একবারেই দেখার যোগ্য নয়! যারা দেখেছে তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কথাটা কেন বলা!

ওপেনিং ক্রেডিটস নিয়ে কারো কারো সামান্য জিজ্ঞাসা ছিল কেন সার্সি অফ হাউজ ল্যানিস্টার কে সেভেন কিংডমস এর রাণী ঘোষণা করা হলেও কিংস ল্যান্ডিং এ হাউজ বারাথিয়ন এর সিজিল ছিল। এর কারণ হল রাজকীয় পরিবারের মেয়েদের বিয়ের পর তাদের হাউজের পরিবর্তন হয়না। তাই সার্সি কে সার্সি অব হাউজ ল্যানিস্টার বলা হয়েছে। তবে সার্সির সন্তানেরা মারা যাওয়ায় বিবাহসূত্রেই সে রানী হয়েছে। অর্থাৎ সে এখনও হাউজ বারাথিয়ন কেই প্রতিনিধিত্ব করছে।

আর্মি অব দ্যা ডেড

এই পর্বের অসাধারণ একটি দৃশ্য ছিল শত শত হোয়াইট ওয়াকার এর হেটে আসা। জন স্নো বলেছিল তারা যখন আসবে ঝড় চলে যাওয়ার অপেক্ষা করবে না, ঝড় সাথে নিয়েই আসবে। সত্যিকার অর্থেই তারা ঝড় তৈরি করেই আসছে। সেই ঝড়ে কে টিকবে, কে টিকবে না সেটিরই দেখার বিষয়। এই দৃশ্যে দেখা গেছে জায়ান্ট হোয়াইট ওয়াকার।

বলা হয়েছিল সব জায়ান্ট কে এর আগের সিজনগুলোতে মেরে ফেলার প্রধান কারণ জায়ান্টগুলোর এডিটিং, মুভমেন্ট, চিত্রায়ণ সবই অত্যন্ত কষ্ট ও খরচ সাপেক্ষ। তবে গেইম অফ থ্রোন্স সেই প্রতিকূলতা ছাপিয়ে এই সিজনের প্রথম পর্বেই নিয়ে এসেছে আরও দুইটি বিশালাকার জায়ান্ট কিন্তু এবার হোয়াইট ওয়াকার হিসেবে। একইসাথে ফ্যানদের মনে আশা জাগিয়ে তুলেছে হোডরকেও হয়তো পরবর্তীতে দেখা যেতে পারে হোয়াইট ওয়াকার হিসেবে। কেনই বা নয়? এখানে যে সবই সম্ভব।

ইউরন গ্রেজয়ের উপহার

এই সিজনের শুরুর আগে কেউ কেউ বলেছিলেন এইরন গ্রেজয় এই সিজনের মূল খলনায়ক হতে যাচ্ছে যিনি রামজি বোল্টন কেই ছাড়িয়ে যাবেন। সেটা কতটুকু পারেন তা সময়ই বলে দেবে তবে প্রথম পর্বে তার চরিত্রে নিষ্ঠুরতার চাইতে কমেডি ভাবটিই প্রাধান্য পেয়েছিল। তবে জেইমির সাথে ইউরনের সার্সি কে নিয়ে যে ঠান্ডা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে প্রথম পর্বেই তা অত্যন্ত বিনোদনদায়ক।

সার্সির কাছে নিজের জাহাজ এবং বিয়ের প্রস্তাব রাখার পর সার্সি তা নাকচ করে দিলে ইউরন প্রতিজ্ঞা করে সার্সির জন্য সে আনুগত্যের প্রতীক স্বরূপ এমন এক উপহার নিয়ে আসবে যেন সার্সি রাজি হয়। আপাত দৃষ্টিতে উপহারটি ড্যানেরিস এর কোন ড্রাগন বা টিরিওয়ন এর মৃত্যু হতে পারে বলেই মনে হচ্ছে।

এড শিরানের ক্যামিও

বিখ্যাত গায়ক এড শিরান হঠাত গেইম অফ থ্রোনসের পর্দায় এসে চমকে দেন তার এবং গেইম অফ থ্রোনস ফ্যানদের। তার তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল না যদিও। একটি গানের চার লাইন গেয়েছেন শুধু এছাড়া তেমন কোন সংলাপও ছিল না ! যদিও তিনি যখন এসেছিলেনই তখন সামান্য ড্রামা তাকে ঘিরে রাখাই যেত। আমার মত আর কে কে ভেবেছিলেন হয়ত আরিয়া বা অন্য কারো হাতে মৃত্যু হতে পারে তার পর্দায়?

গেইম অফ থ্রোন্স বলে কথা ! তবে এই পর্বের শেষ পর্যন্ত যেহেতু এড শিরান ও ল্যানিস্টার আর্মি দলের সাথে আরিয়া ছিল, দ্বিতীয় পর্বে তিনি ফিরবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। ফিরলে আরেকটু বেশি অভিনয়, আরেকটু ড্রামা আমরা আশা করতেই পারি।

তবে খালি চোখে অনাড়ম্বর এই দৃশ্যটির মাঝেও যারা গেইম অফ থ্রোনস এর বই পড়েছেন তারা নিশ্চয়ই চিনতে পেরেছেন এড এর গাওয়া গানটির কথা গুলো। গানটির কথা বই এর একটি অংশ ছিল যেখানে টিরিয়ন যখন শে কে কিংস ল্যান্ডিং এ লিয়ে আসে তখনকার এক গায়ক জফরির রয়্যাল ওয়েডিং এ গান গাওয়ার আবদার রাখে টিরিয়নের কাছে এবং সে টিরিয়ন ও শে এর সম্পর্ক নিয়ে গানটি লিখেছিল। সেটি আগে সিরিজের অন্তর্ভুক্ত না করলেও এই দৃশ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ড্রাগনস্টোন

পর্বের সব থেকে শেষে এই পর্বের নামকরণের মূল কারণ দেখানো হয়। ড্যানেরিস প্রত্যাবর্তন করে তার জন্মস্থান ‘ড্রাগনস্টোন’-এ। স্ট্যানিস বারাথিয়নের যুদ্ধে পরাজয় এবং মৃত্যুর পর জায়গাটি খালিই ছিল। তবে জেইমি সার্সিকে জানানোর পরও যে ড্যানেরিস ড্রাগনস্টোনেই আসবে, কেন সার্সি কোন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করল না তা দেখে একটু অবাকই হয়েছি। তবে স্ট্যানিসের প্ল্যানিং রুমে খালিসির প্ল্যানিং শুরু করার দৃশ্যটি সত্যিই অসাধারণ এবং প্রথম পর্বের প্রধান দৃশ্যই বলা যায়।

———-

এগুলো ছাড়াও বেশকিছু ছোট ছোট টিজার ছিল এই পর্বে। যেমন –

– স্যামের লাইব্রেরির সংরক্ষিত জায়গা থেকে চুরি করা বইয়ের পাতায় দেখা যায় যেই ছুরি দিয়ে ব্র্যান কে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল তার একটি ছবি। তবে ছুরিটি সর্বশেষ দেখা যায় নেড স্টার্কের কাছে প্রথম সিজনের চতুর্থ এপিসোডে। বর্তমানে এটি কার অধীনে আছে তা বলা মুশকিল।

– স্যান্ডর ক্লিগেন এর কবর খুঁড়ার দৃশ্যটি ছিল বই-পাঠকদের জন্য আরেকটি টিজার। কারণ বই অনুযায়ী স্যান্ডর ক্লিগেন কবর খোঁড়ার কাজ করে আত্মগোপনে থাকতেন।

– স্যামের ভ্যালিরিয়ান স্টিলের খনির খোঁজ পাওয়া যা ড্রাগনস্টোনে অবস্থিত।

– আরিয়ার পরবর্তী গন্তব্য কিং ল্যান্ডিং।

– হাউন্ডের আগুনে ভবিষ্যত দেখতে পাওয়া।

– ব্র্যান এর ওয়ালে পৌঁছানো।

– জোরাহ মরমন্ট এর স্টোনম্যান এর রুপ। যেহেতু সে এখন সিটাডেল এ আমার মনে হয় হয়ত স্যাম তাকে প্রতিকার খুঁজতে সহায়তা করতে পারে।

অনেকের মতে এই পর্বে টুইস্ট একটু কম ছিল এবং অনেক বেশি এক্সপেকটেশনের কারণে কারও কারও কাছে পানসেও লেগেছে। তবে আমার মনে হয় সম্পূর্ণ সিজনের সমস্ত ঘটনা ছোট ছোট করে এই পর্ব থেকে শুরু হয়েছে।

ড্যানেরিস আর সার্সির যুদ্ধ, আরিয়া, জন স্নোর কিংস ল্যান্ডিং এ ভ্রমণ, সানসার বেইলিশ কে হাতে রাখা, সার্সির ইউরনের প্রস্তাবে রাজি না হয়েও তাকে দিয়ে নিজের লাভ করিয়ে নেয়া , হোয়াইট ওয়াকারদের এগিয়ে আসা ইত্যাদি।

তবে এই পর্বে ব্র্যান কে কম দেখা গেছে। এখন পরবর্তী পর্বে কি হয় তার জন্যই অপেক্ষা।

– হাফিংটন পোস্ট অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com