গুগল ম্যাপে পাওয়া ‘বিতর্ক’

বাস স্টপেজে নেমে সোজা যাবে, কিছুদূর এগোতেই ডানে একটা গলি পড়বে, যাবে না। আরেকটু এগোলে বায়ে আরেকটা রাস্তা দেখবে। সেদিকেও যাবে না। তারপর….

রাস্তা বলে বলে ঠিকানা বর্ণনা অতীত হয়েছে বেশ কিছুকাল হলো। গন্তব্যে পৌঁছতে এখন আর রাস্তায় রাস্তায় হন্যে হয়ে ঘুরতে হয় না, স্মার্টফোনের গুগল ম্যাপসে এক ক্লিকেই হন্যে হবার কাজটা হয়ে যাচ্ছে। সাহারা মরুভূমিকেও কখনো কখনো যে বাড়ির সামনে আঙিনা বলে বোধ হয়, তার মূলেও ওই গুগল ম্যাপস এপসটা। ভৌগোলিক যেকোনো তথ্য অনুসন্ধানের জন্য গুগল ম্যাপ সম্ভবত সবচেয়ে ব্যবহৃত এপস।

সে যাই হোক, গুগল ম্যাপস কি এবং কেন- তা নিয়ে নিরস প্রবন্ধ লেখাটা এই লেখার প্রতিপাদ্য নয়। তার চেয়ে বরং গুগল ম্যাপের বদৌলতে আলোচনায় আসা কিছু অদ্ভুতুড়ে জায়গার কথা বলা যাক। যা দেখার পর আপনি ‘এ তো অসম্ভব’ বলে চিৎকার করে উঠলেও উঠতে পারেন।

সম্প্রতি  গুগল ম্যাপে দেখতে পাওয়া ১৪ টি বিতর্কিত ছবি প্রকাশিত হয়ে, যা অন্য কোনো সাধারণ ব্যবহারকারী তার ব্যক্তিগত ডিভাইসে ধারণ করেছেন। কিছু ছবি বিজ্ঞান দ্বারা ব্যাখ্যা করা সম্ভব হলেও, বাকিগুলো এখনও রহস্যের জালে আটকা পড়ে আছে।

যদি আপনারও একটি কল্পনাবিলাসী কিংবা রহস্যপ্রিয় মন থাকে, তবে বাকি লেখাটা আপনারই জন্য। চলুন শুরু করি…

১৪. পাহাড়ের গায়ে কোকা-কোলার লোগো হাসে

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোকা-কোলা লোগোটি চিলির আরিকা শহরের কাছাকাছি একটি পর্বতের ঢালে অবস্থিত। ১৯৮৬ সালে কোকা-কোলা প্রতিষ্ঠার শততমবার্ষিকী উদযাপন করতে লোগোটি তৈরি করা হয়, যেখানে ৭০০০০ টি খালি কোকাকোলা বোতল ব্যবহৃত হয়।

১৩. পিরামিড ইন অ্যান্টার্কটিকা

পিরামিড নিয়ে মিশরীয়দের গর্ব করা দিন বোধহয় ফুরিয়ে এলো। কেননা, এন্টার্কটিকা মহাদেশেও তুষারের গায়ে পিরামিড গোছের কিছু একটা খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। যদিও, এই পিরামিড-আকৃতির কাঠামোটি অন্যকোনো প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন কিনা তা নিয়ে এখনও বিতর্ক বেশ উন্মুক্ত। এই কাঠামো প্রাচীন কোনো সভ্যতার নিদর্শন, এ তত্ত্বের সমর্থকেরা বিশ্বাস করেন যে, ঠিক এ কারণেই এন্টার্কটিকা নিয়ে তৃতীয় রেইচ-এর প্রবল আগ্রহ ছিলো। অন্যরা এই রহস্যময় পিরামিডকে আটলান্টিসের উত্তরসূরি বলেই বিশ্বাস করেন।

১২. স্কাইস্ক্র‍্যাপার্সের ক্রুজ জাহাজ

 ছবিটি দেখার পর কি মনে হচ্ছে? মনে হচ্ছে না, জাহাজের ক্যাপ্টেন একমুহূর্তের জন্য উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলেন এবং জলপথ ছেড়ে স্থলভাগে উঠে এসেছেন! আদতে, এই ভবনটি হংকংয়ের একটি শপিং সেন্টার। রাতে যখন সব বাতি জ্বলে ওঠে, সে মুহূর্তে স্থানটি দারুণ জাঁকালো দেখায়।

১১. দৈত্যর পদচিহ্ন

হ্যাম্পশায়ার কাউন্টির কাছাকাছি একটি ছোট গ্রামে দৈত্যের পায়ের ছাপ মতো এই অস্বাভাবিক ধাঁধা দেখা যায়। এটি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে জটিল ধাঁধা (৩৭৭ ফুট)।

১০. ছাদে বাঁধা গালিভার

এই জায়গাটি শিশুদের জন্য বানানো বিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুতুড়ে খেলার মাঠগুলোর একটি, যা স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় অবস্থিত। অনেকগুলো স্লাইড, গোপন রাস্তা এবং অভিভাবকদের জন্য একটি বিশাল বিস্তৃত বেঞ্চ নিয়ে তৈরি এই কাঠামো আসলে একটি বিনোদন কেন্দ্র।

৯. প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে

দুই প্রতিবেশীর মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয় ২০০৯ সালে। তাদের মধ্যে একজন প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য বেশ দারুণ এক আইডিয়া নিয়ে এসেছিলেন: তিনি জমিতে লিখে রাখেন ‘Ahole’ এবং তার প্রতিবেশীর বাড়ির দিকে তীরচিহ্ন দ্বারা নির্দেশ করে দেন।

৮. এলিয়েন বিড়াল

এই নিদর্শন প্রায় ৯০০০ বছরের পুরোনো। এক ধারণা অনুযায়ী, এটি একটি ঐশ্বরিক বিড়াল যা অন্য বিশ্ব থেকে এসেছে। এটি গ্রহের শুষ্কতম স্থান, আটাকামা মরুভূমিতে অবস্থিত, যে স্থান শতাব্দী ধরে একফোঁটা বৃষ্টি দেখা পাচ্ছে না।

৭. বিমানের বিশাল সংগ্রহ

বেলগ্রেড বিমানবন্দররের পাশে অবস্থিত বিমান সংস্থার মিউজিয়ামে বিভিন্ন ধরনের পুরানো ও নতুন প্লেন এবং অন্যান্য উড়োজাহাজ দেখতে পাওয়া যায়। এ জাদুঘরে দর্শনার্থীরা ঘুরে বেড়াতে পারেন এবং প্রতিটি বিমানের বিস্তারিত জানতে পারেন। জাদুঘরটিতে আমেরিকার ‘স্টিলথ’ যুদ্ধ বিমান এবং এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকনের টুকরো সহ ২০০-টিরও বেশি বিমান রয়েছে।

৬. লবণ কারখানা নয়, যেন শিল্পীর কারুকার্য

এটি নাইজারের একটি ছোট্ট গ্রাম যেখানে ৫০ টি পরিবার বাস করে। স্থানীয় জনগণের মূল জীবিকা হচ্ছে, কাদাভর্তি পুকুর থেকে লবণ উত্তোলন। প্রতিটি পুকুর পানিভর্তি এবং তার নিচে লবণ ধারণকারী বিশেষ মাটি রয়েছে। লবণ দানাগুলোকে অতঃপর পরিশোধন এবং ফিল্টার করা হয়। পানি বাষ্পীভূত হয়ে গেলে, লবণের স্ফটিকগুলি দেখতে পাওয়া যায়।

৫. সাইপ্রাসে তুর্কি পতাকা

তুর্কি প্রজাতন্ত্রের দৈত্যাকৃতির পতাকাটি কিরিনিয়া পর্বতমালার ঢালে (যা উত্তর সাইপ্রাসে অবস্থিত) আঁকা হয়েছে। আপনি পতাকাটির পাশে দেশটির স্লোগানও দেখতে পাবেন: ‘সে কতই না সুখী, যে বলে, আমি তুর্কি!’ যা তুর্কি প্রজাতন্ত্রের দশম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের দেয়া ভাষণের একটি উক্তি।

৪. এলিয়েনের মহাকাশযান

প্রথম দেখায় এটিকে এলিয়েনদের স্পেসশিপ বলেই মনে হয়। আসলে, এটি টেক্সাসে অবস্থিত একটি বাড়ি, স্থানীয়রা যাকে Futuro হাউস বলেই অভ্যস্ত। ফিনিশ স্থপতি ম্যাটি সুরনেন গত শতকের ষাটের দশকে এই ডিজাইন তৈরি করেছিলেন। একসময় এই স্থাপত্য নকশা খুব জনপ্রিয় ছিল এবং ভবিষ্যত প্রযুক্তির জন্য মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করতো। আজ, বিশ্বে কেবলমাত্র ৩০ টি futuro বাড়ি রয়েছে।

৩. দক্ষিণ আমেরিকা আর এন্টার্কটিকার ব্যবধায়ক

ছবিটি গুগল ম্যাপসের আরেকটি বিতর্কিত বিষয়। কয়েকজন বিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন, বিশাল উল্কাপিণ্ড পৃথিবীকে আঘাত করার কারণেই এ দুটি মহাদেশের বিচ্ছেদ ঘটেছে। ছবিটি দেখার পর কি তত্ত্বটি সত্য বলেই মনে হচ্ছে!

২. অস্ট্রেলিয়ার ভাসমান মানব

অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টের এই মজার ভাসমান ব্যক্তিকে মহাকাশ থেকেও দেখা যায়। প্রকৃতপক্ষে, এটি শিশুদের জন্য একটি সাধারণ ভাসমান খেয়ানৌকা, যা গোল্ডকোস্টের তীরে অবস্থিত একটি ছোট পার্কের অংশ।

১. দৈত্যাকৃতির কাঁকড়া

কেন্টের হোয়াইটস্টেলের তীরে চুপিচুপি হাঁটতে থাকা এই বিশাল কাঁকড়ার ছবিটি অনলাইনে শেয়ার করার সাথে সাথেই বেশ তড়িৎগতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিশাল কাঁকড়াটি আনুমানিক ৫০ ফুট প্রশস্ত বলে মনে করা হয় এবং কাঁকড়াটিকে ‘ক্র‍্যাবজিলা’ নাম দেয়া হয়।

অতিরিক্ত: মঙ্গল গ্রহে গুগলের গোপন আস্তানা

অসীম মরুর বুকে একটি স্পেসবেজ বানিয়ে গুগল তার ব্যবহারকারীদের বেশ এক ধাঁধায় ফেলেছিলো। কেউ কেউ বিশ্বাস করতেও শুরু করেছিলেন, আদতেই এটি মঙ্গল গ্রহের ভূমি যা ঘটনাক্রমে ক্যামেরা ধরা পড়ে যায়। তবে, যদি আপনি ভবনের ভেতরটায় ভালোমতো দেখেন, তবে আবিষ্কার করবেন, এটি গুগলের ডেটা সেন্টার ব্যতীত আর কিছুই নয়।

– গিগগ্যাগ.কম অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।