‘গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না’ ও মিনিমাম কাণ্ডজ্ঞানের অভাব

এইটিন প্লাস পুরান একটা জোক, প্রাসঙ্গিক বিধায় আবার বলি।

বড়লোকদের মহল্লায় এক ডাক্তার আছেন, যার ক্লায়েন্ট বেশিরভাগ ইংরেজি জানা লোক। ডাক্তারের কাছে যাইতে হইলে তো নিজের নাম, বয়স, লিঙ্গপরিচয় ইত্যাদি লেইখা নিবন্ধন করতে হয়। তো, কিছু নারী পেশেন্ট সেই নিবন্ধনের ফর্ম লেখতে গিয়া প্রায়ই কনফিউজ হইয়া থাকেন।

নির্ধারিত ফর্মে নিজ নিজ নাম লেখেন পেশেন্টরা। বয়সের জায়গায় যে যার মতো দুই চাইর বছর কমায়া লেইখা দেন তারা। এরপরে আরেকটা ঘর থাকে, যেইখানে লেখা সেক্স।

সেইরকম এক কনফিউজ নারী সেক্স এর ঘরে লিখলেন, টোয়াইচ এ উইক। ডাক্তার সেইটা দেইখা যা বোঝার বুইঝা নিলেন।

বেশ কিছুক্ষন চিন্তা ভাবনা কইরা আরেকজন নারী তার ফর্মে লিখলেন, উইদাউট কনডম। ডাক্তার নিশ্চয়ই তার সমস্যাটা ভাল বুঝবেন।

অনেকক্ষণ কলম কামড়াইয়া সেই ডাক্তারের কাছে আসা এক রোগিনী লেখলেন, অনলি উইদ হাজব্যান্ড।

ডাক্তার নিশ্চয়ই বুঝতে পারলেন, তার সমস্যাটা কই!

অবশ্য, এইসকল নারীদের সমস্যাগুলা বুঝতে ডাক্তার হওয়া লাগে না। কাণ্ডজ্ঞান থাকলেই চলে, যেইটা আমাদের দেশের লোকেদের একটু কমই আছে। সরকারী জরিপে দেখা যায়, এই দেশে ৬৮% অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন লোক আছে, কিন্তু শব্দজ্ঞানসম্পন্ন, বাক্যজ্ঞানসম্পন্ন কিংবা কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন লোকেদের নিয়া কোন জরিপ নাই। এইরকম একটা জরিপও হওয়া দরকার।

‘সেক্স’ – একটা মেডিক্যাল টার্ম, যার অর্থ লিঙ্গ। অথচ আমাদের দেশের লোকেরা মনে করে সেক্স মানে ‘যৌনমিলন’। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের লোকেরা ‘sex’ শব্দটা সবচেয়ে বেশিবার সার্চ দিছেন। কেন দিছেন সেইটা বুঝতেও সমাজবিজ্ঞানী হওয়া লাগে না, কাণ্ডজ্ঞান থাকলেই চলে।

এইসকল লোকেরা এখন ‘গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না’ – এই বাক্যটার নানান অর্থ বের কইরা ফেলছেন। এই কথা না বোঝার কোন কারণ নাই যে, এই মুভমেন্ট বাসযাত্রী নারীদের নিরাপত্তামূলক মুভমেন্ট।

এই মুহুর্তে আমাদের দেশে কর্মজীবি নারীদের গণপরিবহনে অর্জিত নোংরা সব অভিজ্ঞতার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় আয়োজিত হইতেছে এই মুভমেন্ট। পারভার্ট লোকেরা সারা দুনিয়াতেই আছে, কিন্তু আমাদের দেশে এর সংখ্যাটা আশঙ্কাজনকই বলা যায়। ঢাকা শহরে প্রতিটা বাসে প্রতি মুহুর্তে দুই একজন পারভার্ট লোক যাতায়াত করেন। এই মুভমেন্ট তাঁদেরকে সতর্ক করার এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত মুভমেন্ট।

গার্মেন্টস কর্মীরা যাতায়াত করেন এমন বাসগুলার স্টপেজে সকাল সাতটার দিকে দাড়ায়া থাকলে দেখা যাবে, বাস কন্ট্রাকটার নারীদের বাসে উঠতে সাহায্য করার ভঙ্গিমায় স্পর্শকাতর অঙ্গে হাতায়া দেন। নিন্মবিত্ত এই নারীরা নিজেদের নিরুপায় ভাবেন এবং নিশ্চুপ থাকেন। মধ্যবিত্ত নারীদের মধ্যে কর্মজীবিরা অধিকাংশই গাড়ি কিনে ফেলছেন, যারা এখনো কিনতে পারেন নাই, তাদের বাধ্য হইয়া বাসে চলাফেরা করতে হইতেছে। এই নিম্ন-মধ্যবিত্ত নারীরাই গা ঘেষে দাঁড়ানোর বিরুদ্ধে মুভমেন্টের উদ্যোক্তা, যারা নিজেদেরকে নিরুপায় ভাবতে রাজি না।

নারীরা কখনো তার প্রেমিককে গা ঘেঁষে দাঁড়াতে মানা করেন না, বন্ধুকে করেন নাই, আত্মীয়কে করেন নাই, শুধু অপরিচিত স্পর্শেই তারা এই আপত্তি জানাইছেন; এইটা মিনিমাম কাণ্ডজ্ঞান থাকলেই বোঝার কথা।

কিন্তু লোকেরা কেন জানি তা বুঝতে রাজি হইতেছেন না। কেন তারা বুঝতে চান না, তাদের সমস্যাটা কোথায় – সেইটা বুঝতে কী ফ্রয়েড হইতে হবে?

https://www.mega888cuci.com