অনলাইনে গরু-ছাগলের হাঁট ও অনেকগুলো বলদ

মতলব আলী ইজি চেয়ারে কাত হয়ে শুয়ে আছেন। তার মাথায় একটা কমন মতলব ঘুরাফিরা করছে। তিনি চোখ বন্ধ করে শুয়ে শুয়ে নতুন মতলবটার কথা ভাবছেন!

: স্যার কি ঘুমিয়েছেন?

মতলব আলী তাকিয়ে দেখেলেন কাদের এসে দাঁড়িয়েছে। তার নতুন কর্মচারী। গাধা টাইপ একটা ছোকরা। বেতন কম দেয়া গেছে দেখে একে কাজে রেখেছেন মতলব আলী। কাজ অবশ্য তেমন কিছু না।

মতলব আলীর নতুন মতলব তিনি এবার একটা অনলাইন গরুর হাট দিয়েছেন। এই ছোকরা সেই অনলাইন গরুর হাটের পেইজটা চালাবে। কাস্টোমারদের পোস্টের জবাব দিবে।

মতলব আলী আবার চোখ বন্ধ করলেন। চোখ বন্ধ করেই বললেন, ‘জব্বার আসছে?

: জ্বি স্যার আসছে।

: কি করে সে?

: গরুর ছবি তোলে।

: ওরে আমার কাছে আসতে বলো।

জব্বার মতলব আলীর অনলাইন শপের ফটোগ্রাফার ও ডিজাইনার। বেশ কামেল ছেলে।

: স্যার আমারে ডাকছেন?

: হুমম…আমার সাথে আলাপ না করেই গরুর ছবি তুলতেছো ক্যান?

: ক্যামেরার আলসি ভাব কাটানোর লাইগা এমনে দুইটা ক্লিক মারছি স্যার! এখনো আসল ছবি তুলি নাই!

: ছবি ক্যামনে তুলবা বুঝেছো?

: একটু একটু বুঝতেছি স্যার। বাকিটা আপনি বুঝায় দ্যান! আপনি জ্ঞানী মানুষ!

মতলব আলী মনে মনে খুশি হলেন। এই ছেলেটার মধ্যে একটা ব্যাপার আছে। ভালো তেল দিতে পারে। এই ছেলে জীবনে অনেক উন্নতি করবে।

: শোন, গরু মাত্র ১৫টা! এই গরুরে ১০০ গরু বানাবা!

: কোন টেনশন নিয়েন না স্যার। ফটোশপে এইটা ওয়ান টুর ব্যাপার!

: কালার চেঞ্জ কইরা কইরা গরু বাড়াইবা। অাবার একই কালার রাইখো না কিন্তু!

: আপনি টেনশন নিয়েন না স্যার। আপনি কইলে ১৫টা গরুরে ২০০ গরু বানাইতে পারুম!

মতলব আলী আবারো খুশি হলেন। বড় কামেল ছেলে। দেশের রত্ন বলা যায়। জীবনে অনেক উন্নতি করবে।

: তারপর শোন, আগে জুম করে কয়টা ছবি তুলবা। তারপর ফটোশপে গরু মোটা তাজা করবা! সেই লে আউট গুলোতে গরুর দাম দিবা মাত্র ৬০,০০০।

: বলেন কি স্যার? মাত্র ৬০,০০০ টাকা!

মতলব আলী মুচকি হাসতে হাসতে বললেন,

: হুমমম মাত্র ৬০,০০০ টাকা! তবে উপরে ইংরেজিতে লেখবা SOLD OUT!

: সত্যিই স্যার, আপনি আসলে ভীনগ্রহের লোক! এমন চিপা আইডিয়া আর কারো মাথা থেকে আসবে না!

: কথা আরো অাছে! এরপর একই গরুর ছবি দূর থেকে তুলবা। সেই গুলার দাম দিবা ১ লাখ টাকা! উপরে ইংরেজিতে লেখবা AVAILABLE!

: বুঝে গেছি স্যার। অার বলা লাগবে না। কালই একই গরুগুলোর আরো জুম করে ছবি তুলবো! তারপর দাম লিখবো ২ লাখ!

মতলব আলী মনে মনে বেশ খুশি হলেন। সাক্ষাৎ রত্ন এই ছেলে! ক কইলেই কলা কলকাতা দুইটাই বোঝে!

: যাও কাদের কে ডাকো!

কাদের এসে দাঁড়ালো। মতলব আলী বিরক্ত হয়ে তার দিকে তাকালেন। গাধাটাকে আবার বুঝাতে হবে। কী যন্ত্রনা! কাজের সময় এইটা কখনই কাছে থাকে না।

মতলব আলী আবার শুরু থেকে বোঝাতে যাবেন, তার আগেই কাদের বললো,

: আর বলতে হবে না স্যার। আমি সব শুনেছি।

মতলব আলী এই প্রথম কাদেরের উপর খুশি হলেন।

: তাহলে যাও কাজ শুরু করো!

: কিন্তু স্যা্র আমার একটা প্রশ্ন।

: কী প্রশ্ন?

: দেশের মানুষ কী আমাদের অনলাইন শপ থেকে গরু কিনবে?

মতলব আলীর মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। তিনি দাঁত মুখ খিঁচিয়ে বললেন,

: কেন কিনবে না! দেশে অনেক বলদ আছে যারা অনলাইনে এসে কুরবানি দেয়ার জন্য ঠিকই ষাড় খুঁজবে!

https://www.mega888cuci.com