ক্রিকেট ইতিহাসের জঘন্যতম অধ্যায়

শেষ বলে দরকার ৭ রান। ব্যাটিংয়ে ‍নিউজিল্যান্ডের ব্রায়ান ম্যাকক্যাকনি। ছক্কা মারলে ম্যাচ টাইয়ে পরিনত হবে। বল হাতে ট্রেভর চ্যাপেল যখন দৌড় শুরু করবেন তখন বড়ভাই গ্রেগ চ্যাপেল ডাকলেন তাকে। গ্রেগ বললেন ‘বলটা কাঁধের নিচ থেকে গড়িয়ে মারো।’ ট্রেভর সেটাই করলেন। ম্যাকক্যাকনি কোনোমতে ডিফেন্সিভ খেলে রেগেমেগে ব্যাট ছুড়ে মারলেন।

১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮১। ওয়াল্ড সিরিজ কাপের ফাইনালে এমসিজিতে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি। সেদিন এমন এক ‘নেক্কারজনক’ ঘটনা ঘটল যেটা ক্রিকেট ইতিহাসে নজীর নাই। ‘আন্ডারআর্ম’ বোলিং।

ঘটনার শেষেই নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক জেফ হাওয়ার্থ প্রতিবাদ জানাতে মাঠের ভিতরে ছুটে এসেছিলেন। ইংলিশ ঘরোয়া ক্রিকেট সেসময় এই ‘আন্ডারআর্ম’ বোলিং নিষিদ্ধ থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটা স্বাভাবিকই ছিল।

এই ঘটনা নিয়ে জল ঘোলা কম হয়নি ক্রিকেট বিশ্বে। দেশ বিদেশ থেকে এটা নিয়ে ক্রিকেট বোদ্ধারা উঠেপড়ে লাগে যেটা নিয়ে রাজনৈতিকদেরও নাড়া দেয়। সেসময়ের নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী রবার্ট মলডুন বলেন ‘এটাই ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য অধ্যায়।’ অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম ফ্রেজার স্বয়ং গ্রেগ চ্যাপেলকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য। এছাড়াও চারিদিকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের পতাকা অর্ধনিমিত পর্যন্ত রাখা হয়। অকল্যান্ডে বিপুল সংখ্যক জনতা তাদের টিশার্টে ‘অজিস হ্যান অ্যান আন্ডারআর্ম প্রবলেম’ স্লোগানে মিছিল করেছিল। গ্যালারিতে প্ল্যাকার্ড ঝুলেছিল – ‘ইওর আন্ডারআর্ম স্টিংকস গ্রেগ!’

পরদিন পত্র পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল ব্যঙ্গাত্মক সব খবর। অস্ট্রেলিয়ার ‘অ্যাডিলেড অ্যাডভারটাইজার’ খবর ছেপেছিল ‘মৃত্যু : অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে শেষ বলে লজ্জায় মৃত্যুবরন করল। কাম অন অজি, কাম অন।’ কিংবদন্তী ক্রিকেটার স্যার ডন ব্র্যাডম্যানও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কথা বলেছিলেন সেদিন। ব্র্যাডম্যান বলেন ‘আমি অস্ট্রেলিয়ার এই জয়ে হতাশ।’

এখনকার নিউজিল্যান্ডের মত তখনকার নিউজিল্যান্ড এতটা শক্তিশালী ছিল না। তবে জেফ হাওয়ার্থ মনে করেন, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের রূপান্তরের পেছনে কিন্তু সেই আন্ডারআর্ম বোলিংয়ের বিতর্কিত ঘটনাই দায়ী।

আজ থেকে ৩৭ বছর আগের সেই ‘নেক্কারজনক’ ঘটনাটি ঘটিয়েছিলেন চ্যাপেল ভাইয়েরা। ওই ঘটনার সম্মুখে থাকা ব্যাটসম্যান ব্রায়ান ম্যাকক্যাকনি ঘটনার পরে বলেছিলেন ‘শেষ বলে আমার ছক্কা হাঁকানোর সম্ভাবনাই বেশি ছিল।’

১৯৯৭ সালে ট্রেভর চ্যাপেল ও ব্রায়ান ম্যাকক্যাকনি।

এই ঘটনার পর আইসিসি ‘আন্ডারআর্ম’ বোলিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সেই ঘটনার ‘খলনায়কদের’ একজন গ্রেগ চ্যাপেল এরপরও কিংবদন্তি। যদিও, তাঁর ছোট ভাই ট্রেভর চ্যাপেলের ক্যারিয়ার খুব বেশি এগোয়নি। বাংলাদেশের টেস্ট জমানায় একবার দলটিকে কোচিংও করিয়ে গেছেন। যদিও, সুনামের চেয়ে সেবারো দুর্নামই কুড়িয়েছেন বেশি!

https://www.mega888cuci.com