কে এই নাঈম হাসান?

২৩ মার্চ, ২০১৭। চারদিন বাদেই কক্সবাজারে ‍শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ছিল ইমার্জিং এশিয়া কাপ। হঠাৎ করেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে খেলার জন্য ডাক আসে মেহেদী হাসান মিরাজের। ব্যস, তখন ইমার্জিং কাপের দলে ডাক আসে নাঈম হাসানের।

এবার সেই নাঈম হাসান জাতীয় দলে সেই মিরাজের সাথে জুটি বাঁধার সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তাকে ডাকা হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য। এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের ১৪ জনের স্কোয়াডেও ছিলেন তিনি। তবে সেবার কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি তাঁর।

বাংলাদেশের ক্রিকেট দু’জন নাঈমকে পেয়েছে এর আগে। একজন হলেন নাঈম ইসলাম। তিনি ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফ স্পিন বোলিংও করে থাকেন। জাতীয় দলে খেলেছেন লম্বা সময়। কেউ কেউ তাকে ছক্কা নাঈম বলেও ডাকেন। আর দ্বিতীয়জন হলেন নাঈম ইমলাম জুনিয়র। তিনি বাঁ-হাতি স্পিন করার পাশাপাশি ডানহাতে টুকটাক ব্যাটিংও করে থাকেন। তবে, কখনোই খেলেনই জাতীয় দলে।

এবার দৃশ্যপটে এলেন নাঈম হাসান। নাঈমের ক্রিকেটে হাতেখড়ি চট্টগ্রামে। নাঈমের বাবা পেশায় ব্যবসায়ী হলেও চট্টগ্রাম ফুটবলের পরিচিত মুখ মাহবুবুল আলম। পাঁচ বছর বয়স থেকেই বাবার সাথে মাঠে ক্রিকেট খেলা দেখতে যেতেন। আফতাব-নাফিস কিংবা তামিমদের দেখে ক্রিকেটার হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখতেন।

যদিও, পথটা তাঁর জন্য সহজ ছিল না। ২০১৩ সালে চট্টগ্রামের অনূর্ধ্ব-১৪ জেলা দলের হয়ে ভালো পারফরম্যান্সের পরও বিভাগীয় দলে সুযোগ পাননি। তবে, চেষ্টা আর ইচ্ছাশক্তিটা ধরে রেখেছিলেন। ২০১৫ সালে জেলা দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান (২০৬) ও সর্বোচ্চ উইকেট (১১) শিকারের পুরস্কার হিসেবে সুযোগ পান জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলে। সেখান থেকে অনূর্ধ্ব ১৯ দল।

এই অফ স্পিনারের প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে অভিষেক হয় জাতীয় ক্রিকেট লিগে, নিজের বিভাগ চট্টগ্রামের হয়ে, এই গতবছরই। এরপর জাতীয় লিগে ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলের হয়ে খেলেছেন। লিগে ভালো করার সুবাদে সুযোগ হয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলে।

বয়স মোটে ১৭। গতবছরই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) তাঁর অভিষেক। চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে খেলেছেন দুই ম্যাচ। এর আগে খেলেছেন অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপ। সেখানে স্বাগতিক মালয়েশিয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচে ১০ ওভার বল করে মাত্র আট রান দিয়ে নিয়েছিলেন পাঁচ উইকেট।

যুব দলের হয়ে সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডে খেলেছেন অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপও। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু তাঁকে দেখছেন ‘সারপ্রাইজ প্যাকেজ’ হিসেবে, ‘ও আমাদের স্কোয়াডের সারপ্রাইজ প্যাকেজ। বয়সভিত্তিক দল থেকেই ওকে আমরা দেখছি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ওর অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে আমাদের বিশ্বাস ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত।’।

সর্বশেষ জাতীয় ক্রিকেট লিগে ২৮ টি উইকেট নিয়ে তিনি হয়েছিলেন আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী। তবে, শীর্ষ পর্যায়ে ক্রিকেটে এখন তিনি নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পারেন, সেটা জানতে অপেক্ষা করার কোনো বিকল্প নেই।

তবে, আশার ব্যাপার হল দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রাম থেকে কোনো ক্রিকেটার জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন। সর্বশেষ পেয়েছিলেন তামিম ইকবাল!

https://www.mega888cuci.com